ঢাকা , সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দিনদুপুরে সশস্ত্র হামলা: ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি, মাসে ১০ লাখ’—চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব, লুট ৩৫ লাখ টাকা গাজীপুরে চোলাই মদ তৈরির কারখানার সন্ধান, ১,৫১০ লিটার মদ ও ‘ওয়াশ’ জব্দ বন্যায় সারা দেশে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ও ৮ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ, সর্বোচ্চ সহায়তা চট্টগ্রামে প্রাথমিকের পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে খেলাধুলা, মাঠবিহীন স্কুলে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে ওয়েস্ট টু এনার্জি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একাত্তরের বিতর্কিত ভূমিকার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতিতে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে প্রধানমন্ত্রী, উদ্ধার-ত্রাণ-পুনর্বাসনে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে, ঢাকামুখী রোগীর চাপ কমানো হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার: রাজধানীতে সক্রিয় শতাধিক চক্র, গ্রেফতারই কি সমাধান ওমরা ও ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানবপাচারের সিন্ডিকেট: অনুসন্ধানে বারী মোল্লাকে ঘিরে বিস্তর তথ্য, চলছে বিভাগীয় তদন্ত

ওমরা ও ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানবপাচারের সিন্ডিকেট: অনুসন্ধানে বারী মোল্লাকে ঘিরে বিস্তর তথ্য, চলছে বিভাগীয় তদন্ত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ইং, সময়, রাত ১০:৩৮ মিনিট ছবি সংগৃহীত

ওমরা ও ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানবপাচারের সিন্ডিকেট: অনুসন্ধানে বারী মোল্লাকে ঘিরে বিস্তর তথ্য, চলছে বিভাগীয় তদন্ত

ওমরা ও ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানবপাচারের অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র জাল ও বৈধ ভিসার অপব্যবহার করে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। এসব যাত্রী পরে কাতার, মিসর বা সিরিয়া হয়ে নৌপথে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অ্যারোড্রাম অপারেটর আব্দুল বারী মোল্লা। অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে বেবিচক। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যেভাবে সামনে আসে বারী মোল্লার নাম

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর চার জন অবৈধ যাত্রীকে ইমিগ্রেশন পুলিশ অফলোড করার পর মানবপাচার চক্রের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। নজরদারিতে দেখা যায়, জালিয়াতির মাধ্যমে যাত্রী বিদেশে পাঠানোর একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, বিমানবন্দরে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বারী মোল্লা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং কয়েকটি এয়ারলাইন্সের অসাধু কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ জন, কোনো কোনো সময়ে আরও বেশি যাত্রী বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। গত বছরের ২১ অক্টোবর একদিনেই প্রায় ৩০ জনকে বিদেশে পাঠানোর তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের পাসপোর্ট, টিকিট ও কোড নম্বর আদান-প্রদান, ইমিগ্রেশন সমন্বয় এবং অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য তাদের হাতে এসেছে।

অভিযানে মোবাইল জব্দ

চলতি বছরের ৩০ মার্চ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে অভিযান চালায় এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স। পাঁচ জন বিদেশগমনেচ্ছু ব্যক্তিকে আটকের পর প্রায় ৯ ঘণ্টার অনুসন্ধানে চক্রটির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারী মোল্লা নিজের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি টাওয়ার ভবনের একটি ক্যান্টিনে লুকিয়ে রাখেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, জব্দ করা মোবাইল ফোনে ইমিগ্রেশন পুলিশ, ট্রাভেল এজেন্সি, কয়েকটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে পাসপোর্ট, টিকিট ও কোড নম্বর আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

ফের সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ

সূত্রগুলোর দাবি, ওই ঘটনার পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও বারী মোল্লা আবারও সক্রিয় হন। গত ৫ জুলাই জাল ভিসায় মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের একটি চেষ্টার ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে একই চক্র। বোর্ডিং পাস নেওয়ার পর গোয়েন্দা তৎপরতার খবর পেয়ে অনেকে পালিয়ে যান, পাঁচ জনকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এ ঘটনাতেও বারী মোল্লার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইমিগ্রেশন ও এয়ারলাইন্সের কিছু কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, যাত্রীদের কোড সরবরাহ এবং অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বারী মোল্লার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তিনি ঢাকা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের কয়েকটি মানবপাচার চক্রের বিমানবন্দর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইন্ডিগো, সৌদি এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, জাজিরা এয়ারওয়েজ ও সালাম এয়ারের কিছু কর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি। কোন সময়ে কীভাবে যাত্রী বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং অবৈধ লেনদেনের তথ্যও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, বারী মোল্লার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, বিমানবন্দর দিয়ে মানবপাচারের ঘটনা নতুন নয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, মানবপাচার রোধে সংস্থাটি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কোনো কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বিমানবন্দর ব্যবহার করে মানবপাচারের ঘটনা ঘটে, কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিপোর্ট হয়ে যাত্রী ফিরে আসেন। তবে যাত্রীদের কাগজপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। জেটিভি নিউজ বাংলা জানাচ্ছে, এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনদুপুরে সশস্ত্র হামলা: ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২ কোটি, মাসে ১০ লাখ’—চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব, লুট ৩৫ লাখ টাকা

ওমরা ও ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানবপাচারের সিন্ডিকেট: অনুসন্ধানে বারী মোল্লাকে ঘিরে বিস্তর তথ্য, চলছে বিভাগীয় তদন্ত

আপডেট সময় ১০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬ ইং, সময়, রাত ১০:৩৮ মিনিট ছবি সংগৃহীত

ওমরা ও ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানবপাচারের সিন্ডিকেট: অনুসন্ধানে বারী মোল্লাকে ঘিরে বিস্তর তথ্য, চলছে বিভাগীয় তদন্ত

ওমরা ও ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মানবপাচারের অন্যতম রুটে পরিণত হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র জাল ও বৈধ ভিসার অপব্যবহার করে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। এসব যাত্রী পরে কাতার, মিসর বা সিরিয়া হয়ে নৌপথে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অ্যারোড্রাম অপারেটর আব্দুল বারী মোল্লা। অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে বেবিচক। তবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যেভাবে সামনে আসে বারী মোল্লার নাম

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর চার জন অবৈধ যাত্রীকে ইমিগ্রেশন পুলিশ অফলোড করার পর মানবপাচার চক্রের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। নজরদারিতে দেখা যায়, জালিয়াতির মাধ্যমে যাত্রী বিদেশে পাঠানোর একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। সূত্রগুলোর দাবি, বিমানবন্দরে কর্মরত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বারী মোল্লা বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং কয়েকটি এয়ারলাইন্সের অসাধু কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি সপ্তাহে ১৫ থেকে ২০ জন, কোনো কোনো সময়ে আরও বেশি যাত্রী বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। গত বছরের ২১ অক্টোবর একদিনেই প্রায় ৩০ জনকে বিদেশে পাঠানোর তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের পাসপোর্ট, টিকিট ও কোড নম্বর আদান-প্রদান, ইমিগ্রেশন সমন্বয় এবং অর্থ লেনদেনের বিভিন্ন তথ্য তাদের হাতে এসেছে।

অভিযানে মোবাইল জব্দ

চলতি বছরের ৩০ মার্চ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে অভিযান চালায় এভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স। পাঁচ জন বিদেশগমনেচ্ছু ব্যক্তিকে আটকের পর প্রায় ৯ ঘণ্টার অনুসন্ধানে চক্রটির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বারী মোল্লা নিজের ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি টাওয়ার ভবনের একটি ক্যান্টিনে লুকিয়ে রাখেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য, জব্দ করা মোবাইল ফোনে ইমিগ্রেশন পুলিশ, ট্রাভেল এজেন্সি, কয়েকটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে পাসপোর্ট, টিকিট ও কোড নম্বর আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

ফের সক্রিয় হওয়ার অভিযোগ

সূত্রগুলোর দাবি, ওই ঘটনার পর কিছুদিন আড়ালে থাকলেও বারী মোল্লা আবারও সক্রিয় হন। গত ৫ জুলাই জাল ভিসায় মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের একটি চেষ্টার ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে একই চক্র। বোর্ডিং পাস নেওয়ার পর গোয়েন্দা তৎপরতার খবর পেয়ে অনেকে পালিয়ে যান, পাঁচ জনকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, এ ঘটনাতেও বারী মোল্লার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

ইমিগ্রেশন ও এয়ারলাইন্সের কিছু কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, যাত্রীদের কোড সরবরাহ এবং অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বারী মোল্লার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তিনি ঢাকা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের কয়েকটি মানবপাচার চক্রের বিমানবন্দর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইন্ডিগো, সৌদি এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, জাজিরা এয়ারওয়েজ ও সালাম এয়ারের কিছু কর্মীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি। কোন সময়ে কীভাবে যাত্রী বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং অবৈধ লেনদেনের তথ্যও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কী বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, বারী মোল্লার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, বিমানবন্দর দিয়ে মানবপাচারের ঘটনা নতুন নয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা জরুরি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইমিগ্রেশন পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, মানবপাচার রোধে সংস্থাটি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কোনো কর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বিমানবন্দর ব্যবহার করে মানবপাচারের ঘটনা ঘটে, কারণ বিভিন্ন দেশ থেকে ডিপোর্ট হয়ে যাত্রী ফিরে আসেন। তবে যাত্রীদের কাগজপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। জেটিভি নিউজ বাংলা জানাচ্ছে, এ ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....