জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০৬ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: বেলা ১২: ২৬ মিনিট।৭৩ বছরে পদার্পণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা-গবেষণায় নতুন অঙ্গীকার
দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আজ ৬ জুলাই ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৫৩ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২টি অনুষদের অধীনে ৫৯টি বিভাগ, ৬টি ইনস্টিটিউট এবং প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষা, গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ব্রিটিশ আমল থেকেই রাজশাহীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি উঠেছিল। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর পাকিস্তান সরকার দেশের সব কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার উদ্যোগ নিলে রাজশাহীতে স্যাডলার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে পূর্ববঙ্গ আইনসভায় ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৫৩’ পাস হয়। এরপর প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. ইতরাত হোসেন জুবেরীকে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে ৭টি বিভাগ, ১৬১ জন শিক্ষার্থী এবং মাত্র ৫ জন শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এই বিদ্যাপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যকণিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ১২টি অনুষদের অধীনে ৫৯টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউট পরিচালিত হচ্ছে। ৩০ হাজারেরও বেশি নিয়মিত শিক্ষার্থীর পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ১ হাজার ১৩০ জন শিক্ষক। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২ হাজার ২৭৯ জন। শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য বর্তমানে রয়েছে ১১টি ছাত্র হল ও ৬টি ছাত্রী হল, যেখানে মোট ৯ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক ডরমিটরি, যেখানে বর্তমানে ৩৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। পাশাপাশি ৭৭৬ জন শিক্ষার্থী উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। ক্যাম্পাসে বর্তমানে দুটি নতুন আবাসিক হল এবং একটি একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জনসংযোগ দফতর জানিয়েছে, সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। বেলা ১১টায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সাড়ে ১১টায় সিনেট ভবনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় স্টেডিয়ামে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সন্ধ্যা ৭টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণাকে আরও সহজ, আধুনিক ও কার্যকর করা। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের থিসিস পর্যায় থেকেই আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। আমরা সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের একটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।” জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে....

রাজশাহী প্রতিনিধি 




















