জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০১ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: মঙ্গলবার,সকাল ১০:১৯ মিনিট।ফেনীর মহিপালে জুলাই আন্দোলনের চার হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে শোন অ্যারেস্ট, শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তাদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ
ফেনীর মহিপালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতায় দায়ের করা পৃথক চারটি হত্যা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী-কে গ্রেফতার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে শুনানির সময় তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভবিষ্যতে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফেনী সদর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান পৃথক চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি আদালতে সরাসরি উপস্থিত না হয়ে পূর্বের আদালতের অনুমতি অনুযায়ী ভার্চুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, শুনানির সময় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একজন বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানা-য় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আদালত সূত্র জানায়, শাহী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার ইন্সপেক্টর মোজাম্মেল হোসেন, জাকির হোসেন শাকিব হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অলি আহাদ, ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এবং সরোয়ার জাহান মাসুদ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন আদালতে উপস্থিত থেকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন ও মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উত্তেজিত হয়ে বলেন, “এখন ক্ষমতা আছে, গ্রেফতার দেখান। আমরাও এটার শেষ দেখে নেবো।” আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়ার দাবি, এই বক্তব্য তদন্তকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হুমকিস্বরূপ ছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আদালত দ্রুত চারটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে ভার্চুয়াল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতে আরও বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও আদালত দ্রুত কার্যক্রম শেষ করায় সে সুযোগ পাওয়া যায়নি। শাহী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, চারটি মামলার শুনানি শেষে আদালত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, চারজন তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং শুনানির সময় আসামি কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন। ইসতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, আদালতে কিছু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা থানায় জিডির বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, চারটি হত্যা মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বক্তব্য শেষে আদালত তাকে চার মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন। শুনানিতে আসামি ভার্চুয়ালি অংশ নেন। এদিকে থানায় জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজীম বলেন, “বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।” উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফেনীর মহিপালে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলার প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার মামলায় গ্রেফতার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর আদেশ দেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি 











