জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়: বেলা ০২:০৯ মিনিট।চবি শাহজালাল হলে ছাত্রদল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ২; প্রক্টরিয়াল বডি ও সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত প্রায় ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শাহজালাল হলের সামনে দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় বড় পর্দায় ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে। সেখানে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশান ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসেন। এ বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ইফতেখার দিশানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। সোমবারের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতে শাহজালাল হলের সামনে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুনের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা শাহজালাল হলে আশ্রয় নেন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় হলে অবস্থানরত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমানকে মোবাইল ফোনে কল করে তাদের উদ্ধারের অনুরোধ জানান। পরে উলফাতুর রহমান মোটরসাইকেলে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই শিক্ষার্থীকে সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের একাধিক নেতা উলফাতুর রহমানকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরে তিনি শাহজালাল হলের সামনে পৌঁছালে তার ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তাদের লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদেরও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সোমবার রাতে ইফতেখার দিশান ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে ধূমপান করছিলেন। তিনি এতে বাধা দেওয়ায় দিশান ক্ষুব্ধ হন। এরই জেরে মঙ্গলবার রাতে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা চালান। তিনি দাবি করেন, "আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি কাউকে মারধর করিনি।" তবে ধূমপানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইফতেখার দিশান। তিনি বলেন, "সোমবার রাতে কোনও কারণ ছাড়াই মামুন আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধরও করা হয়েছে।" দিশান আরও বলেন, "মঙ্গলবার রাতে শাহজালাল হলের সামনে আবারও তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে রূপ নেয়।" অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান বলেন, "একজন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য শাহজালাল হল থেকে মেডিক্যালে নিয়ে গিয়েছিলাম। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন আমাকে শাহজালাল হলের সামনে ডেকে নিয়ে গলা চেপে ধরে মারধর করে। আমি কোনও অপরাধ করিনি। কোনও কারণ ছাড়াই আমার ওপর হামলা হয়েছে। তারা আমার মোটরসাইকেলের চাবিও নিয়ে গেছে।" সংঘর্ষে আহত আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রথমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপরদিকে উলফাতুর রহমানকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী জানান, "আল মামুনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং মাথা ফুলে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।" ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, "খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতবিরোধ থেকেই দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উভয় পক্ষকে আলোচনায় ডাকা হবে।" এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....

চট্রগ্রাম প্রতিনিধি 











