জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬ ইং,সময় সকাল ১১:৫৪ মিনিট।আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসে ঘুষের সিন্ডিকেটের অভিযোগ, নামজারি থেকে মিসকেস—সবখানেই টাকার খেলা; অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় অবস্থিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় যেন ঘুষ ও দুর্নীতির কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। জমির নামজারি, খারিজ, জমাভাগসহ বিভিন্ন ভূমি-সেবা নিতে গিয়ে চরম হয়রানি ও ঘুষের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রম পরিচালনায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পেশকার রইস। জেটিভি নিউজ বাংলার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসের ঘুষ বাণিজ্যের ভয়ংকর সব তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসের কর্মকর্তা রইসের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দিনভর আদায়কৃত ঘুষের টাকা কয়েকটি হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এসিল্যান্ড অফিসে কোনো ধরনের সেবা পাওয়া যায় না। সিন্ডিকেটটি এতটাই বেপরোয়া যে, সেবাগ্রহীতারা দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও ঘুষ না দিলে তাদের কোনো কাজ এগোয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, আগে এসিল্যান্ড অফিসে ভালো সেবা পাওয়া গেলেও বর্তমানে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। যাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের ভালো পরিচয় রয়েছে, তাদের কাজ আগে করা হয়। এছাড়া যারা বেশি টাকা দেন, তাদের ফাইল বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়। নাবিল নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, একটি রিপোর্টের জন্য এসিল্যান্ড অফিসে গেলে পেশকার রইস তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে তিনি আবার আসবেন বলে সেখান থেকে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি পেশকার রইস। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এসিল্যান্ডের কাছে ফাইল ও টাকা নিয়ে গেলে তাতে স্বাক্ষর করা হয় এবং পরে আদায়কৃত অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। সবচেয়ে বেশি ঘুষের লেনদেন হয় মিসকেস সংক্রান্ত ফাইল থেকে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি মিসকেস ফাইল কয়েকটি টেবিল ঘুরতে ঘুরতে সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ঘুষ দেন। এছাড়া ‘খ’ তালিকাভুক্ত ফাইল থেকেও বড় অঙ্কের ঘুষ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সুমন নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, একটি কাজের জন্য এসিল্যান্ড অফিসে গেলে একজন কর্মকর্তা তাকে বসতে বলেন। পরে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং কাজটি করে দিতে দুই লাখ টাকা লাগবে। তিনি টাকা কমানোর অনুরোধ করলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমার কিছুই থাকবে না, সব এসিল্যান্ড স্যারকে দিতে হবে।” স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একাধিকবার এ অফিসের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কিছুদিন পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। সোহানুর রহমান নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এসিল্যান্ড অফিসে ঘুরেও তিনি তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। তার ভাষ্য, কাজের জন্য অফিসের এক কর্মকর্তা সরাসরি ঘুষ দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, পেশকার রইস দীর্ঘদিন ধরে এই অফিসে কর্মরত থাকলেও সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। সাধারণ ও সহজ-সরল আচরণের আড়ালে তিনি বছরের পর বছর নানা অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি কার্যালয়ে সর্বোচ্চ তিন বছর কর্মরত থাকার বিধান থাকলেও পেশকার রইস দীর্ঘদিন ধরে পলাশবাড়ী এসিল্যান্ড অফিসে কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। রাজধানীর মিরপুর এলাকায় তার নিজস্ব ভবন রয়েছে এবং রাজবাড়ী জেলাতেও অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, তাদের জমির খারিজ করে দেওয়ার জন্য পেশকার রইস একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে অফিসের নিচে ঘুষের টাকা গ্রহণ করেন। তিনি কখনো সরাসরি টাকা নেন না; বরং তার বিশ্বস্ত লোকজনের মাধ্যমেই অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে নামজারি সহকারী রহিসুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এসব কাজের সঙ্গে জড়িত নই। এগুলো ভিত্তিহীন কথা। আমি যদি কোনো কিছু করে থাকি, তাহলে আমার সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পারেন।” এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “তথ্য-প্রমাণ থাকলে আমাকে দিন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”বিস্তারিত ভিডিও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন খুব শিগগিরই জেটিভি নিউজ বাংলায় প্রচারিত হবে....

ডেস্ক রিপোর্ট 





















