জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২৯ জুন ২০২৬ ইং,সোমবার সময়: দুপুর ০২:২১ মিনিট।দুস্থ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৩টি ইউনিয়নের ১০ লাখ ৪০ হাজার দরিদ্র, দুস্থ ও অসচ্ছল নারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি প্যাকেটজাত পুষ্টি চাল দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এনজিওর মাধ্যমে তাদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন। তিনি আরও জানান, মা ও শিশু সহায়তা তহবিল কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী মায়েদের প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশুর পরিচর্যা এবং মনোসামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী রয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। মৎস্যচাষ, হাঁস-মুরগি পালন, গরু-ছাগল মোটাতাজাকরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে এ ঋণ ব্যবহার করা যায়। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মক্ষম, স্বামী-পরিত্যক্ত ও বিধবা নারীরা এ ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। একজন নারীকে এককভাবে ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা এবং দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। তিনি জানান, ২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন নারীর মধ্যে ২০৩ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মহিলা সংস্থা একই সময়ে ৭৪ হাজার ৭৮ জন নারীর মধ্যে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। এছাড়া জীবিকায়নের জন্য দেশের ৬৪ জেলার উপপরিচালকের কার্যালয়ের মাধ্যমে স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক পাঁচটি ট্রেডে তিন মাস মেয়াদি দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় ১৯ হাজার ২০০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....

স্টাফ রিপোর্টার 





















