ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২০ আগস্ট ভোট, তফসিল ঘোষণা ইসির গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিং, নগরের চেয়ে গ্রামে দুর্ভোগ বেশি রাষ্ট্র সংস্কারের সম্ভাবনা রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের হাতে জিম্মি’— ড. ইফতেখারুজ্জামান জুলাই আন্দোলনের দুই বছর: কতটা পূরণ হলো প্রত্যাশা, কতটা রয়ে গেল অপূর্ণ? বিমানবন্দর নিরাপত্তায় ১৭ সদস্যের জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতের উদ্যোগ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৬ যুবকের আমৃত্যু কারাদণ্ড, প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা রাজধানীর আরেক ‘মোহাম্মদপুর’ হয়ে উঠছে মিরপুর? টার্গেট কিলিং, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ে আতঙ্কে বাসিন্দারা জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১.৯২ শতাংশ উচ্চ ভিত্তির প্রভাব, গ্যাস সংকট ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার চাপ; তবুও শিল্পের সক্ষমতা নিয়ে আশাবাদী বিজিএমইএ গণমাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই, সাংবাদিকদের বিভাজন না বাড়ানোর আহ্বান মির্জা ফখরুলের বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিং, নগরের চেয়ে গ্রামে দুর্ভোগ বেশি

জেটিভি নিউজ বাংলা

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিং, নগরের চেয়ে গ্রামে দুর্ভোগ বেশি

প্রকাশের তারিখ: ৬ আগস্ট ২০২৬ ইং,সময় সকাল ১০:৪০ মিনিট। চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগর ও গ্রামজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং। নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামীণ জনপদে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের দাবি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ মাত্র ৬২ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সচল একমাত্র সরকারি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও উৎপাদন কমে গেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) চট্টগ্রাম বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস, ফার্নেস অয়েল, কয়লা ও পানিনির্ভর মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার ছয়টি কেন্দ্র বন্ধ ছিল। কিছু কেন্দ্র সকালে বন্ধ থাকলেও রাতে চালু করা হয়। আবার কয়েকটি কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। তবে ৩ আগস্ট অফ-পিক আওয়ারে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮১৯ দশমিক ১৪ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৩০২ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট। বিউবো জানায়, পিক আওয়ার সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়কে অফ-পিক আওয়ার ধরা হয়। ৩ আগস্ট পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৭৭ দশমিক ২ মেগাওয়াট এবং অফ-পিক আওয়ারে ছিল ১ হাজার ৩৫২ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন অফ-পিক আওয়ারে ৬৫ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। তবে নগরের হামজারবাগ সংগীত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রবিউল হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেড়েছে। সকাল, বিকেল এমনকি মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি গ্যাস সংকটও রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসায় থাকা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন নগরের সিরাজউদ্দৌলা রোডের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ার কারণে বাসার মূল্যবান বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটে ঠিকমতো রান্নাও করা যাচ্ছে না। নগরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা এলাকার বাসিন্দা মো. পিয়াল উদ্দিন জানান, কয়েকদিন ধরে এলাকায় প্রতিদিন নয় থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। চট্টগ্রামের সরকারি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রাউজানে অবস্থিত ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট, অর্থাৎ মোট ৪২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এই দুটি ইউনিট চালু রাখতে প্রতিদিন ৪৫ মিলিয়ন করে মোট ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এদিকে জেলার শিকলবাহায় অবস্থিত ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সরকারি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও উৎপাদন কমেছে। ৩ আগস্ট অফ-পিক আওয়ারে এই কেন্দ্র থেকে ১৮৪ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ১৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক অসীম ব্যানার্জী বলেন, কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের জন্য ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ২৮ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদনও কমে গেছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির কারণে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও পরিবহন—সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কেজিডিসিএল আরও জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হলে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চল—চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে—৩ আগস্ট অফ-পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৫২ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ছিল ১ হাজার ৪৭৭ দশমিক ২ মেগাওয়াট। ওই সময়ে যথাক্রমে ৬৫ মেগাওয়াট ও ৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।   জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২০ আগস্ট ভোট, তফসিল ঘোষণা ইসির

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিং, নগরের চেয়ে গ্রামে দুর্ভোগ বেশি

আপডেট সময় ১৬ ঘন্টা আগে
জেটিভি নিউজ বাংলা

গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিং, নগরের চেয়ে গ্রামে দুর্ভোগ বেশি

প্রকাশের তারিখ: ৬ আগস্ট ২০২৬ ইং,সময় সকাল ১০:৪০ মিনিট। চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগর ও গ্রামজুড়ে বেড়েছে লোডশেডিং। নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামীণ জনপদে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটের কারণে রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। যদিও বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের দাবি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ মাত্র ৬২ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের সচল একমাত্র সরকারি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও উৎপাদন কমে গেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) চট্টগ্রাম বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস, ফার্নেস অয়েল, কয়লা ও পানিনির্ভর মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার ছয়টি কেন্দ্র বন্ধ ছিল। কিছু কেন্দ্র সকালে বন্ধ থাকলেও রাতে চালু করা হয়। আবার কয়েকটি কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। তবে ৩ আগস্ট অফ-পিক আওয়ারে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৮১৯ দশমিক ১৪ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৩০২ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট। বিউবো জানায়, পিক আওয়ার সাধারণত বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। অন্যদিকে রাত ১১টা থেকে পরদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়কে অফ-পিক আওয়ার ধরা হয়। ৩ আগস্ট পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৭৭ দশমিক ২ মেগাওয়াট এবং অফ-পিক আওয়ারে ছিল ১ হাজার ৩৫২ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন অফ-পিক আওয়ারে ৬৫ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। তবে নগরের হামজারবাগ সংগীত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা রবিউল হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেড়েছে। সকাল, বিকেল এমনকি মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি গ্যাস সংকটও রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসায় থাকা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন নগরের সিরাজউদ্দৌলা রোডের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ার কারণে বাসার মূল্যবান বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে গ্যাস সংকটে ঠিকমতো রান্নাও করা যাচ্ছে না। নগরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা এলাকার বাসিন্দা মো. পিয়াল উদ্দিন জানান, কয়েকদিন ধরে এলাকায় প্রতিদিন নয় থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। চট্টগ্রামের সরকারি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রাউজানে অবস্থিত ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট, অর্থাৎ মোট ৪২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এই দুটি ইউনিট চালু রাখতে প্রতিদিন ৪৫ মিলিয়ন করে মোট ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। এদিকে জেলার শিকলবাহায় অবস্থিত ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সরকারি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও উৎপাদন কমেছে। ৩ আগস্ট অফ-পিক আওয়ারে এই কেন্দ্র থেকে ১৮৪ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ১৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক অসীম ব্যানার্জী বলেন, কেন্দ্রটির পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের জন্য ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ২৮ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে উৎপাদনও কমে গেছে। চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতির কারণে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও পরিবহন—সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কেজিডিসিএল আরও জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হলে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকবর হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চল—চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারে—৩ আগস্ট অফ-পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৫২ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে ছিল ১ হাজার ৪৭৭ দশমিক ২ মেগাওয়াট। ওই সময়ে যথাক্রমে ৬৫ মেগাওয়াট ও ৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।   জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....