ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৬০ দিনের সময়সীমার আগেই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তীব্র গরমে ১৭-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে বিদ্যুৎ সংস্থার চিঠি সংসার ভাঙার আগে মুখরোচক পরামর্শ, ডিভোর্সের পর একাকী নারীর নীরব কান্না ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট হবে বিকেল ২টা থেকে ৫টা গভীর রাতেও বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চের কাছাকাছি, তীব্র লোডশেডিংয়ের নেপথ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না’: শিক্ষামন্ত্রী জনপ্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে নতুন নিয়োগের আলোচনা, সম্ভাব্য তালিকায় একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন প্রার্থী দিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক কাঁচা মরিচ আমদানিতে অর্ধেকে নেমেছে দাম, বেনাপোলে ৩০০ থেকে ১৫০-১৮০ টাকা

সংসার ভাঙার আগে মুখরোচক পরামর্শ, ডিভোর্সের পর একাকী নারীর নীরব কান্না

সংসার ভাঙার আগে মুখরোচক পরামর্শ, ডিভোর্সের পর একাকী নারীর নীরব কান্না

জেটিভি নিউজ বাংলা | ফিচার তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ইং,সময় রাত ১০:৫২ মিনিট। একটি সংসার ভাঙার পেছনে কখনো দাম্পত্য কলহ, কখনো ভুল বোঝাবুঝি, আবার কখনো পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সমস্যায় মা, বোন, খালা কিংবা কাছের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরামর্শ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মুখরোচক কথা, আবেগঘন আশ্বাস কিংবা একতরফা অভিযোগ শুনে কেউ কেউ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে উৎসাহিত হন। তবে যে কথাগুলো ডিভোর্সের আগে সাহস জোগায়, বিচ্ছেদের পর বাস্তবতার কঠিন সময়ে অনেক সময় সেই মানুষগুলোকেই আর পাশে পাওয়া যায় না। তখন শুরু হয় এক ভিন্ন জীবন—একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তার।

‘তুমি আলাদা হয়ে যাও, জীবন তোমার সুন্দর হবে’—কথার বাস্তবতা কতটা?

দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া কিংবা মতবিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। কোনো কোনো সংসারে সমস্যা এতটাই বাড়তে পারে যে বিচ্ছেদই শেষ সমাধান বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা, পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ থাকা জরুরি। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, একজন নারী সংসারের কোনো সমস্যার কথা মা, বোন, খালা কিংবা বান্ধবীর কাছে বললে তাঁরা পরিস্থিতির পূর্ণ বাস্তবতা না জেনেই নানা ধরনের পরামর্শ দেন। ‘আর সহ্য করো না’, ‘তুমি একা থাকলেই ভালো থাকবে’, ‘ডিভোর্সের পর আরও ভালো জীবন পাবে’—এমন কথায় একজন হতাশ নারী মুহূর্তের আবেগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যার প্রভাব তাঁকে সারাজীবন বহন করতে হতে পারে। অবশ্যই নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতিতে একজন নারীর নিরাপদে বেরিয়ে আসার অধিকার রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র রাগ, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা তৃতীয় পক্ষের প্ররোচনায় নেওয়া বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

ডিভোর্সের পর বদলে যায় অনেক সম্পর্ক

ডিভোর্সের আগে যে নারীকে অনেকেই সাহস জোগান, বিচ্ছেদের পর তাঁর জীবন বাস্তবতার মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যেতে পারে। ডিভোর্সের পর অনেক নারীকে নতুন করে ভাবতে হয়—কোথায় থাকবেন, কীভাবে নিজের খরচ চালাবেন, ভবিষ্যৎ কী হবে, সন্তান থাকলে তাদের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন এবং সমাজের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি কীভাবে দাঁড়াবেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, যে পরিবার কিংবা আত্মীয়রা বিচ্ছেদের আগে নানা আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই সময়ের সঙ্গে নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তখন সেই নারী বুঝতে পারেন, সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জীবনকেই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, খালা-খালু, মামা-মামী কিংবা বন্ধু-বান্ধব—সবাই আপনজন হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব সংসার, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে বিচ্ছেদের পর আগের মতো প্রতিনিয়ত পাশে থাকা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

তখন শুরু হয় নীরব যুদ্ধ

ডিভোর্সের পর একজন নারীর সবচেয়ে বড় লড়াই অনেক সময় বাইরের মানুষের সঙ্গে নয়, নিজের ভেতরের সঙ্গে। একসময় যে সংসারে প্রতিদিনের অভ্যাস ছিল স্বামী-সন্তান, ঘর-সংসার, পরিচিত পরিবেশ ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা—সেই জীবন হঠাৎ থেমে গেলে তৈরি হতে পারে গভীর শূন্যতা। অনেক নারী বাইরে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন। পুরোনো স্মৃতি, স্বামীর সঙ্গে কাটানো সময়, সংসারের ছোট ছোট মুহূর্ত কিংবা বিচ্ছেদের আগে বলা কঠিন কথাগুলো বারবার মনে পড়ে। কখনো মনে হয়—আরেকটু সময় দিলে কি সমস্যার সমাধান হতে পারত? আরেকবার কথা বললে কি সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল? অন্যের কথায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজেরা কি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে পারতাম? এই প্রশ্নগুলোর কোনো সহজ উত্তর থাকে না।

সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বড় চ্যালেঞ্জ

ডিভোর্সের পর একজন নারীকে শুধু মানসিক কষ্টই মোকাবিলা করতে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও লড়াই করতে হয়। সমাজের একটি অংশ এখনো ডিভোর্সি নারীকে নানা প্রশ্নের মুখে ফেলে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা, কৌতূহল কিংবা কটূক্তি তাঁকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। অথচ একটি বিবাহ ভেঙে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে একজন নারীর জীবনও শেষ হয়ে গেছে। একজন ডিভোর্সি নারীও সম্মান, নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সুন্দর ভবিষ্যতের অধিকারী।

সংসার টিকিয়ে রাখা যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তও বড় দায়িত্ব

দাম্পত্য জীবনে সমস্যা হলে তৃতীয় ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন পরামর্শ কখনোই সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত নয়। কারণ সংসারটি অন্য কেউ চালাবেন না—চালাতে হবে স্বামী-স্ত্রীকেই। পরিবারের সদস্যদের উচিত কোনো পক্ষের কথা শুনে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে উৎসাহিত না করে দুজনের কথাই শোনা। সমস্যার ধরন বুঝে সমঝোতার সুযোগ থাকলে সেই পথ খোঁজা। প্রয়োজন হলে পেশাদার কাউন্সেলিং নেওয়া। তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে—যদি কোনো সম্পর্কে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, জোরজবরদস্তি কিংবা নিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি থাকে, তাহলে শুধু ‘সংসার টিকিয়ে রাখার’ নামে একজন নারীকে সেই সম্পর্কে আটকে রাখা কোনো সমাধান নয়।

শেষ কথা

একটি সংসার ভাঙার আগে অনেক মানুষ অনেক কথা বলেন। কিন্তু বিচ্ছেদের পর সেই কথাগুলোর বাস্তব মূল্যায়ন করতে হয় যে নারীকে, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় সেই সিদ্ধান্তের। তাই কারও দাম্পত্য জীবনের সংকট শুনে ‘ডিভোর্স করে ফেলো’ বলা যতটা সহজ, তার পরের জীবনটি বহন করা ততটা সহজ নয়। একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আবেগ নয়, প্রয়োজন বাস্তবতা, বিবেচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা। কারণ সংসার ভাঙার মুহূর্তে উচ্চস্বরে দেওয়া অনেক আশ্বাস হয়তো কিছুক্ষণের জন্য সাহস জোগাতে পারে; কিন্তু ডিভোর্সের পর গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন নিজের জীবন নিয়ে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের ভার অনেক সময় তাকেই একা বহন করতে হয়। সেই নীরব কান্নার শব্দ বাইরে থেকে শোনা যায় না—কিন্তু একজন নারীর ভেতরে তা বছরের পর বছর প্রতিধ্বনিত হতে পারে।   জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে......

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

৬০ দিনের সময়সীমার আগেই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

সংসার ভাঙার আগে মুখরোচক পরামর্শ, ডিভোর্সের পর একাকী নারীর নীরব কান্না

আপডেট সময় ১৭ ঘন্টা আগে

সংসার ভাঙার আগে মুখরোচক পরামর্শ, ডিভোর্সের পর একাকী নারীর নীরব কান্না

জেটিভি নিউজ বাংলা | ফিচার তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬ ইং,সময় রাত ১০:৫২ মিনিট। একটি সংসার ভাঙার পেছনে কখনো দাম্পত্য কলহ, কখনো ভুল বোঝাবুঝি, আবার কখনো পরিবারের সদস্য ও আশপাশের মানুষের অযাচিত হস্তক্ষেপ বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত সমস্যায় মা, বোন, খালা কিংবা কাছের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরামর্শ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মুখরোচক কথা, আবেগঘন আশ্বাস কিংবা একতরফা অভিযোগ শুনে কেউ কেউ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে উৎসাহিত হন। তবে যে কথাগুলো ডিভোর্সের আগে সাহস জোগায়, বিচ্ছেদের পর বাস্তবতার কঠিন সময়ে অনেক সময় সেই মানুষগুলোকেই আর পাশে পাওয়া যায় না। তখন শুরু হয় এক ভিন্ন জীবন—একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা, সামাজিক চাপ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তার।

‘তুমি আলাদা হয়ে যাও, জীবন তোমার সুন্দর হবে’—কথার বাস্তবতা কতটা?

দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া কিংবা মতবিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। কোনো কোনো সংসারে সমস্যা এতটাই বাড়তে পারে যে বিচ্ছেদই শেষ সমাধান বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা, পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ থাকা জরুরি। অথচ অনেক সময় দেখা যায়, একজন নারী সংসারের কোনো সমস্যার কথা মা, বোন, খালা কিংবা বান্ধবীর কাছে বললে তাঁরা পরিস্থিতির পূর্ণ বাস্তবতা না জেনেই নানা ধরনের পরামর্শ দেন। ‘আর সহ্য করো না’, ‘তুমি একা থাকলেই ভালো থাকবে’, ‘ডিভোর্সের পর আরও ভালো জীবন পাবে’—এমন কথায় একজন হতাশ নারী মুহূর্তের আবেগে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যার প্রভাব তাঁকে সারাজীবন বহন করতে হতে পারে। অবশ্যই নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা নিরাপত্তাহীনতার মতো পরিস্থিতিতে একজন নারীর নিরাপদে বেরিয়ে আসার অধিকার রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র রাগ, অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা তৃতীয় পক্ষের প্ররোচনায় নেওয়া বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

ডিভোর্সের পর বদলে যায় অনেক সম্পর্ক

ডিভোর্সের আগে যে নারীকে অনেকেই সাহস জোগান, বিচ্ছেদের পর তাঁর জীবন বাস্তবতার মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যেতে পারে। ডিভোর্সের পর অনেক নারীকে নতুন করে ভাবতে হয়—কোথায় থাকবেন, কীভাবে নিজের খরচ চালাবেন, ভবিষ্যৎ কী হবে, সন্তান থাকলে তাদের দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন এবং সমাজের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি কীভাবে দাঁড়াবেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, যে পরিবার কিংবা আত্মীয়রা বিচ্ছেদের আগে নানা আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই সময়ের সঙ্গে নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তখন সেই নারী বুঝতে পারেন, সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জীবনকেই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছে। মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, খালা-খালু, মামা-মামী কিংবা বন্ধু-বান্ধব—সবাই আপনজন হলেও প্রত্যেকের নিজস্ব সংসার, দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে বিচ্ছেদের পর আগের মতো প্রতিনিয়ত পাশে থাকা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

তখন শুরু হয় নীরব যুদ্ধ

ডিভোর্সের পর একজন নারীর সবচেয়ে বড় লড়াই অনেক সময় বাইরের মানুষের সঙ্গে নয়, নিজের ভেতরের সঙ্গে। একসময় যে সংসারে প্রতিদিনের অভ্যাস ছিল স্বামী-সন্তান, ঘর-সংসার, পরিচিত পরিবেশ ও ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা—সেই জীবন হঠাৎ থেমে গেলে তৈরি হতে পারে গভীর শূন্যতা। অনেক নারী বাইরে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়েন। পুরোনো স্মৃতি, স্বামীর সঙ্গে কাটানো সময়, সংসারের ছোট ছোট মুহূর্ত কিংবা বিচ্ছেদের আগে বলা কঠিন কথাগুলো বারবার মনে পড়ে। কখনো মনে হয়—আরেকটু সময় দিলে কি সমস্যার সমাধান হতে পারত? আরেকবার কথা বললে কি সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল? অন্যের কথায় সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজেরা কি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে পারতাম? এই প্রশ্নগুলোর কোনো সহজ উত্তর থাকে না।

সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বড় চ্যালেঞ্জ

ডিভোর্সের পর একজন নারীকে শুধু মানসিক কষ্টই মোকাবিলা করতে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গেও লড়াই করতে হয়। সমাজের একটি অংশ এখনো ডিভোর্সি নারীকে নানা প্রশ্নের মুখে ফেলে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা, কৌতূহল কিংবা কটূক্তি তাঁকে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। অথচ একটি বিবাহ ভেঙে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে একজন নারীর জীবনও শেষ হয়ে গেছে। একজন ডিভোর্সি নারীও সম্মান, নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সুন্দর ভবিষ্যতের অধিকারী।

সংসার টিকিয়ে রাখা যেমন দায়িত্ব, তেমনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তও বড় দায়িত্ব

দাম্পত্য জীবনে সমস্যা হলে তৃতীয় ব্যক্তির দায়িত্বজ্ঞানহীন পরামর্শ কখনোই সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত নয়। কারণ সংসারটি অন্য কেউ চালাবেন না—চালাতে হবে স্বামী-স্ত্রীকেই। পরিবারের সদস্যদের উচিত কোনো পক্ষের কথা শুনে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে উৎসাহিত না করে দুজনের কথাই শোনা। সমস্যার ধরন বুঝে সমঝোতার সুযোগ থাকলে সেই পথ খোঁজা। প্রয়োজন হলে পেশাদার কাউন্সেলিং নেওয়া। তবে একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে—যদি কোনো সম্পর্কে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, জোরজবরদস্তি কিংবা নিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি থাকে, তাহলে শুধু ‘সংসার টিকিয়ে রাখার’ নামে একজন নারীকে সেই সম্পর্কে আটকে রাখা কোনো সমাধান নয়।

শেষ কথা

একটি সংসার ভাঙার আগে অনেক মানুষ অনেক কথা বলেন। কিন্তু বিচ্ছেদের পর সেই কথাগুলোর বাস্তব মূল্যায়ন করতে হয় যে নারীকে, তাঁকেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় সেই সিদ্ধান্তের। তাই কারও দাম্পত্য জীবনের সংকট শুনে ‘ডিভোর্স করে ফেলো’ বলা যতটা সহজ, তার পরের জীবনটি বহন করা ততটা সহজ নয়। একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আবেগ নয়, প্রয়োজন বাস্তবতা, বিবেচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা। কারণ সংসার ভাঙার মুহূর্তে উচ্চস্বরে দেওয়া অনেক আশ্বাস হয়তো কিছুক্ষণের জন্য সাহস জোগাতে পারে; কিন্তু ডিভোর্সের পর গভীর রাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে যায়, তখন নিজের জীবন নিয়ে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের ভার অনেক সময় তাকেই একা বহন করতে হয়। সেই নীরব কান্নার শব্দ বাইরে থেকে শোনা যায় না—কিন্তু একজন নারীর ভেতরে তা বছরের পর বছর প্রতিধ্বনিত হতে পারে।   জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে......