ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ,

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০১ জুন ২০২৬ ইং | সময়: বেলা ১২:৩১ মিনিট।

ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ,

  টিয়ারগ্যাস ও জলকামান; গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহতের দাবি রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র বোর্ড মিটিং ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ এবং বিধিবহির্ভূতভাবে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে ব্যাংকটির হাজার-হাজার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (০১ জুন) সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিয়ে অবস্থান নেয়। অভিযোগ রয়েছে, শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের হামলায় ৩০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক গ্রাহক আহত হন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, গত ২৪ মে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হয়। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান নিয়োগের পরপরই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিল এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে স্বপদে বহাল রাখার দাবি জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপের লোকজনকে ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অধ্যাপক নুর নবী মানিক আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন পালন করতে গেলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ চালায়। এতে গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক সাধারণ গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। আহতদের অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সরকার ইসলামী ব্যাংকে পতিত আওয়ামী লীগের দোসর এস আলম গ্রুপকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে তার দাবি। এসব ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বলেও তিনি জানান। অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে রয়েছে। ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ নেই বলে দাবি করে তিনি জানান, গ্রাহকেরা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না এবং এটিএম বুথ থেকেও অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের নিয়ে সভা করে চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট | ০১ জুন ২০২৬

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ,

আপডেট সময় ১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ০১ জুন ২০২৬ ইং | সময়: বেলা ১২:৩১ মিনিট।

ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধনে পুলিশের লাঠিচার্জ,

  টিয়ারগ্যাস ও জলকামান; গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক আহতের দাবি রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’র বোর্ড মিটিং ছাড়াই বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ এবং বিধিবহির্ভূতভাবে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে ব্যাংকটির হাজার-হাজার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (০১ জুন) সকালে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিয়ে অবস্থান নেয়। অভিযোগ রয়েছে, শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, পুলিশের হামলায় ৩০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক গ্রাহক আহত হন। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকদের ব্যাংকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, গত ২৪ মে সরকারের অবৈধ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠানো হয়। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশিদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান নিয়োগের পরপরই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিল এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে স্বপদে বহাল রাখার দাবি জানান। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকদের দাবি উপেক্ষা করে এস আলম গ্রুপের লোকজনকে ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অধ্যাপক নুর নবী মানিক আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন পালন করতে গেলে সরকারের নির্দেশে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ চালায়। এতে গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক সাধারণ গ্রাহক আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। আহতদের অনেকেই বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সরকার ইসলামী ব্যাংকে পতিত আওয়ামী লীগের দোসর এস আলম গ্রুপকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে তার দাবি। এসব ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বলেও তিনি জানান। অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে রয়েছে। ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ নেই বলে দাবি করে তিনি জানান, গ্রাহকেরা চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না এবং এটিএম বুথ থেকেও অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান, অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে এবং খুরশিদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের নিয়ে সভা করে চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট | ০১ জুন ২০২৬