ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং, শুক্রবার,সময় ঃ সকাল ১১:০৭ মিনিট। 

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক: ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন সরকারের সামনে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে এবং সেই দিকনির্দেশনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চলতি দশকের মধ্যেই দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করা। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা। আমরা এই দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে পোশাকশিল্প প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। দেশের তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে আগামী দিনের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করতে নতুন নতুন শিল্পখাতকে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং পরিবেশবান্ধব বা সবুজ শিল্পকে আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়নের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়; বরং এমন শিল্প ও কারখানা গড়ে তোলা, যা মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং সেই কর্মসংস্থান মানুষের জীবন ও মর্যাদার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’’

ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) মধ্যে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান। অন্যদিকে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন আইএসডিবির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে হবে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরশীলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চুক্তিটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি শুধু একটি অর্থায়ন চুক্তি নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আস্থা ও বিশ্বাসেরও বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশকে উৎপাদনকেন্দ্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য

অর্থনীতিকে বহুমুখী ও শক্তিশালী করার জন্য ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, শিল্পের সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হেলথ কার্ড চালুর কাজও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দেশগুলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’’ তিনি বাংলাদেশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যকার সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী এবং ফলাফলভিত্তিক হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, নতুন শিল্পখাতের বিকাশ, জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে।   জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ২২ ঘন্টা আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং, শুক্রবার,সময় ঃ সকাল ১১:০৭ মিনিট। 

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক: ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নতুন সরকারের সামনে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে এবং সেই দিকনির্দেশনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো রপ্তানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চলতি দশকের মধ্যেই দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করা। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা। আমরা এই দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে পোশাকশিল্প প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। দেশের তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে আগামী দিনের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করতে নতুন নতুন শিল্পখাতকে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং পরিবেশবান্ধব বা সবুজ শিল্পকে আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়নের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়; বরং এমন শিল্প ও কারখানা গড়ে তোলা, যা মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং সেই কর্মসংস্থান মানুষের জীবন ও মর্যাদার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’’

ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রকল্পে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) মধ্যে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান। অন্যদিকে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন আইএসডিবির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে হবে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর দেশের নির্ভরশীলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চুক্তিটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি শুধু একটি অর্থায়ন চুক্তি নয়; বরং বাংলাদেশের প্রতি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের আস্থা ও বিশ্বাসেরও বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশকে উৎপাদনকেন্দ্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য

অর্থনীতিকে বহুমুখী ও শক্তিশালী করার জন্য ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল এবং সবুজ শিল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, শিল্পের সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ড

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হেলথ কার্ড চালুর কাজও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে দেশগুলো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’’ তিনি বাংলাদেশ ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মধ্যকার সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী এবং ফলাফলভিত্তিক হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, নতুন শিল্পখাতের বিকাশ, জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে।   জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....