ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে সাড়ে ৫ মাস পর দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস দ্বিতীয় সম্পর্ক: জীবনের শেষ ঠিকানা, নাকি স্বার্থের সাময়িক আশ্রয়? বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৫ টাকা, নতুন দাম ২০৪ টাকা ফরিদপুরের নগরকান্দায় ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ, পুকুরে যাত্রীবাহী বাস; আহত অন্তত ১৫
সরকারি, অর্থ, সাশ্রয়, করে, ৪০, লাখ, ৮০, হাজার, টাকা, ফেরত, শাহরাস্তিতে, লক্ষ্যমাত্রার, চেয়েও, বেশি, খাল, খনন

সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইল,সময় ঃ রাত :১০:০৭ মিনিট।

 সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন

চাঁদপুর প্রতিনিধি (ডিজিটাল): সরকারি বরাদ্দের অর্থের সঠিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। সরকারি বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয় করে দুটি খাল সফলভাবে খননের পর অবশিষ্ট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। শুধু অর্থ সাশ্রয় করেই থেমে থাকেনি শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, প্রশাসনের নিবিড় তদারকি এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারি হিসাব বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শাহরাস্তি উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর একটি হলো ‘খদ্দের খাল’, যা ডাকাতিয়া নদীর খোর্দ থেকে মোড়াগাঁও বটতলা শৈলখালী খাল পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যটি হলো ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’। এই দুটি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘খদ্দের খাল’ খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা। আর ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। প্রকল্প দুটির কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা ও নিবিড় তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাজের অগ্রগতি ও ব্যয়ের বিষয়েও রাখা হয় নজরদারি। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্ধারিত বরাদ্দের তুলনায় কম অর্থ ব্যয় করেই খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ‘খদ্দের খাল’ খননে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা। অন্যদিকে ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকা। অর্থাৎ, দুটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত থেকে যায়। দুই প্রকল্পে ব্যয় শেষে মোট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। পরবর্তীতে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রকল্প দুটির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন করা হয়েছে। শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু জানান, প্রাথমিকভাবে প্রকল্প দুটির আওতায় মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রকল্পের বাজেটও নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ও দক্ষ ব্যবহার এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনার কারণে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাল খনন করা সম্ভব হয়েছে। বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে যেখানে ১৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সেখানে বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দের অর্থেরও একটি বড় অংশ সাশ্রয় করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু আরও জানান, প্রকল্পে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণের শর্তও বজায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের শ্রমিক অংশগ্রহণের নির্ধারিত শর্ত উপেক্ষা করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিভিত্তিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনার কারণে একদিকে যেমন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় কম লেগেছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই বেশি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের এই অর্থ সাশ্রয়, সততা, কর্মদক্ষতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি উচ্চপর্যায়েও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ গত ৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিরা খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সম্মানসূচক আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ আলোচনা হয়। সেখানে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, অর্থ সাশ্রয়ের কৌশল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনেক সময় নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয় কিংবা প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এর বিপরীতে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যেই নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করেছে। শুধু তাই নয়, বরাদ্দকৃত অর্থ সাশ্রয় করে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন এবং উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিবিড় তদারকি এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একই বরাদ্দে আরও বেশি উন্নয়নকাজ করা সম্ভব। শাহরাস্তির দুটি খাল খনন প্রকল্প তারই বাস্তব উদাহরণ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকায়ও অনুসরণ করা হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার, অপচয় রোধ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা এবং উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই ঘটনা সারাদেশে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি উজ্জ্বল, অনুকরণীয় ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন

সরকারি, অর্থ, সাশ্রয়, করে, ৪০, লাখ, ৮০, হাজার, টাকা, ফেরত, শাহরাস্তিতে, লক্ষ্যমাত্রার, চেয়েও, বেশি, খাল, খনন

সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন

আপডেট সময় ৩ মিনিট আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইল,সময় ঃ রাত :১০:০৭ মিনিট।

 সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন

চাঁদপুর প্রতিনিধি (ডিজিটাল): সরকারি বরাদ্দের অর্থের সঠিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। সরকারি বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয় করে দুটি খাল সফলভাবে খননের পর অবশিষ্ট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। শুধু অর্থ সাশ্রয় করেই থেমে থাকেনি শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, প্রশাসনের নিবিড় তদারকি এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ও সরকারি হিসাব বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শাহরাস্তি উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর একটি হলো ‘খদ্দের খাল’, যা ডাকাতিয়া নদীর খোর্দ থেকে মোড়াগাঁও বটতলা শৈলখালী খাল পর্যন্ত বিস্তৃত। অন্যটি হলো ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’। এই দুটি খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে মোট ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘খদ্দের খাল’ খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ কোটি ৯ লাখ ২ হাজার ৪৭০ টাকা। আর ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। প্রকল্প দুটির কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা ও নিবিড় তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাজের অগ্রগতি ও ব্যয়ের বিষয়েও রাখা হয় নজরদারি। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নির্ধারিত বরাদ্দের তুলনায় কম অর্থ ব্যয় করেই খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ‘খদ্দের খাল’ খননে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪১৩ টাকা। অন্যদিকে ‘নওড়া-মেহের গোদা খাল’ খননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৪ টাকা। অর্থাৎ, দুটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত থেকে যায়। দুই প্রকল্পে ব্যয় শেষে মোট ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। পরবর্তীতে এই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি প্রকল্প দুটির আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন করা হয়েছে। শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু জানান, প্রাথমিকভাবে প্রকল্প দুটির আওতায় মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্রকল্পের বাজেটও নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ও দক্ষ ব্যবহার এবং পরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনার কারণে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি খাল খনন করা সম্ভব হয়েছে। বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে যেখানে ১৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সেখানে বাস্তবে প্রায় ২১ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দের অর্থেরও একটি বড় অংশ সাশ্রয় করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহেল রানা পাপ্পু আরও জানান, প্রকল্পে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণের শর্তও বজায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করলেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের শ্রমিক অংশগ্রহণের নির্ধারিত শর্ত উপেক্ষা করা হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিভিত্তিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে কাজ পরিচালনার কারণে একদিকে যেমন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় কম লেগেছে, অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই বেশি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের এই অর্থ সাশ্রয়, সততা, কর্মদক্ষতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি উচ্চপর্যায়েও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ গত ৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিরা খাতুনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সম্মানসূচক আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই আয়োজনে প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাজেট ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থ সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ আলোচনা হয়। সেখানে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, অর্থ সাশ্রয়ের কৌশল এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনেক সময় নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয় কিংবা প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এর বিপরীতে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যেই নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করেছে। শুধু তাই নয়, বরাদ্দকৃত অর্থ সাশ্রয় করে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন এবং উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে সুষ্ঠু পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিবিড় তদারকি এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একই বরাদ্দে আরও বেশি উন্নয়নকাজ করা সম্ভব। শাহরাস্তির দুটি খাল খনন প্রকল্প তারই বাস্তব উদাহরণ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকায়ও অনুসরণ করা হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার, অপচয় রোধ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কাজ সম্পন্ন করা এবং উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার এই ঘটনা সারাদেশে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি উজ্জ্বল, অনুকরণীয় ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....