জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং | সময়: সকাল ১১:১৩ মিনিট
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বর্তমান সরকারকে অবশ্যই আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংগীত সন্ধ্যা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ এবং তার প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং অর্থপাচারের মতো নানাবিধ বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিস্তার লাভ করেছে। এসব কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণ এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্পিকার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংসদ এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বা আইপিইউ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি বলেন, ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইপিইউ মানবাধিকার সংরক্ষণ, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত সুরক্ষার ক্ষেত্রেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে একটি পরিবেশগত বিপর্যয়প্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আইপিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্পিকার আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির এসব পরিবর্তন উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, আইপিইউ বিশ্বে সংসদীয় নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। বিভিন্ন দেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় আইপিইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সংসদ প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ তাদের ভাগ্যোন্নয়ন এবং মানবিক মর্যাদা সুরক্ষার লক্ষ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সংসদ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
আইপিইউ মহাসচিব বলেন, সংসদ হলো গণতন্ত্রের ভিত্তি। জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সংসদকে মানবাধিকার এবং আইনের শাসন সুরক্ষায় অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। নেত্রকোনার বিরিশিরি একাডেমির শিল্পীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পরিবেশন করেন।
এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ সংগীত সন্ধ্যা উপভোগ করেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পরে আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন। তার সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সংসদ-সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইপিইউ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর এবং জাতীয় সংসদে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন, পরিবেশগত সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সংসদীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
খবর: বাসস
জেটিভি নিউজ বাংলা