জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং,সময় ঃ রাত ১১:২২ মিনিট।দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ
সিংড়ায় ব্যবসায়ীর গুদামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি
নাটোর প্রতিনিধি: দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় বিতরণের কথা ছিল ৭৩ বস্তা চাল। কিন্তু সেই চাল দরিদ্র মানুষের হাতে পৌঁছানোর পরিবর্তে চলে যায় এক ব্যবসায়ীর গুদামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ওই ব্যবসায়ীর দোকান সংলগ্ন গুদাম থেকে সরকারি এসব চাল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি এই চাল কার কাছ থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীর গুদামে মজুত করা হয়েছিল? কোনো জনপ্রতিনিধি, ডিলার বা সরকারি চাল আত্মসাৎকারী চক্রের কাছ থেকে চালগুলো ব্যবসায়ী কিনেছিলেন কি না—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রশাসন। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর নাম বিপ্লব কুমার কুন্ডু। তিনি নাটোরের সিংড়া উপজেলার হাটসিংড়া চাউলপট্টি বাজারের একজন চাল ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তার দোকান সংলগ্ন গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানকালে গুদামের ভেতর সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাওয়া যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা ৭৩ বস্তা চাল সরকারের বিভিন্ন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য নির্ধারিত এসব চাল আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে ব্যবসায়ীর গুদামে মজুত করা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন জানতে পারে, ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার কুন্ডুর গুদামে সরকারি চাল মজুত রয়েছে। এরপর সেখানে অভিযান চালানো হলে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা চালের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ ৭ হাজার ৩১০ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। জব্দ করা চালগুলো বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে সরকারি এসব চাল কীভাবে ব্যবসায়ীর গুদামে পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি চাল কোনো জনপ্রতিনিধি, ডিলার কিংবা চাল আত্মসাৎকারী চক্রের কাছ থেকে কিনে বিপ্লব কুমার কুন্ডু গুদামে মজুত করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে জানতে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে সরকারি চালের মূল উৎস এবং কার কাছ থেকে চালগুলো সংগ্রহ করে গুদামে মজুত করা হয়েছিল, সে প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এদিকে অভিযুক্ত চাল ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার কুন্ডু তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি নিজেকে একজন গরিব ব্যবসায়ী উল্লেখ করে বলেন, লোভে পড়ে চালগুলো তিনি তার গুদামঘরে রেখেছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার কোনো দোষ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, শুধু ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমারের গুদামেই নয়, সিংড়া উপজেলার আরও কিছু চাল ব্যবসায়ীর গুদামে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে সরকারি চাল পাওয়া যেতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল অবৈধভাবে আত্মসাৎ করে। পরে সেই চাল তুলনামূলক কম দামে সিংড়ার বিভিন্ন চাল ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। তাদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত এবং সরকারি বরাদ্দের চাল কীভাবে নিয়মিতভাবে বাজারে চলে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু চাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না; বরং চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তি ও চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা আরও বলেন, নিয়মিত ও ব্যাপকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হলে সিংড়ার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর গুদাম থেকে আরও সরকারি চাল উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা সরকারি চাল আত্মসাৎকারী এবং অবৈধভাবে সরকারি চাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার রাতে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার কুন্ডুর গুদামঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, অভিযানের সময় গুদামঘর থেকে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা চালগুলো উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রাখা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় সিংড়াজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল কীভাবে একজন ব্যবসায়ীর গুদামে পৌঁছাল এবং এর পেছনে আরও কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে কি না—সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শুধু গুদাম থেকে চাল জব্দ করলেই হবে না। সরকারি বরাদ্দের চাল যে পর্যায় থেকে আত্মসাৎ হয়েছে, সেই উৎস থেকে শুরু করে চাল ব্যবসায়ীর গুদাম পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি তদন্তের মাধ্যমে বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। জেটিভি নিউজ বাংলা মনে করে, দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি খাদ্যসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। ৭৩ বস্তা চালের প্রকৃত উৎস, কারা এই চাল আত্মসাৎ করেছে এবং কীভাবে তা ব্যবসায়ীর গুদামে পৌঁছেছে—প্রশাসনের তদন্তে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। জেটিভি নিউজ বাংলাদেশ ও দশের কথা বলে....

স্টাফ রিপোর্টার 



















