ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের রফতানি, আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৭ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়: দুপুর ০৩:৫৪ মিনিট। 

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের রফতানি, আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি বছর দেশটিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও অন্যান্য পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। এমন বাস্তবতায় আবারও নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের রফতানি খাত। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামালের আমদানি প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। যদিও এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নতুন করে চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতিরিক্ত শুল্কের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কম শুল্কের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকতে পারেন। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ভবিষ্যতে কোনো দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার নির্ধারণে শ্রম অধিকার, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা, মানবাধিকার ও শিল্পনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশ্য শুনানি করবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। এর আগে সোমবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশ, ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য, লিখিত মতামত ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে তদন্তের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

শুনানিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকাশ্য শুনানিতে বাংলাদেশ সরকার অংশ নিচ্ছে না। সরকারের অবস্থান হলো, প্রকাশ্য শুনানির পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা হবে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুনানিতে অংশ নিয়ে তথ্য-উপাত্তসহ বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিত এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের যুক্তি আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হতো।

কেন তদন্ত

গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামালের আমদানি নিষিদ্ধ করতে কিংবা কার্যকরভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আংশিক বা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ এবং কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া দেশগুলোর ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

বাংলাদেশ সরকার এবং তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা শুরু থেকেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাদের দাবি, দেশের কোনো রফতানিমুখী শিল্পে জোরপূর্বক শ্রমের চর্চা নেই। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি কোনো পণ্য বা কাঁচামাল আমদানি করে না এবং দেশের কোনো রফতানিমুখী শিল্পেই জোরপূর্বক শ্রমের চর্চা নেই। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলও গণমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও ক্রেতাদের মান-অনুসরণ নীতিমালা মেনেই বাংলাদেশের শিল্প পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভিয়েতনাম, ভারত, মেক্সিকো কিংবা মধ্য আমেরিকার বিকল্প সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এর ফলে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যেতে পারে। রফতানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আরও একটি তদন্ত চলছে

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট শিল্পকে এই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু কূটনৈতিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শ্রমমান, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মান-অনুসরণ বিষয়ে তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জেটিভি নিউজ বাংলার পর্যবেক্ষণ

বিশ্ব বাণিজ্যের বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন শুধু কম খরচে পণ্য উৎপাদন করলেই আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। দায়িত্বশীল উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকার, পরিবেশগত মান এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা ভবিষ্যতের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আন্তর্জাতিক আস্থা ধরে রেখে রফতানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা।   জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের রফতানি, আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

আপডেট সময় ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৭ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, সময়: দুপুর ০৩:৫৪ মিনিট। 

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের রফতানি, আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি বছর দেশটিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও অন্যান্য পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। এমন বাস্তবতায় আবারও নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের রফতানি খাত। জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামালের আমদানি প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। যদিও এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নতুন করে চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতিরিক্ত শুল্কের ফলে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতারা কম শুল্কের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকতে পারেন। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ভবিষ্যতে কোনো দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার নির্ধারণে শ্রম অধিকার, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা, মানবাধিকার ও শিল্পনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশ্য শুনানি করবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। এর আগে সোমবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশ, ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের লিখিত মতামত জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য, লিখিত মতামত ও বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে তদন্তের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

শুনানিতে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকাশ্য শুনানিতে বাংলাদেশ সরকার অংশ নিচ্ছে না। সরকারের অবস্থান হলো, প্রকাশ্য শুনানির পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান করা হবে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুনানিতে অংশ নিয়ে তথ্য-উপাত্তসহ বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিত এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের যুক্তি আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হতো।

কেন তদন্ত

গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য বা কাঁচামালের আমদানি নিষিদ্ধ করতে কিংবা কার্যকরভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আংশিক বা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশগুলোর ওপর ১০ শতাংশ এবং কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া দেশগুলোর ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

বাংলাদেশ সরকার এবং তৈরি পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা শুরু থেকেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তাদের দাবি, দেশের কোনো রফতানিমুখী শিল্পে জোরপূর্বক শ্রমের চর্চা নেই। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গণমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি কোনো পণ্য বা কাঁচামাল আমদানি করে না এবং দেশের কোনো রফতানিমুখী শিল্পেই জোরপূর্বক শ্রমের চর্চা নেই। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলও গণমাধ্যমকে জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও ক্রেতাদের মান-অনুসরণ নীতিমালা মেনেই বাংলাদেশের শিল্প পরিচালিত হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ভিয়েতনাম, ভারত, মেক্সিকো কিংবা মধ্য আমেরিকার বিকল্প সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এর ফলে নতুন ক্রয়াদেশ কমে যেতে পারে। রফতানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

আরও একটি তদন্ত চলছে

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়েও পৃথক তদন্ত চলছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট শিল্পকে এই তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু কূটনৈতিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শ্রমমান, সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মান-অনুসরণ বিষয়ে তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জেটিভি নিউজ বাংলার পর্যবেক্ষণ

বিশ্ব বাণিজ্যের বাস্তবতা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন শুধু কম খরচে পণ্য উৎপাদন করলেই আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা সম্ভব নয়। দায়িত্বশীল উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকার, পরিবেশগত মান এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বচ্ছতা ভবিষ্যতের বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আন্তর্জাতিক আস্থা ধরে রেখে রফতানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখা।   জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে.....