জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার ইং,সময়: দুপুর ০২:৪১ মিনিট।সাইবার যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সাইবার যুদ্ধ, তথ্যযুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং ড্রোন যুদ্ধের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)সহ প্রতিটি বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে পিজিআরের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পিজিআরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং সব সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ—এসব নতুন ক্ষেত্রকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের আরও দক্ষ ও প্রস্তুত করে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ যথাযথভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারত্ব বজায় রাখে, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব কখনোই হুমকির মুখে পড়বে না। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’—এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে পিজিআরের সদস্যরা আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহস এবং দেশপ্রেমের শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে তাঁর জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক স্মৃতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ে। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান শাহাদাত বরণ করার সময় দায়িত্ব পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হন। তিনি এদিন সেই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়ণতা এবং জীবন উৎসর্গের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই আত্মত্যাগ পিজিআরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালের এই দিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করে। পরে একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ইউনিটটির নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)’ রাখেন। তিনি বলেন, এই নতুন নামকরণ বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও আত্মপ্রত্যয়ী ও গতিশীল করতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। পিজিআরের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ী নাম। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর বাবা-মা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় কিশোর বয়স থেকেই পিজিআরের কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। তিনি বলেন, পিজিআরের দায়িত্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বও বাহিনীটির ওপর বর্তায়। এসব দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পিজিআরের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যপরায়ণতা বাহিনীটিকে একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি পিজিআরকে নিয়ে সরকারের ইতিবাচক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....

ডেস্ক রিপোর্ট 




















