সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি আদালতের, তদন্তে নতুন মাত্রা
জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১০ জুন ২০২৬ ইং,সময়: বুধবার সন্ধ্যা ০৭:০৫ মিনিট। চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বহুল আলোচিত এই মামলার তদন্তের স্বার্থে পুনরায় ময়নাতদন্ত এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মরদেহ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর আইনজীবী আবিদ হাসান। বুধবার ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দেন। একইসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা গত ২০ মে আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ পুনরায় উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা এবং সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তবে মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর আইনজীবী আবিদ হাসান বলেন, নতুন করে সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ায় তাদের একটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন। সে কারণেই মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে। তবে প্রায় ৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করে কার্যকর কোনো আলামত পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। এ কারণেই আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। আদালতের নির্দেশে সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গত বছরের ২০ অক্টোবর নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুন দিন ধার্য রয়েছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের এই মামলার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ওইদিন ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসায় রহস্যজনকভাবে মারা যান জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। মৃত্যুর পর প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। পরবর্তীতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, র্যাব, পিবিআইসহ একাধিক সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করলেও হত্যার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে জানায়, ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পারিবারিক কলহ এবং মানসিক অস্থিরতার কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে এসব তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হননি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তিনি ধারাবাহিকভাবে নতুন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। আদালত সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর অভিযোগ এবং রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে হত্যা করেন। সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর মরদেহ উত্তোলনের এই আদালতের সিদ্ধান্ত মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন সবার নজর সিআইডির চলমান তদন্ত, পুনরায় ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য নতুন আলামতের দিকে।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে.....

ডেস্ক রিপোর্ট 






















