ঢাকা , শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বাজারে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে গুলিবর্ষণ নয়াপল্টনের সমাবেশ স্থগিত, ঢাকার বিভিন্ন আসনে জনসভা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা নির্বাচনি দায়িত্ব পবিত্র আমানত, নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই নৈতিক দায়িত্ব: সিআইডি প্রধান মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন এক্সিম ব্যাংক বসুন্ধরা শাখায় হামলার ভিডিও ভাইরাল দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার ইসহাক সরকার ২০ বছর পর বরিশালের মাটিতে তারেক রহমান বেলস পার্কে নির্বাচনি সমাবেশ, কানায় কানায় ভিড় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে রিট খারিজ ঢাকা-১১ আসনে ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতায় বাধা নেই কঠোর আইন প্রয়োগে হর্নমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা সরকারের

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

 

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল জেটিভি নিউজ বাংলা, খুলনা | নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনায় গম চাষের সোনালি দিন এখন কেবলই স্মৃতি। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এক সময় শীত মৌসুমে চাষিদের অন্যতম ভরসা ছিল গম, এখন তারা ঝুঁকছেন অধিক লাভজনক সবজি ও মাছ চাষে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনায় গমের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ২৪৮ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭৯৬ মেট্রিক টন। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.২১ মেট্রিক টন। জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গমের আবাদ হয়েছে পাইকগাছায় ৪২ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ২৪ হেক্টর ও রূপসায় ১৮ হেক্টরে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দশকে গমের আবাদ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে গমের আবাদ হয়েছিল ৬৯০ হেক্টর জমিতে, ২০১৭-১৮ তে তা নেমে আসে ১৯২ হেক্টরে। ২০২০-২১ মৌসুমে আবাদ হয় ২২১ হেক্টরে এবং গত বছর সর্বনিম্ন ১৩২ হেক্টরে গম চাষ হয়। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, গম চাষের উপযুক্ত সময় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। কিন্তু আমন ধান কাটতে দেরি হওয়ায় জমি চাষের উপযোগী হতে সময় লাগে, ফলে গম বপনে বিলম্ব ঘটে এবং ফলন কমে যায়। তার ওপর বীজবাহিত ব্লাস্ট রোগ, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গম চাষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রণোদনা না থাকাও কৃষকদের অনীহা বাড়িয়েছে। পাইকগাছার কৃষক আবুল কালাম বলেন, “গম চাষে খরচ বেশি, লাভ কম। মাছ ও সবজি চাষে আয় বেশি। তবুও কিছু জমিতে করছি, কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো গমের আবাদ বন্ধই করে দেব।” জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সামাদ বলেন, “খুলনায় গমের আবাদ ক্রমেই কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেরিতে জো আসা এবং লবণাক্ততা এর মূল কারণ। কৃষকরা লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।” তবে আশার আলো দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সম্প্রতি উদ্ভাবিত ‘বিডব্লিউএমআরআই-৪’ নামের নতুন জাতটি তাপ সহনশীল ও মরিচা রোগ প্রতিরোধী, যার গড় ফলন সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণাক্ত সহনশীল জাত উদ্ভাবন ও প্রণোদনা বাড়ানো গেলে খুলনায় আবারও আংশিকভাবে গম চাষ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বাজারে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে গুলিবর্ষণ

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল

আপডেট সময় ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
 

খুলনায় গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা

জলবায়ু পরিবর্তন ও খরচ বৃদ্ধিতে বিলুপ্তির পথে এক সময়ের জনপ্রিয় ফসল জেটিভি নিউজ বাংলা, খুলনা | নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনায় গম চাষের সোনালি দিন এখন কেবলই স্মৃতি। জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ধীরে ধীরে গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এক সময় শীত মৌসুমে চাষিদের অন্যতম ভরসা ছিল গম, এখন তারা ঝুঁকছেন অধিক লাভজনক সবজি ও মাছ চাষে। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে খুলনায় গমের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মাত্র ২৪৮ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭৯৬ মেট্রিক টন। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৩.২১ মেট্রিক টন। জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গমের আবাদ হয়েছে পাইকগাছায় ৪২ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ২৪ হেক্টর ও রূপসায় ১৮ হেক্টরে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দশকে গমের আবাদ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে গমের আবাদ হয়েছিল ৬৯০ হেক্টর জমিতে, ২০১৭-১৮ তে তা নেমে আসে ১৯২ হেক্টরে। ২০২০-২১ মৌসুমে আবাদ হয় ২২১ হেক্টরে এবং গত বছর সর্বনিম্ন ১৩২ হেক্টরে গম চাষ হয়। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, গম চাষের উপযুক্ত সময় নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। কিন্তু আমন ধান কাটতে দেরি হওয়ায় জমি চাষের উপযোগী হতে সময় লাগে, ফলে গম বপনে বিলম্ব ঘটে এবং ফলন কমে যায়। তার ওপর বীজবাহিত ব্লাস্ট রোগ, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গম চাষ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত প্রণোদনা না থাকাও কৃষকদের অনীহা বাড়িয়েছে। পাইকগাছার কৃষক আবুল কালাম বলেন, “গম চাষে খরচ বেশি, লাভ কম। মাছ ও সবজি চাষে আয় বেশি। তবুও কিছু জমিতে করছি, কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো গমের আবাদ বন্ধই করে দেব।” জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুস সামাদ বলেন, “খুলনায় গমের আবাদ ক্রমেই কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেরিতে জো আসা এবং লবণাক্ততা এর মূল কারণ। কৃষকরা লাভজনক বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।” তবে আশার আলো দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা। সম্প্রতি উদ্ভাবিত ‘বিডব্লিউএমআরআই-৪’ নামের নতুন জাতটি তাপ সহনশীল ও মরিচা রোগ প্রতিরোধী, যার গড় ফলন সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণাক্ত সহনশীল জাত উদ্ভাবন ও প্রণোদনা বাড়ানো গেলে খুলনায় আবারও আংশিকভাবে গম চাষ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।