ঢাকা , বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর সম্ভাব্য আলোচনার নতুন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পতনে পোশাক রপ্তানি, কর্মসংস্থানে শঙ্কার মেঘ কূটনীতিককে পেছন থেকে জড়িয়ে! ঈদের খুনসুটি নাকি ‘অতিরিক্ত আবেগ’—ট্রলে সরব নেটদুনিয়া পরিবারের বাইরে, দায়িত্বেই ঈদ—রাজধানীর সড়কে ব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশ ঈদের দিনেও রাজধানীতে সচল গণপরিবহন, যাত্রী কম হলেও চলছে বাস-সিএনজি ইসরায়েলে ড্রোন হামলা, নেতানিয়াহু টার্গেট ভিআইপি  বন্দিদের বিষাদময় ঈদ ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা

তরুণ ভোটারদের দিকে তাকিয়ে সিলেটের ছয় আসনের নির্বাচনি সমীকরণ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

তরুণ ভোটারদের দিকে তাকিয়ে সিলেটের ছয় আসনের নির্বাচনি সমীকরণ হাউজ: জেটিভি নিউজ বাংলা প্রকাশের তারিখ ও সময়: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | সকাল ১০টা ৪০ মিনিট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনে প্রার্থীদের জয়–পরাজয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন নতুন ও তরুণ ভোটাররা। জীবনের প্রথম ভোটে সৎ, উদ্যমী ও উন্নয়নবান্ধব জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন তারা। তরুণ ভোটারদের এই মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি প্রচারে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরাও। সিলেটের সব আসন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সিলেট-১ আসনকে বিশেষ মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে—অতীতেও এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে এবার মূলত তিনজন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তারা হলেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। প্রতিদিনই প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি, বারবার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব এবং শিল্পকারখানার অভাব—এসব বিষয় প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রার্থীদের ভাষ্য, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক শিক্ষিত তরুণ দেশ ছাড়ছেন, যা সিলেটের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল মাজিদ বলেন, প্রার্থীরা নিয়মিত প্রচারে আসছেন এবং তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তরুণ সমাজকে নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। নগরীর পাঠানটুলা এলাকার তরুণ ভোটার রায়হান আহমেদ জানান, তিনি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান। তার মতে, উন্নয়ন যেন কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নাগরিক সেবায় অগ্রাধিকার দেওয়া প্রার্থীকেই তিনি সমর্থন করতে আগ্রহী। শাহপরান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, বর্তমান প্রজন্ম রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন চায়। দুর্নীতি ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়ে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তরুণরাই তার রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে সরকার ও দলীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। তার মতে, তরুণ সমাজ পরিবর্তনের বাংলাদেশ দেখতে চায় এবং স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি চায় না। এদিকে সিলেট-৪ আসনেও নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ছে। পর্যটনসমৃদ্ধ এই আসনে জাফলং ও সাদা পাথর এলাকায় লুটপাট এবং পরিবেশ ধ্বংস বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখানে বিএনপির প্রার্থী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াত প্রার্থী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, আরিফুল হক চৌধুরী বহিরাগত হলেও তার রাজনৈতিক পরিচিতি বড় শক্তি। অপরদিকে জয়নাল আবেদিন এলাকার সন্তান হওয়ায় স্থানীয় সমর্থনে এগিয়ে থাকতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই আসনেও শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে তরুণ ভোটারদের ভোট। সিলেট-৪ আসনের তরুণ ভোটার জয় তালুকদার জানান, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবার প্রায় দুই লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই তরুণ। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সিলেট গড়ার প্রতিশ্রুতিই তারা প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা করছেন। এক নির্বাচনি সভায় বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘদিন ধরে এই সমাজকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।       জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

তরুণ ভোটারদের দিকে তাকিয়ে সিলেটের ছয় আসনের নির্বাচনি সমীকরণ

আপডেট সময় ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
তরুণ ভোটারদের দিকে তাকিয়ে সিলেটের ছয় আসনের নির্বাচনি সমীকরণ হাউজ: জেটিভি নিউজ বাংলা প্রকাশের তারিখ ও সময়: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | সকাল ১০টা ৪০ মিনিট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনে প্রার্থীদের জয়–পরাজয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন নতুন ও তরুণ ভোটাররা। জীবনের প্রথম ভোটে সৎ, উদ্যমী ও উন্নয়নবান্ধব জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন তারা। তরুণ ভোটারদের এই মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি প্রচারে বাড়তি মনোযোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থীরাও। সিলেটের সব আসন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সিলেট-১ আসনকে বিশেষ মর্যাদার আসন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হন, সেই দলই সরকার গঠন করে—অতীতেও এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে এবার মূলত তিনজন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তারা হলেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান। প্রতিদিনই প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সিলেট অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি, বারবার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব এবং শিল্পকারখানার অভাব—এসব বিষয় প্রচারণায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রার্থীদের ভাষ্য, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক শিক্ষিত তরুণ দেশ ছাড়ছেন, যা সিলেটের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল মাজিদ বলেন, প্রার্থীরা নিয়মিত প্রচারে আসছেন এবং তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। তিনি বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তরুণ সমাজকে নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। নগরীর পাঠানটুলা এলাকার তরুণ ভোটার রায়হান আহমেদ জানান, তিনি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান। তার মতে, উন্নয়ন যেন কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও নাগরিক সেবায় অগ্রাধিকার দেওয়া প্রার্থীকেই তিনি সমর্থন করতে আগ্রহী। শাহপরান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, বর্তমান প্রজন্ম রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন চায়। দুর্নীতি ও সহিংসতার রাজনীতি পরিহার করে যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তরুণদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়ে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তরুণরাই তার রাজনৈতিক অগ্রাধিকার। কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে সরকার ও দলীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ। তার মতে, তরুণ সমাজ পরিবর্তনের বাংলাদেশ দেখতে চায় এবং স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি চায় না। এদিকে সিলেট-৪ আসনেও নির্বাচনি উত্তাপ বাড়ছে। পর্যটনসমৃদ্ধ এই আসনে জাফলং ও সাদা পাথর এলাকায় লুটপাট এবং পরিবেশ ধ্বংস বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এখানে বিএনপির প্রার্থী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জামায়াত প্রার্থী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, আরিফুল হক চৌধুরী বহিরাগত হলেও তার রাজনৈতিক পরিচিতি বড় শক্তি। অপরদিকে জয়নাল আবেদিন এলাকার সন্তান হওয়ায় স্থানীয় সমর্থনে এগিয়ে থাকতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই আসনেও শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে তরুণ ভোটারদের ভোট। সিলেট-৪ আসনের তরুণ ভোটার জয় তালুকদার জানান, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবার প্রায় দুই লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই তরুণ। কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সিলেট গড়ার প্রতিশ্রুতিই তারা প্রার্থীদের কাছে প্রত্যাশা করছেন। এক নির্বাচনি সভায় বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তরুণরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। দীর্ঘদিন ধরে এই সমাজকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।       জেটিভি নিউজ বাংলা 

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...