জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০৬ জুন ২০২৬, শনিবার ইং,সময়: রাত ১১:২৩ মিনিট।নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয়সহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে ছাত্রদল সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা খবর পান যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে কালাদরাপ ইউনিয়নে একটি মিছিল বের করেছেন। পরে কর্মসূচি শেষ করে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে তারা কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় মিছিল ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার করা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং চেয়ারম্যানের সমর্থকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ অন্তত ছয়জন আহত হন। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল বলেন, “চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।” অন্যদিকে, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, “পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন।” আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। — জেটিভি নিউজ বাংলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি 



















