ঢাকা , শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএমপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর হামের পর এবার ডেঙ্গুর প্রকোপে বিপর্যস্ত ময়মনসিংহ, হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম সরকারি অর্থ সাশ্রয় করে ৪০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ফেরত, শাহরাস্তিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি খাল খনন আফতাবনগর প্রকল্পের ভেতরে ২১ কোটি টাকার সরকারি খাস জমি উদ্ধার দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ও উসকানি ছড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপরাধ অনেক নিয়ন্ত্রণে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাড়িবহর ছাড়াই সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ভর্তুকির সার সাগরপথে নিয়মিত মিয়ানমারে পাচার, দুই মাসে জব্দ ৩ হাজার ৩১০ বস্তা

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির ৪০টিরও বেশি এলাকা প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রায় ৫০০ পরিবার

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় সকাল ০৯:৫০ মিনিট।

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির ৪০টিরও বেশি এলাকা প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রায় ৫০০ পরিবার

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলায় পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। জেলার চেংগী, ফেনী ও মাইনী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ৪০টিরও বেশি এলাকায় পানি উঠেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঘরবাড়িতেও পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, দিঘীনালার মেরুং, কবাখালী ও পাবলাখালী; খাগড়াছড়ি সদরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, কালাডেবা ও গোলাবাড়ি; রামগড়ের কলসির মুখ, কালাডেবা ও সোনাইফুলসহ বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৪০টি নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকার বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, বৃষ্টি না হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যেতে পারে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। অন্যদিকে, পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ, কুমিল্লাটিলা ও শালবন; দিঘীনালা উপজেলার পশ্চিম কাঠালতলী, মধ্য বোয়ালখালী ও রশিক নগর; মাটিরাঙা উপজেলার আলুটিলা, নতুনপাড়া, নবীনগর ও কাঁঠালতলী; রামগড় উপজেলার বলিটিলা, লাচারী পাড়া ও কালাডেবা; মানিকছড়ি উপজেলার মুসলিমপাড়া, গচ্ছাবিল ও কুমারী; এবং গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক, হাফছড়ি ও ডাক্তার টিলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে পাহাড়ধস হতে পারে। এ নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন।” শালবন এলাকার বাসিন্দা জরিনা বেগম বলেন, “বর্ষা এলেই পাহাড়ধসের আতঙ্ক ফিরে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে অন্যত্র সরে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সঙ্গে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।” ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, “টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে।” খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে...

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

দরিদ্রদের চাল ব্যবসায়ীর গুদামে! নাটোরে ৭৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির ৪০টিরও বেশি এলাকা প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রায় ৫০০ পরিবার

আপডেট সময় ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় সকাল ০৯:৫০ মিনিট।

টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির ৪০টিরও বেশি এলাকা প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রায় ৫০০ পরিবার

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলায় পাহাড়ধসের আশঙ্কাও বেড়েছে। জেলার চেংগী, ফেনী ও মাইনী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত ৪০টিরও বেশি এলাকায় পানি উঠেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঘরবাড়িতেও পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, দিঘীনালার মেরুং, কবাখালী ও পাবলাখালী; খাগড়াছড়ি সদরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, কালাডেবা ও গোলাবাড়ি; রামগড়ের কলসির মুখ, কালাডেবা ও সোনাইফুলসহ বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৪০টি নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকার বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, বৃষ্টি না হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যেতে পারে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। অন্যদিকে, পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ, কুমিল্লাটিলা ও শালবন; দিঘীনালা উপজেলার পশ্চিম কাঠালতলী, মধ্য বোয়ালখালী ও রশিক নগর; মাটিরাঙা উপজেলার আলুটিলা, নতুনপাড়া, নবীনগর ও কাঁঠালতলী; রামগড় উপজেলার বলিটিলা, লাচারী পাড়া ও কালাডেবা; মানিকছড়ি উপজেলার মুসলিমপাড়া, গচ্ছাবিল ও কুমারী; এবং গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক, হাফছড়ি ও ডাক্তার টিলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০০ পরিবার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। খাগড়াছড়ি সদরের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি হলে পাহাড়ধস হতে পারে। এ নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন।” শালবন এলাকার বাসিন্দা জরিনা বেগম বলেন, “বর্ষা এলেই পাহাড়ধসের আতঙ্ক ফিরে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে অন্যত্র সরে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সঙ্গে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।” ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, “টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে।” খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে...