জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ :০৮ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় ঃ বিকাল ০৫:৪০ মিনিট।কুকুর-বিড়াল পালনের বাড়তি প্রবণতা: ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতার প্রয়োজন
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কুকুর ও বিড়াল পালনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একসময় বাড়ির বাইরে সীমিতভাবে প্রাণী পালন হলেও এখন অনেক পরিবার পোষ্য প্রাণীকে ঘরের ভেতরে, এমনকি বিছানা, সোফা ও পারিবারিক বসবাসের স্থানেও অবাধে চলাফেরার সুযোগ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে পোষ্য প্রাণীকে পরিবারের সদস্যের মতো একই বিছানায় রাখা, কোলে নেওয়া বা খাবারের স্থানেও নিয়ে আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে ধর্মীয়, স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কুকুর পালনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। শরিয়তে বাড়িঘর, ফসল বা গবাদিপশুর নিরাপত্তা এবং শিকারের মতো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কুকুর রাখার অনুমতি থাকলেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঘরের ভেতরে কুকুর রাখাকে বিভিন্ন সহিহ হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিড়াল পালন বৈধ হলেও ইসলাম সর্বাবস্থায় পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কুকুর বা বিড়ালের লোম, লালা এবং শরীরে থাকা কিছু জীবাণু বা পরজীবী পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলে ঘরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, নবজাতক, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের সমস্যা বা কিছু সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এছাড়া পোষ্য প্রাণী যদি নিয়মিত টিকা, কৃমিনাশক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা না পায়, তাহলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, পোষ্য প্রাণীকে রান্নাঘর, খাবার সংরক্ষণের স্থান এবং শিশুদের ঘুমানোর বিছানায় অবাধে চলাফেরা করতে না দেওয়া, নিয়মিত গোসল ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা, লোম পরিষ্কার রাখা এবং প্রাণী স্পর্শ করার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। একই সঙ্গে শিশুদের পোষ্য প্রাণীর সঙ্গে মেলামেশার সময় অভিভাবকের নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে অনেক পরিবার পোষ্য প্রাণীকে মানুষের মতো একই জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তুলছেন। তবে যে কোনো সংস্কৃতি গ্রহণের আগে ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্থানীয় সামাজিক বাস্তবতা এবং জনস্বাস্থ্যের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, পোষ্য প্রাণীর প্রতি মানবিক আচরণ যেমন জরুরি, তেমনি ধর্মীয় নির্দেশনা, পারিবারিক পরিচ্ছন্নতা এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা, দায়িত্বশীলতা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই মানুষ ও প্রাণীর নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। জেটিভি নিউজ বাংলা দেশ ও দশের কথা বলে....

ডেস্ক রিপোর্ট 





















