ঢাকা , শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বাজারে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে গুলিবর্ষণ নয়াপল্টনের সমাবেশ স্থগিত, ঢাকার বিভিন্ন আসনে জনসভা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা নির্বাচনি দায়িত্ব পবিত্র আমানত, নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই নৈতিক দায়িত্ব: সিআইডি প্রধান মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন এক্সিম ব্যাংক বসুন্ধরা শাখায় হামলার ভিডিও ভাইরাল দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার ইসহাক সরকার ২০ বছর পর বরিশালের মাটিতে তারেক রহমান বেলস পার্কে নির্বাচনি সমাবেশ, কানায় কানায় ভিড় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে রিট খারিজ ঢাকা-১১ আসনে ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতায় বাধা নেই কঠোর আইন প্রয়োগে হর্নমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা সরকারের

গুরুদাসপুরে প্রকৃতির বিস্ময়—১৩ মাথাওয়ালা নারকেল গাছ!

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

 
জে টিভি নিউজ বাংলা | নাটোর প্রতিনিধি 📅 প্রকাশ: শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি—১৩ মাথাওয়ালা একটি নারকেল গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একঝাঁক নারকেল গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়—এটি আসলে একক কাণ্ড থেকে জন্ম নেওয়া ১৩টি মাথাওয়ালা একটিমাত্র গাছ। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘কুদরতি নিদর্শন’ হিসেবে। বিরল এই গাছটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। কেউ গাছটির মাথা গুনছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিস্ময়ের গল্প। শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটির একসময় মাথা ছিল ১৪টি। বর্তমানে ১৩টি মাথা সবুজ ও সতেজ রয়েছে। প্রতিটি মাথায় ঘন পাতার বিন্যাস এমনভাবে ছড়ানো যে দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন এক শিল্পকর্ম এঁকেছে। কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম জানান, “গাছটির বয়স প্রায় ২৫ থেকে ২৬ বছর। লাগানোর পর কয়েক বছরের মধ্যেই কাণ্ডে একাধিক মাথা গজাতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে মাথার সংখ্যা বেড়েছে, আবার কিছু শুকিয়েও গেছে। বর্তমানে ১৩টি টিকে আছে। কলেজের পক্ষ থেকে নিয়মিত সার ও ওষুধ দিয়ে পরিচর্যা করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনে এমন গাছ আর দেখিনি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই গাছ দেখতে, বিস্মিত হয়। এটি নিঃসন্দেহে প্রকৃতির এক অনন্য রূপ।” স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, “একটি নারকেল গাছের এতগুলো মাথা—এমন দৃশ্য আমি আর কোথাও দেখিনি। এটি আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন। এখন গাছের ১৪টি মাথা, যার ১৩টি সতেজ। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এটি দেখতে, আমাদের জন্য এটি গর্বের বিষয়।” গাছটি ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে উচ্ছ্বাস। কাছিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম জানায়, “নারিকেল গাছের এত মাথা দেখতে অনেক মানুষ আমাদের স্কুলে আসে। সবাই খুশি হয়, আমরাও খুব ভালো লাগি।” গাছটি দেখতে আসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাহাদুরপুরের মকবুল হোসেন (৬০) বলেন, “বাজারে এসে শুনলাম এখানে এক বহুমাথার নারকেল গাছ আছে। পরে এসে দেখি সত্যিই ১৪টি মাথা। এটা আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন ছাড়া কিছুই না।” এলাকাবাসীর দাবি, গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে এলাকার পরিচিতি যেমন বাড়বে, তেমনি দর্শনার্থীরাও কাছ থেকে প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য উপভোগের সুযোগ পাবেন। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, “একটি নারকেল গাছের ১৩-১৪টি মাথা হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এটি জেনেটিক কারণে হয়েছে। গাছটির কারণে এই এলাকা এখন দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাছটি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আরও দর্শনীয় রূপ নেয়—সে বিষয়ে কৃষি অফিস সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।”
 
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বাজারে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে গুলিবর্ষণ

গুরুদাসপুরে প্রকৃতির বিস্ময়—১৩ মাথাওয়ালা নারকেল গাছ!

আপডেট সময় ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
 
জে টিভি নিউজ বাংলা | নাটোর প্রতিনিধি 📅 প্রকাশ: শনিবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আছে প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি—১৩ মাথাওয়ালা একটি নারকেল গাছ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একঝাঁক নারকেল গাছ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। তবে কাছে গেলেই বোঝা যায়—এটি আসলে একক কাণ্ড থেকে জন্ম নেওয়া ১৩টি মাথাওয়ালা একটিমাত্র গাছ। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিতি পেয়েছে ‘কুদরতি নিদর্শন’ হিসেবে। বিরল এই গাছটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। কেউ গাছটির মাথা গুনছেন, কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বিস্ময়ের গল্প। শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছটির একসময় মাথা ছিল ১৪টি। বর্তমানে ১৩টি মাথা সবুজ ও সতেজ রয়েছে। প্রতিটি মাথায় ঘন পাতার বিন্যাস এমনভাবে ছড়ানো যে দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন এক শিল্পকর্ম এঁকেছে। কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক নজরুল ইসলাম জানান, “গাছটির বয়স প্রায় ২৫ থেকে ২৬ বছর। লাগানোর পর কয়েক বছরের মধ্যেই কাণ্ডে একাধিক মাথা গজাতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে মাথার সংখ্যা বেড়েছে, আবার কিছু শুকিয়েও গেছে। বর্তমানে ১৩টি টিকে আছে। কলেজের পক্ষ থেকে নিয়মিত সার ও ওষুধ দিয়ে পরিচর্যা করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনে এমন গাছ আর দেখিনি। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই গাছ দেখতে, বিস্মিত হয়। এটি নিঃসন্দেহে প্রকৃতির এক অনন্য রূপ।” স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, “একটি নারকেল গাছের এতগুলো মাথা—এমন দৃশ্য আমি আর কোথাও দেখিনি। এটি আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন। এখন গাছের ১৪টি মাথা, যার ১৩টি সতেজ। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে এটি দেখতে, আমাদের জন্য এটি গর্বের বিষয়।” গাছটি ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মাঝেও রয়েছে উচ্ছ্বাস। কাছিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম জানায়, “নারিকেল গাছের এত মাথা দেখতে অনেক মানুষ আমাদের স্কুলে আসে। সবাই খুশি হয়, আমরাও খুব ভালো লাগি।” গাছটি দেখতে আসা পাবনার চাটমোহর উপজেলার বাহাদুরপুরের মকবুল হোসেন (৬০) বলেন, “বাজারে এসে শুনলাম এখানে এক বহুমাথার নারকেল গাছ আছে। পরে এসে দেখি সত্যিই ১৪টি মাথা। এটা আল্লাহর কুদরতি নিদর্শন ছাড়া কিছুই না।” এলাকাবাসীর দাবি, গাছটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এতে এলাকার পরিচিতি যেমন বাড়বে, তেমনি দর্শনার্থীরাও কাছ থেকে প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য উপভোগের সুযোগ পাবেন। গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে. এম. রাফিউল ইসলাম বলেন, “একটি নারকেল গাছের ১৩-১৪টি মাথা হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এটি জেনেটিক কারণে হয়েছে। গাছটির কারণে এই এলাকা এখন দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। সঠিক পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাছটি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আরও দর্শনীয় রূপ নেয়—সে বিষয়ে কৃষি অফিস সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।”