জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ :২৮ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় বেলা ১১:৫০ মিনিট।
বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়ে চাপের অভিযোগ: খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে দিশেহারা মানুষ, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক | জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত অঞ্চলে, বিশেষ করে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যার কারণে হাজারো পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি ও জীবিকার উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক পরিবার আজ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে পানিবন্দি অবস্থায় মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তি আদায়ে বিভিন্ন এনজিওর মাঠপর্যায়ের কর্মীরা চাপ সৃষ্টি করছেন বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, দুর্যোগের এই সময়ে পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করাই যেখানে সবচেয়ে বড় সংগ্রাম, সেখানে সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তি পরিশোধ করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্যার কারণে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে, দিনমজুররা কাজ হারিয়েছেন, কৃষকদের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে এবং গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে অধিকাংশ ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতার আয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এমন অবস্থায় কিস্তি পরিশোধের চাপ তাদের মানসিক ও আর্থিক সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কক্সবাজারের এক ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতা
জেটিভি নিউজ বাংলাকে বলেন,
“বন্যার আগে কিস্তির জন্য যে চাপ ছিল, এখন তার চেয়েও বেশি চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ঘরে খাবার নেই, সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব সেটাই বুঝতে পারছি না। কিস্তি দেওয়ার মতো কোনো সামর্থ্য নেই। মনে হচ্ছে আমরা বেঁচে থেকেও মৃতের মতো জীবন কাটাচ্ছি।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমরা ঋণ পরিশোধ করতে চাই। কিন্তু যখন ঘর পানির নিচে, কাজ নেই, আয় নেই, তখন কিস্তি দেব কীভাবে? এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানবিক সহায়তা, কিস্তির চাপ নয়।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে কিস্তি আদায়ে চাপ না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বলে তারা জেনেছেন। তাই মাঠপর্যায়ে সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
জেটিভি নিউজ বাংলা তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতাদের প্রতি নমনীয় নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। কারণ দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে মানুষের পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনের সুযোগ সৃষ্টি না হলে ঋণের চাপ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
বন্যাদুর্গত এলাকার ভুক্তভোগীরা সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেছেন, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় এবং পুনর্বাসনের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়ে কোনো ধরনের চাপ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মানবিক বিপর্যয়ের এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রত্যাশা—জীবন রক্ষাই হোক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা বিশ্বাস করেন, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মানবিক আচরণই দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাবে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে....