জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ ঃ ২৮ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় সকাল ০৯:৪২ মিনিট।‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ; বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চালু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম আসরের জাতীয় পর্বের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন এবং ক্ষুদে ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে লোগো ও ট্রফি উন্মোচনের মাধ্যমে কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের (দাবায় ৮ বছর থেকে) অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ক্রীড়া প্রতিভা শনাক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনা। প্রথম আসরে সারা দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বাছাই প্রতিযোগিতায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিশু-কিশোর অংশ নেয়। সেখান থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীরা আঞ্চলিক পর্ব অতিক্রম করে জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এবারের আসরে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট—এই আটটি ডিসিপ্লিনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় আসরে ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হওয়ায় ইভেন্টের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে উন্নীত হবে। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি বিভাগীয় শহরে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী আসরের জন্য ইতোমধ্যে ১ জুলাই থেকে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।বিভিন্ন ইভেন্টের ফলাফল
ফুটবল: বালক বিভাগে সিলেট অঞ্চল ফাইনালে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন আরমান খান জিসান। বালিকা বিভাগে রংপুর অঞ্চল ৪-০ গোলে রাজশাহী অঞ্চলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। ক্রিকেট: বালক বিভাগে বৃষ্টি আইনে রাজশাহী অঞ্চল রংপুর অঞ্চলকে ১৯ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। বালিকা বিভাগে ঢাকা অঞ্চল একই ব্যবধানে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয়। কাবাডি: বালক বিভাগে সিলেট এবং বালিকা বিভাগে রংপুর অঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অ্যাথলেটিক্স: ২০০ মিটার স্প্রিন্টে বালক বিভাগে রাজশাহীর মোহাম্মদ আমান এবং ১০০ মিটারে খুলনার জাকির হোসেন চ্যাম্পিয়ন হন। বালিকা বিভাগে ১০০ ও ২০০ মিটার—দুই ইভেন্টেই ঢাকার মারিয়া শিরোপা জেতেন। ব্যাডমিন্টন: বালিকা দ্বৈত বিভাগে খুলনার রাহমা জান্না ও তাসনিয়া ইসলাম জুটি চ্যাম্পিয়ন হয়। রাহমা জান্না একক ও দ্বৈত—উভয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডাবল ক্রাউন অর্জন করেন। বালক এককে চট্টগ্রাম অঞ্চলের রুদ্র ত্রিপুরা এবং দ্বৈত বিভাগে খুলনার শেখ মোহাম্মদ তানভীর ও রিফাতুল ইসলাম জুটি শিরোপা জিতে নেয়। দাবা: বালিকা বিভাগে ওয়ার্সিয়া খুশবু সাত ম্যাচে সাতটি জয় নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হন। বালক বিভাগে ঢাকা অঞ্চলের আওসাফ চৌধুরী চ্যাম্পিয়ন হন। সাঁতার: বালিকা ৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইলে কুষ্টিয়ার সাদিয়া চ্যাম্পিয়ন হন। লং জাম্প: মেয়েদের লং জাম্পে ফরিদপুরের ইমা খান চ্যাম্পিয়ন হন। কারাতে: ৪৫ কেজির নিচে বালক বিভাগে ফরিদপুরের ফাইয়াজ রহমান এবং বালিকা বিভাগে ঢাকার ওয়ারিশা ওয়াইনিয়া চ্যাম্পিয়ন হন। সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণ ও মহিলা-শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আজকের শিশুরা যদি আগামী দিনে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।” তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলার মাধ্যমে দক্ষ, সুস্থ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রতিযোগিতাটি চার ধাপে—উপজেলা, জেলা, আঞ্চলিক (১০ অঞ্চল) এবং জাতীয় পর্যায়ে—পরিচালিত হয়েছে। আয়োজকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী ও সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তির সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ফোনের আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় পর্যায়সহ বিভিন্ন ইভেন্টে যারা সেরা পারফরম্যান্স করবে, তাদের বিকেএসপিতে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকার বহন করবে।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে.....

ডেস্ক রিপোর্ট 






















