জেটিভি নিউজ বাংলা
কঠিন সময়ে ছোট ছোট আনন্দই মানসিক শক্তির উৎস, জানালেন বিশ্বের ২১ খ্যাতিমান ব্যক্তি
তারিখ: ২২ জুলাই ২০২৬, বুধবার,সনয় :সন্ধ্যা ০৬:৪১ মিনিট। ডেস্ক রিপোর্ট: জীবনের সব দিন এক রকম নয়। কিছু দিন অন্য দিনের তুলনায় বেশি কঠিন হয়ে ওঠে। এমন সময়ে প্রায় সবারই প্রয়োজন হয় একটু বিরতি, নিজের জন্য কিছুটা সময় কিংবা ছোট্ট কোনো আনন্দের মুহূর্ত। অনেক সময় সেই ছোট্ট আনন্দই দিনের বাকি সময়টুকু সামলানোর শক্তি জোগায়। বিশ্বের বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিরা—অভিনেতা, লেখক, উদ্যোক্তা, শিল্পী ও সৃজনশীল পেশাজীবীরা—জানিয়েছেন, মানসিক চাপের সময়ে তারা কীভাবে নিজেদের জন্য ছোট ছোট আনন্দ বা ‘লিটল ট্রিট’ খুঁজে নেন। লেখক আইরিস মারডক তাঁর ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত বুকার পুরস্কারজয়ী উপন্যাস দ্য সি, দ্য সি-তে লিখেছিলেন, “সুখী জীবনের অন্যতম রহস্য হলো নিয়মিত ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করা। আর সেগুলোর কিছু যদি কম খরচে ও সহজে পাওয়া যায়, তাহলে তো আরও ভালো।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে, জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ‘লিটল ট্রিট কালচার’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই ধারণা মানুষকে জীবনের ছোট ছোট আনন্দ উপভোগ করতে এবং তা নিয়ে অপরাধবোধে না ভুগতে উৎসাহিত করছে। উচ্চচাপের পেশায় থাকা বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কঠিন সময়ে তাদের সবচেয়ে প্রিয় ছোট্ট আনন্দ কী। তাদের উত্তরগুলো ছিল সহজ, বাস্তব এবং অনুপ্রেরণাদায়ক।১. সোফি বাডল, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান ও লেখক
নিজেকে দেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার হলো কোনো অ্যালার্ম ছাড়াই যতক্ষণ ইচ্ছা ঘুমানো। নিজের জন্য অতিরিক্ত ঘুমের সময় বের করে নেওয়াকেই তিনি সবচেয়ে বড় বিলাসিতা মনে করেন।২. পল টাজওয়েল, অস্কারজয়ী কস্টিউম ডিজাইনার (উইকড)
তিনি নিয়মিত ম্যানিকিউর-পেডিকিউর করান, তবে নেইলপলিশ নয়—বাফড ফিনিশ পছন্দ করেন। এতে নিজের হাতের দিকে তাকালেই মনে হয়, নিজের যত্ন নেওয়ার জন্য সময় দিয়েছেন।৩. মার্কাস স্যামুয়েলসন, শেফ
দিনের শুরুতে নাশতা তৈরি, ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং এরপর স্ত্রীকে নিয়ে পার্কে হাঁটতে যাওয়াই তার মানসিক প্রশান্তির সবচেয়ে মূল্যবান সময়।৪. নাটালি ভেনেশিয়া বেলকন, ব্রডওয়ে অভিনেত্রী (বুয়েনা ভিস্তা সোশ্যাল ক্লাব)
স্টিম শাওয়ার নেওয়া, আরাম করে সময় কাটানো এবং সুযোগ পেলে নিজের বাসায় তিন ঘণ্টার ম্যাসাজ—এসবই তার কাছে বিশেষ আনন্দ।৫. রিচার্ড কিন্ড, অভিনেতা
হৃদ্স্বাস্থ্য ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাঝে মাঝে নিজেকে পুরস্কার দেন চেডার চিজ, বেকন ও ডিম দেওয়া ব্যাগেল স্যান্ডউইচ খেয়ে।৬. কার্টিস সিটেনফেল্ড, লেখক
তার প্রতিদিনের ছোট্ট আনন্দ হলো ডার্ক চকোলেট খাওয়া।৭. হিদার পুল, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও লেখক
যাত্রাবিরতির সময় একা বসে ভালো কোনো খাবার উপভোগ করাই তার কাছে বিলাসিতা।৮. কনি বাটলার, মোএমএ পিএস ১-এর পরিচালক
পিলাটিস তার কাছে শুধু ব্যায়াম নয়, বরং ধ্যানের মতো গভীর মনোযোগের অনুশীলন, যা তাকে মানসিকভাবে শক্ত রাখে।৯. ইন্ডিয়ানা উডওয়ার্ড, নিউইয়র্ক সিটি ব্যালের প্রধান নৃত্যশিল্পী
প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকতে তিনি বাথহাউসে সময় কাটান। বিশেষ করে রাশিয়ান বাথ তার খুব পছন্দ।১০. ড্যান বুলা, স্যাটারডে নাইট লাইভের লেখক
দীর্ঘ সময় লেখালেখির পর কিছু সময়ের জন্য অনলাইনে দ্রুতগতির দাবা খেলেন, যা মনকে অন্যদিকে নিয়ে যায়।১১. বার্নাডেট পিটার্স, অভিনেত্রী ও গায়িকা
নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে চার গুনে ধরে রেখে মুখ দিয়ে ছাড়ার অনুশীলন ছয়বার করেন। এতে তিনি দ্রুত মানসিক প্রশান্তি অনুভব করেন।১২. সারা ম্যাকন্যালি, ম্যাকন্যালি জ্যাকসন বুকসের মালিক
ছেলেকে জড়িয়ে ধরা তাকে মানসিকভাবে স্থিরতা দেয়। তার ভাষায়, জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার হলো এমন একটি পরিবার, যা কঠিন সময়েও পাশে থাকে।১৩. ডিচেন ল্যাকম্যান, ‘সেভারেন্স’-এর অভিনেত্রী
সুন্দর একটি মোমবাতি জ্বালানো, ঘর পরিষ্কার করা, ধীরে ধীরে রান্না করা কিংবা তাজা ফুল সাজানো—এসবই তার কাছে ছোট্ট শিল্পকর্মের মতো আনন্দ।১৪. ড্যান হ্যারিস, ‘১০ ভাগ হ্যাপিয়ার উইথ ড্যান হ্যারিস’ পডকাস্টের উপস্থাপক
টিকটকে কমেডি ও প্রাণীদের ভিডিও দেখে তিনি মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পান।১৫. জেসি উইলনার, ডিসকোথেক ফ্র্যাগরেন্সেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা
সব সময় একটি স্কেচবুক সঙ্গে রাখেন। সুন্দর দৃশ্য বা মুহূর্ত আঁকাই তার কাছে বিশেষ আনন্দ।১৬. মাইকেল চেকি-আজোলিনা, লেখক ও সেচ্চি’স রেস্তোরাঁর মালিক
প্রতিদিন সকালে কফির সঙ্গে সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাসই তার নিজের জন্য রাখা বিশেষ সময়।১৭. বেনজামিন অ্যাডলার, নিউইয়র্ক ফিলহারমনিকের ক্ল্যারিনেট বাদক
সম্প্রতি কে-পপের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন। অবসরে কে-পপ পরিবেশনার ভিডিও দেখতে ভালোবাসেন।১৮. শিলা ব্রিজেস, ফার্নিচার ডিজাইনার
রোমে থাকার সময় প্রতি রবিবার সীমিত বাজেট নিয়ে ফ্লি মার্কেটে যেতেন। সেখান থেকে ছোটখাটো পছন্দের জিনিস কেনাই ছিল তার আনন্দ।১৯. ডেলিয়া এফ্রন, লেখক
চাপের সময়ে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সিরিজ দেখে মানসিক স্বস্তি পান। পুরোনো ইংরেজ শহরকে ঘিরে নির্মিত এসব গল্প তার কাছে নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে হয়।২০. নিকি টসকানো, ‘লং ব্রাইট রিভার’-এর শোরানার
সঙ্গী, সাবেক স্বামী ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে বরফঠান্ডা মার্টিনি পান, এরপর সন্তানদের সঙ্গে রাতের খাবার এবং ওটিস রেডিংয়ের গান—এটাই তার কাছে আনন্দের পরিপূর্ণ মুহূর্ত।২১. স্কাই লাকোটা-লিঞ্চ, ব্রডওয়ে অভিনেতা (দ্য আউটসাইডার্স)
পুরোনো জিনিসের দোকানে ঘুরে ভালো কোনো শার্ট, প্যান্ট বা মোমবাতি খুঁজে পাওয়া তার পুরো দিনের মন ভালো করে দেয়।জেটিভি নিউজ বাংলা
দেশ ও দশের কথা বলে...

ডেস্ক রিপোর্ট 


























