ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাজশাহীতে দিনের বেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক, এক বছরে ১৬৯ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬০ কুর্মিটোলা হাসপাতালে হারিয়ে যাওয়া ৫ বছরের শিশু আলমগীরকে অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দিলেন আনসার সদস্য আষাড়িয়ারচর ব্রিজে সংস্কারকাজ, ২৩ কিলোমিটারজুড়ে যানজট বড়লেখা সীমান্তে বিজিবি-চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, ভারতীয় নাগরিক আটক দীপু মনি বললেন, ‘এখন আর জামিন চাই না, বাড়ি যাওয়ার তাড়া ফুরিয়েছে’ সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, হইচইয়ে তোপের মুখে সালাহউদ্দিন আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, প্রতি ইউনিট ২৫ টাকায় কিনবে সরকার সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১২৯ বার পেছাল, নতুন তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পোশাকবাজারে তন্তুর পরিবর্তন, তুলানির্ভরতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান আইনমন্ত্রীর

রাজশাহীতে দিনের বেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক, এক বছরে ১৬৯ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬০

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ইং,সকাল ১১:২৯ মিনিট।

রাজশাহীতে দিনের বেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক, এক বছরে ১৬৯ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬০

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে দিনের বেলাতেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে বালুবাহী ডাম্প ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে রাজশাহী জেলায় ১৬৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬০ জন। এসব দুর্ঘটনার পেছনে ট্রাক ও বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ট্রাক বা ডাম্প ট্রাক নয়, মোটরসাইকেলও সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকির কারণেই রাজশাহীর সড়কে প্রতিনিয়ত ঝরছে প্রাণ। এর পাশাপাশি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় দোকানি নিহত, আগুন দেওয়া হয় দুটি ট্রাকে

চলতি বছরের ৫ মে রাজশাহীর একটি সড়ক দুর্ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ এলাকায় একটি ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এক দোকানি নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দুটি ডাম্প ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিড়ালদহসহ ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে ডাম্প ট্রাকগুলো অতিরিক্ত গতিতে এবং নিয়ম না মেনে চলাচল করছে। কিন্তু এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন ঝুঁকি বাড়ছে এবং ঘটছে দুর্ঘটনা।

বছরের প্রথম দিনেই বালুবাহী ট্রাক ঢুকে পড়ে বাজারে, নিহত ৪

এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি একই মহাসড়কের ঝলমলিয়া বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুবাহী ট্রাক বাজারের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও কয়েকজন। এর মাত্র ২৫ দিন পর, ২৬ জানুয়ারি বেলপুকুর এলাকায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান আরও তিনজন। বছরের শুরু থেকেই একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় রাজশাহীর সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এক বছরে ১৬৯ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১৬০

রাজশাহী জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে জেলায় ১৩৫টি এবং রাজশাহী মহানগরে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এসব দুর্ঘটনায় মোট ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দুর্ঘটনা নিয়ে ১৬৯টি মামলা হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট। এছাড়া প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ট্রাক বা ডাম্প ট্রাকের কারণে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে কোনো একটি ধরনের যানবাহনকে দায়ী করার সুযোগ নেই। মোটরসাইকেল, ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, বাস, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনই দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

অতিরিক্ত গতি ও আইন অমান্য অন্যতম কারণ

সড়ক সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা। অনেক চালকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নেই। আবার অনেক যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল করলেও যথাযথ তদারকি না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। এর সঙ্গে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে বালুবাহী ডাম্প ট্রাক নিয়ে অভিযোগ বেশি। এসব ভারী যানবাহন অনেক সময় দিনের বেলাতেও দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ফলে অন্যান্য যানবাহনের চালক ও পথচারীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি।

ধারণক্ষমতার বেশি বালু-মাটি বহন করছে অনেক ডাম্প ট্রাক

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক ডাম্প ট্রাক ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বালু বা মাটি বহন করে। অতিরিক্ত মালামাল বহনের ফলে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া অনেক ট্রাকে বালু বা মাটি ঢেকে রাখার জন্য সুরক্ষা কভার ব্যবহার করা হয় না। ফলে চলন্ত অবস্থায় ট্রাক থেকে বালু, মাটি ও ধুলাবালি উড়ে অন্য যানবাহনের চালকদের দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক ও মহাসড়কে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার কারণে চালক সামনে থাকা যানবাহন বা পথচারীকে সময়মতো দেখতে না পারায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

শুধু ট্রাককে দায়ী করা ঠিক নয়: মালিক-শ্রমিক নেতারা

তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু ডাম্প ট্রাককে দায়ী করা ঠিক নয়। তাদের মতে, বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই একটি নির্দিষ্ট যানবাহনকে দায়ী করে সেটিতে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর করাও আইনসম্মত নয়। তারা বলছেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রাজশিয়ায় রয়েছে ৪১৯ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়ক

রাজশাহীতে বর্তমানে ৮৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ২৮৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মিলিয়ে রাজশাহীতে মোট ৪১৯ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। সড়কের পরিমাণের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা সেই হারে উন্নত হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাসড়কে আলাদা লেন চান পরিবহন মালিকরা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আলামিন সরকার টিটু বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। মহাসড়কে ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভটভটির জন্য আলাদা লেন বা সড়ক না থাকায় এসব যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করছে। এসব চালকের অনেকেরই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা নেই। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।’ তিনি বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজার গড়ে ওঠায় সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। এটিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।’ আলামিন সরকার টিটু আরও বলেন, ‘দেশে অদক্ষ চালকের সংখ্যাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকের পরিবর্তে হেলপারকে দিয়ে গাড়ি চালানো হয়। এর সঙ্গে বেপরোয়া গতি ও অতিরিক্ত মালামাল বহনও দুর্ঘটনার কারণ।’ তার ভাষ্যমতে, মহাসড়কগুলো ধাপে ধাপে চার লেনে উন্নীত করা এবং ইজিবাইক ও অটোরিকশার জন্য পৃথক লেন বা সড়কের ব্যবস্থা করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

সচেতনতার অভাবও বড় কারণ

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ রাজশাহী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেখানে প্রশস্ত সড়ক প্রয়োজন, সেখানে এখনও পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। যেসব স্থানে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর অধিকাংশই এক লেনের সড়ক।’ তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি চালকদের অসাবধানতা এবং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সচেতনতার অভাব। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীর সড়কগুলো অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর উপযোগী নয়। তাই গতি নিয়ন্ত্রণ করে গাড়ি চালানো উচিত। এসব সড়কে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগ নিরাপদ। এর বেশি গতিতে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।’ ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদের মতে, সরকারের কার্যকর উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

নিয়মিত চলছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম: পুলিশ

এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সাধারণ মানুষের পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। পাশাপাশি অনেক চালক বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই যানবাহন চালাচ্ছেন। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশ নিয়মিত বিভিন্ন কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।’ মোটরসাইকেল, ডাম্প ট্রাক, ট্রাক ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সম্পৃক্ততায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনা কমাতে চালক ও পথচারী—উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরাও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কাজ করছি।’

নিরাপদ সড়কের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

রাজশাহীর সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল বহন বন্ধ করা এবং বালুবাহী ট্রাকে সুরক্ষা কভার ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজার উচ্ছেদ, ইজিবাইক-অটোরিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সড়কের ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এক লেনের সড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রশস্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সবশেষে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়—দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর নজরদারি, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, চালক-পথচারীর সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই রাজশাহীর সড়কে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে দিনের বেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক, এক বছরে ১৬৯ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬০

রাজশাহীতে দিনের বেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক, এক বছরে ১৬৯ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬০

আপডেট সময় ১০ মিনিট আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ইং,সকাল ১১:২৯ মিনিট।

রাজশাহীতে দিনের বেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক, এক বছরে ১৬৯ দুর্ঘটনায় নিহত ১৬০

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে দিনের বেলাতেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারী ট্রাক। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে বালুবাহী ডাম্প ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে রাজশাহী জেলায় ১৬৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬০ জন। এসব দুর্ঘটনার পেছনে ট্রাক ও বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ট্রাক বা ডাম্প ট্রাক নয়, মোটরসাইকেলও সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকির কারণেই রাজশাহীর সড়কে প্রতিনিয়ত ঝরছে প্রাণ। এর পাশাপাশি মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় দোকানি নিহত, আগুন দেওয়া হয় দুটি ট্রাকে

চলতি বছরের ৫ মে রাজশাহীর একটি সড়ক দুর্ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ এলাকায় একটি ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় এক দোকানি নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দুটি ডাম্প ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিড়ালদহসহ ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে ডাম্প ট্রাকগুলো অতিরিক্ত গতিতে এবং নিয়ম না মেনে চলাচল করছে। কিন্তু এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দিন দিন ঝুঁকি বাড়ছে এবং ঘটছে দুর্ঘটনা।

বছরের প্রথম দিনেই বালুবাহী ট্রাক ঢুকে পড়ে বাজারে, নিহত ৪

এর আগে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি একই মহাসড়কের ঝলমলিয়া বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুবাহী ট্রাক বাজারের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও কয়েকজন। এর মাত্র ২৫ দিন পর, ২৬ জানুয়ারি বেলপুকুর এলাকায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান আরও তিনজন। বছরের শুরু থেকেই একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় রাজশাহীর সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

এক বছরে ১৬৯ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ১৬০

রাজশাহী জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ২০২৫ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে জেলায় ১৩৫টি এবং রাজশাহী মহানগরে ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে এসব দুর্ঘটনায় মোট ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দুর্ঘটনা নিয়ে ১৬৯টি মামলা হয়েছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট। এছাড়া প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ট্রাক বা ডাম্প ট্রাকের কারণে। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে কোনো একটি ধরনের যানবাহনকে দায়ী করার সুযোগ নেই। মোটরসাইকেল, ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, বাস, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনই দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

অতিরিক্ত গতি ও আইন অমান্য অন্যতম কারণ

সড়ক সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা। অনেক চালকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নেই। আবার অনেক যানবাহনের ফিটনেসের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল করলেও যথাযথ তদারকি না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। এর সঙ্গে মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে বালুবাহী ডাম্প ট্রাক নিয়ে অভিযোগ বেশি। এসব ভারী যানবাহন অনেক সময় দিনের বেলাতেও দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ফলে অন্যান্য যানবাহনের চালক ও পথচারীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি।

ধারণক্ষমতার বেশি বালু-মাটি বহন করছে অনেক ডাম্প ট্রাক

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক ডাম্প ট্রাক ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বালু বা মাটি বহন করে। অতিরিক্ত মালামাল বহনের ফলে গাড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া অনেক ট্রাকে বালু বা মাটি ঢেকে রাখার জন্য সুরক্ষা কভার ব্যবহার করা হয় না। ফলে চলন্ত অবস্থায় ট্রাক থেকে বালু, মাটি ও ধুলাবালি উড়ে অন্য যানবাহনের চালকদের দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সড়ক ও মহাসড়কে এ ধরনের পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ার কারণে চালক সামনে থাকা যানবাহন বা পথচারীকে সময়মতো দেখতে না পারায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

শুধু ট্রাককে দায়ী করা ঠিক নয়: মালিক-শ্রমিক নেতারা

তবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু ডাম্প ট্রাককে দায়ী করা ঠিক নয়। তাদের মতে, বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই একটি নির্দিষ্ট যানবাহনকে দায়ী করে সেটিতে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর করাও আইনসম্মত নয়। তারা বলছেন, প্রতিটি দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

রাজশিয়ায় রয়েছে ৪১৯ কিলোমিটার জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা সড়ক

রাজশাহীতে বর্তমানে ৮৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ২৮৮ কিলোমিটার জেলা সড়ক রয়েছে। অর্থাৎ জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মিলিয়ে রাজশাহীতে মোট ৪১৯ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। সড়কের পরিমাণের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা সেই হারে উন্নত হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মহাসড়কে আলাদা লেন চান পরিবহন মালিকরা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং রাজশাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আলামিন সরকার টিটু বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। মহাসড়কে ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভটভটির জন্য আলাদা লেন বা সড়ক না থাকায় এসব যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করছে। এসব চালকের অনেকেরই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা নেই। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে।’ তিনি বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজার গড়ে ওঠায় সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। এটিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।’ আলামিন সরকার টিটু আরও বলেন, ‘দেশে অদক্ষ চালকের সংখ্যাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকের পরিবর্তে হেলপারকে দিয়ে গাড়ি চালানো হয়। এর সঙ্গে বেপরোয়া গতি ও অতিরিক্ত মালামাল বহনও দুর্ঘটনার কারণ।’ তার ভাষ্যমতে, মহাসড়কগুলো ধাপে ধাপে চার লেনে উন্নীত করা এবং ইজিবাইক ও অটোরিকশার জন্য পৃথক লেন বা সড়কের ব্যবস্থা করা হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

সচেতনতার অভাবও বড় কারণ

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ রাজশাহী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেখানে প্রশস্ত সড়ক প্রয়োজন, সেখানে এখনও পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। যেসব স্থানে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, সেগুলোর অধিকাংশই এক লেনের সড়ক।’ তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি চালকদের অসাবধানতা এবং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াও দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সচেতনতার অভাব। ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীর সড়কগুলো অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর উপযোগী নয়। তাই গতি নিয়ন্ত্রণ করে গাড়ি চালানো উচিত। এসব সড়কে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগ নিরাপদ। এর বেশি গতিতে চললে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।’ ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদের মতে, সরকারের কার্যকর উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

নিয়মিত চলছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম: পুলিশ

এ ব্যাপারে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘নগরীতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ সাধারণ মানুষের পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। পাশাপাশি অনেক চালক বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই যানবাহন চালাচ্ছেন। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পুলিশ নিয়মিত বিভিন্ন কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।’ মোটরসাইকেল, ডাম্প ট্রাক, ট্রাক ও অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সম্পৃক্ততায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনা কমাতে চালক ও পথচারী—উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরাও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কাজ করছি।’

নিরাপদ সড়কের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

রাজশাহীর সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মালামাল বহন বন্ধ করা এবং বালুবাহী ট্রাকে সুরক্ষা কভার ব্যবহার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা ও হাটবাজার উচ্ছেদ, ইজিবাইক-অটোরিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সড়কের ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এক লেনের সড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে প্রশস্ত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সবশেষে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া নয়—দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর নজরদারি, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, চালক-পথচারীর সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই রাজশাহীর সড়কে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....