ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: তিন মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, প্রশ্নের মুখে পুলিশ ক্রিকেট মাঠ থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আতঙ্ক: ডেভিড ইমনের উত্থান, সন্ত্রাস সাম্রাজ্য ও গ্রেপ্তারের পূর্ণ কাহিনি মাদক উদ্ধার ও অপরাধ দমনে বিশেষ অবদান: ঢাকা জেলা পুলিশের সম্মাননা পেলেন ডিবির এসআই মতিউর রহমান দাম্পত্য কলহের প্রতিটি কথা আত্মীয়দের শোনানো, স্ক্রিনশট সংরক্ষণ—সংসার ভাঙনের ইঙ্গিত কি? ডলারের বিকল্পে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্যের প্রস্তাব রাশিয়ার, রূপপুরের অর্থ জট কাটাতে নতুন উদ্যোগ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিনের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী, সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়ে চাপের অভিযোগ: খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকটে দিশেহারা মানুষ, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়’: মির্জা ফখরুল নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ; বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরীর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূইয়া

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: তিন মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: তিন মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

জেটিভি নিউজ বাংলা  তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় দুপুর ০১:৫২ মিনিট। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিমানবন্দর থানা পুলিশ আলোচিত এসব ঘটনার কার্যত কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। সবশেষ ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৬ কেজি স্বর্ণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে আসামিদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও তাদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কী ধরনের তদন্ত হচ্ছে এবং এজাহারে আসামিদের নাম-ঠিকানা থাকার পরও কেন তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসামিদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রথম দুটি অভিযানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে ৩৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মামলা হওয়ার পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। তারা যদি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে না পারে, তবে সেটি তাদের ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এত বড় ঘটনার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্তে অগ্রগতি না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো বিশেষায়িত ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা কাম্য নয়।

পৃথক তিন অভিযানে উদ্ধার ৫২ কেজি স্বর্ণ

গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪৮ ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ছিল ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম। ২৪ ক্যারেটের এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কয়েকজনের মোবাইল ফোনে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্ন বা কোডও পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এরপর গত ২ জুলাই একই ধরনের আরেকটি চালান জব্দ করা হয়। দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের কার্গো হল থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ ঘটনাতেও মামলা হয়েছে, তবে মামলার এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। সবশেষ গত ১৯ জুলাই কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। চোরাকারবারীরা এ ক্ষেত্রে কৌশল হিসেবে ক্যাথে প্যাসিফিক কার্গো বিমান ব্যবহার করে। যে ক্যারেটে স্বর্ণ পাওয়া যায় সেখানে রামবুটান, চেরি ও অ্যাভোকাডো ছিল। হংকং হয়ে ফলের কার্টনের মধ্যে সুকৌশলে স্বর্ণ এনে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানো হয়। কার্গোতে ফলের চালান থাকায় এটি সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাবে— এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের আসামি করে কাস্টমস মামলা দায়ের করে। তবে ওই মামলার তদন্তেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

তদন্তে অগ্রগতি শূন্য, বাড়ছে প্রশ্ন

আলোচিত তিনটি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরপর তিনটি মামলা হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম দুটি ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় একই, ব্যবহৃত হয়েছে একই এয়ারলাইনস এবং স্বর্ণ পাচারের জন্য বিমানের যে স্থানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তা থেকে এয়ারলাইনসের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তের পুরো বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করে। তিনি সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সহযোগিতা না চাইলে অন্য সংস্থার পক্ষে এগিয়ে আসার সুযোগ থাকে না। তাদের মতে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কেন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেননি, সেটি বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও বলেন, সর্বশেষ ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় এজাহারেই আসামিদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তারপরও ওই মামলায় কোনো অগ্রগতি না হওয়া বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। থানা পুলিশের দৈনন্দিন নানা দায়িত্ব থাকায় তারা না পারলে ডিবি, সিআইডি, পিবিআই কিংবা র‌্যাবের মতো বিশেষায়িত সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এসব সংস্থার কাছে আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত দীর্ঘদিন স্থবির থাকলে স্বর্ণ চোরাকারবারীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: তিন মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: তিন মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

আপডেট সময় ৫ মিনিট আগে

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার: তিন মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, প্রশ্নের মুখে পুলিশ

জেটিভি নিউজ বাংলা  তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় দুপুর ০১:৫২ মিনিট। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ৫২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিমানবন্দর থানা পুলিশ আলোচিত এসব ঘটনার কার্যত কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। সবশেষ ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৬ কেজি স্বর্ণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে আসামিদের নাম-ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও তাদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্তেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কী ধরনের তদন্ত হচ্ছে এবং এজাহারে আসামিদের নাম-ঠিকানা থাকার পরও কেন তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসামিদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রথম দুটি অভিযানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্পর্শকাতর এলাকা থেকে ৩৬ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মামলা হওয়ার পর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। তারা যদি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে না পারে, তবে সেটি তাদের ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এত বড় ঘটনার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তদন্তে অগ্রগতি না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য কোনো বিশেষায়িত ইউনিটকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা কাম্য নয়।

পৃথক তিন অভিযানে উদ্ধার ৫২ কেজি স্বর্ণ

গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪৮ ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ছিল ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম। ২৪ ক্যারেটের এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কয়েকজনের মোবাইল ফোনে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্ন বা কোডও পাওয়া যায়। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এরপর গত ২ জুলাই একই ধরনের আরেকটি চালান জব্দ করা হয়। দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের কার্গো হল থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। এ ঘটনাতেও মামলা হয়েছে, তবে মামলার এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। সবশেষ গত ১৯ জুলাই কার্গো ভিলেজে ফলের ক্যারেটের ভেতর থেকে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। চোরাকারবারীরা এ ক্ষেত্রে কৌশল হিসেবে ক্যাথে প্যাসিফিক কার্গো বিমান ব্যবহার করে। যে ক্যারেটে স্বর্ণ পাওয়া যায় সেখানে রামবুটান, চেরি ও অ্যাভোকাডো ছিল। হংকং হয়ে ফলের কার্টনের মধ্যে সুকৌশলে স্বর্ণ এনে শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানো হয়। কার্গোতে ফলের চালান থাকায় এটি সহজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যাবে— এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের আসামি করে কাস্টমস মামলা দায়ের করে। তবে ওই মামলার তদন্তেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

তদন্তে অগ্রগতি শূন্য, বাড়ছে প্রশ্ন

আলোচিত তিনটি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরপর তিনটি মামলা হলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম দুটি ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় একই, ব্যবহৃত হয়েছে একই এয়ারলাইনস এবং স্বর্ণ পাচারের জন্য বিমানের যে স্থানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তা থেকে এয়ারলাইনসের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তের পুরো বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার ওপর নির্ভর করে। তিনি সহযোগিতা চাইলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সহযোগিতা না চাইলে অন্য সংস্থার পক্ষে এগিয়ে আসার সুযোগ থাকে না। তাদের মতে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত কেন কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেননি, সেটি বোধগম্য নয়। এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও বলেন, সর্বশেষ ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় এজাহারেই আসামিদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তারপরও ওই মামলায় কোনো অগ্রগতি না হওয়া বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। থানা পুলিশের দৈনন্দিন নানা দায়িত্ব থাকায় তারা না পারলে ডিবি, সিআইডি, পিবিআই কিংবা র‌্যাবের মতো বিশেষায়িত সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এসব সংস্থার কাছে আসামি শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত দীর্ঘদিন স্থবির থাকলে স্বর্ণ চোরাকারবারীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....