প্রেমঘটিত হতাশা, ডেমরা পুলিশ লাইনস থেকে কনস্টেবলের আত্মহত্যা
তারিখ :১৮ জুলাই ২০২৬ ইং,সময়, দুপুর ০১:১৭ মিনিট। নিউজ ডেস্ক | জেটিভি নিউজ বাংলা রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনস ভবন থেকে মো. সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার হতাশা থেকে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তিনি প্রায় ৯ মাস আগে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা পুলিশ লাইনে নিজের কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন সাইদুল। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার আগে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ একটি পোস্টে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার গভীর হতাশার কথা তুলে ধরেন সাইদুল। সেখানে তিনি লেখেন, “তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুইদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে... মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে?” পোস্টের আরেক অংশে তিনি লেখেন, “জানো.? মাঝে মাঝে কেন জানি নিজেকে দেখলে নিজের অনেক মায়া লাগে... তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ? নাকি সব কিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ?... আমি হাজার বার সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু তুমি প্রতিবারই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না। যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।” তিনি আরও লেখেন, “হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলেই আমাদের সম্পর্কের নাম দিয়েছি স্বামী-স্ত্রী... আমার কাছে এই সম্পর্ক কোনো সাময়িক অনুভূতি নয়, এটি আজীবনের অঙ্গীকার, বিশ্বস্ততা আর একে অপরকে পাশে থাকার নীরব শপথ ছিল। কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিলা। আচ্ছা যদি যাওয়ারই ছিল, আসছিলাই কেন?” পোস্টের শেষ দিকে তিনি লেখেন, “বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে হৃদয় ভাঙা এই ব্যথা, হয়তো এই জন্মে আর সেরে উঠবে না মৃত্যু ছাড়া। তাই আমি সেই পথেই গেলাম... তোমাকে বলেছিলাম না এটাই আমার শেষ শক্তি হয়তো তুমি, নয়তো আমি শেষ। নাও তারও প্রমাণ দিলাম।” বাবা-মায়ের উদ্দেশে লেখা শেষ বার্তায় তিনি বলেন, “দুঃখিত আম্মু-আব্বু আপনাদের ছেলে আর নিতে পারছে না। আম্মু আর পারছি না, আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই। মাফ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছুই করার নাই। একদম ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেলাম।” ফেসবুক পোস্টের পাশাপাশি একটি ভিডিওও শেয়ার করেন সাইদুল। ভিডিওটির শুরুতে ‘দ্য এন্ড’ লেখা ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। জেটিভি নিউজ বাংলাদেশ ও দশের কথা বলে...

ডেস্ক রিপোর্ট 





















