জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ০৯ মে ২০২৬ ইং, সময় : ১১:২০ মিনিট।ক্রেডিট কার্ডে বড় পরিবর্তন: ঋণের সীমা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত
এক সময় ক্রেডিট কার্ড ছিল কেবল উচ্চবিত্ত বা অভিজাত শ্রেণির ব্যবহৃত একটি আর্থিক পণ্য। ব্যাংকের বিশেষ গ্রাহক, বড় ব্যবসায়ী কিংবা বিদেশ ভ্রমণকারীদের মধ্যেই এর ব্যবহার সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন শহর থেকে মফস্বল— সর্বত্রই ক্রেডিট কার্ড হয়ে উঠছে দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। বাজার করা, হাসপাতালের বিল, অনলাইন কেনাকাটা, বিমান টিকিট, রেস্টুরেন্ট বিল, শিক্ষা খরচ, এমনকি ইউটিলিটি বিল পরিশোধেও বাড়ছে কার্ডের ব্যবহার। বাংলাদেশে দ্রুত প্রসারমান ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রেডিট কার্ড এখন অনেকের কাছে ‘বিকল্প নগদ অর্থ’। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি বাড়ছে। ব্যাংকগুলোও গ্রাহক টানতে দিচ্ছে ক্যাশব্যাক, ইএমআই, ডিসকাউন্ট, এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক লেনদেনের সুযোগ। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ ব্যাংকও ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিক করতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সীমা দ্বিগুণ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রাহক সুরক্ষা, সুদের স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন জামানত ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। আগে এই সীমা ছিল যথাক্রমে ১০ লাখ ও ২০ লাখ টাকা। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কার্ডধারীরা তাদের মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে নগদ উত্তোলনের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত সুদবিহীন সময় পাওয়া যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো বিল পরিশোধ করলে কোনো সুদ দিতে হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড মিলিয়ে ৫ কোটির বেশি কার্ড চালু রয়েছে। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড প্রায় ৫৪ লাখ। প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে, যা সাম্প্রতিক সময়ে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকাও ছাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, সুপারশপ, ইউটিলিটি বিল, ওষুধ, পোশাক, পরিবহন ও সরকারি সেবা খাতে। বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ড ব্যবহারেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হচ্ছে, বিশেষ করে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, শিক্ষা ব্যয় ও ভ্রমণ খাতে। বিদেশে ডেবিট কার্ডের ব্যবহারও বাড়ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডুয়াল কারেন্সি ডেবিট কার্ডের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার করতে ব্যাংকগুলো নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করছে। দেশে প্রথমবারের মতো নম্বরবিহীন ডেবিট কার্ড চালু হয়েছে। এছাড়া ওটিপি, বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা, অ্যাপভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ, তাৎক্ষণিক কার্ড ব্লক ও রিয়েল-টাইম নোটিফিকেশন সুবিধা চালু রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কার্ড হারিয়ে গেলে বা জালিয়াতির শঙ্কা তৈরি হলে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে এবং গ্রাহকদের হয়রানি করে ঋণ আদায় করা যাবে না। দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সম্প্রসারণের ফলে ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের চাহিদাও বাড়ছে। এসব কার্ডে সুদের পরিবর্তে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ বা উজরাহ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও বিশেষ কার্ড চালু হচ্ছে। অভিভাবকের গ্যারান্টিতে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারবে। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল কারেন্সি সুবিধা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পরিকল্পনা ছাড়া ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে উচ্চ সুদ যোগ হয়। তাই সচেতন ও পরিকল্পিত ব্যবহার জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...

Reporter Name 




















