জেটিভি নিউজ বাংলা | লিড নিউজ
তারিখ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সময়: সকাল ৯:০০ মিনিট
গণভোটের প্রচারে ইসির নির্দেশনায় হকচকিয়ে সরকার
আইনি অবস্থান পর্যালোচনা, ইসির সঙ্গে আলোচনায় যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার
ঢাকা: গণভোটের প্রচার কার্যক্রমে হঠাৎ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা নির্দেশনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ নির্দেশনার আইনি অবস্থান পর্যালোচনা এবং বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্ব আলাপ-আলোচনা ছাড়াই গণভোটের প্রচার কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে নির্বাচন কমিশন। এ কারণে শিগগিরই ইসির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গণভোট-সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি রাজনৈতিক পক্ষ ইসিকে প্রভাবিত করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সংস্কার বিষয়ে গণভোট-সংক্রান্ত সরকারি জনসচেতনতা কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সরকারের আইনজীবীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই জানাবে, এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষের হয়ে প্রচার চালাতে পারবেন না। এ ধরনের কার্যক্রম আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ বিষয়ে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব এহছানুল হক বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে কোনো পক্ষের হয়ে প্রচারে অংশ নেবেন না। তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা এবং ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করে, যেখানে সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার চালানোর বৈধতা নিয়ে ছয়জন বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মত দেন, সরকার চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ইতিমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। এতে সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও গণভোট নিয়ে ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব শুরুতে গণভোট নিয়ে নীরব থাকলেও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান রংপুরে এক জনসভায় ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চান। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা গণভোট বিষয়ে জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন, তবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারবেন না। এ ধরনের কার্যক্রম গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২১ ধারা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৮৬ ধারার অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....