স্বর্ণের ভরি কি ছুঁতে যাচ্ছে ৩ লাখ টাকা?
রেকর্ড দামে বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
২৮ জানুয়ারি ২০২৬,১১:৩৬ এএম।
দেশে স্বর্ণের বাজারে একের পর এক রেকর্ড দামে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিহাসে প্রথমবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়ানোর পর তার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ডলার প্রতি আউন্স হিসাবে নির্ধারিত হয়। ২৬ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ হাজার ডলারে পৌঁছালে ডলারের বিনিময় হার গড়ে ১২০ টাকা ধরে প্রতি আউন্স স্বর্ণের টাকার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ টাকা। এক আউন্সে ৩১.১০৩৫ গ্রাম এবং দেশের বাজারে এক ভরিতে ১১.৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ভরির মৌলিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এই মৌলিক মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয় স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম, আমদানি ব্যয়, ঝুঁকি প্রিমিয়াম, ভ্যাট ও অন্যান্য সরকারি কর। এসব ব্যয় যুক্ত করে বাজুস নতুন করে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে।
বাজুসের ঘোষণায় জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। দেড় বছরের ব্যবধানে ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার এবং স্বর্ণ আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে দাম বাড়ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে।
স্বর্ণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে বেচাকেনা কমে গেছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত দামের কারণে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে স্বর্ণের গয়নার চাহিদা কমেছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।
দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানান, উচ্চ দামের কারণে গত এক বছরে স্বর্ণের বেচাবিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক ক্রেতা নতুন স্বর্ণ না কিনে পুরোনো স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করাচ্ছেন।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ...