ঢাকা , শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বাজারে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে গুলিবর্ষণ নয়াপল্টনের সমাবেশ স্থগিত, ঢাকার বিভিন্ন আসনে জনসভা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা নির্বাচনি দায়িত্ব পবিত্র আমানত, নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই নৈতিক দায়িত্ব: সিআইডি প্রধান মানবতাবিরোধী অপরাধ: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন এক্সিম ব্যাংক বসুন্ধরা শাখায় হামলার ভিডিও ভাইরাল দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার ইসহাক সরকার ২০ বছর পর বরিশালের মাটিতে তারেক রহমান বেলস পার্কে নির্বাচনি সমাবেশ, কানায় কানায় ভিড় দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে রিট খারিজ ঢাকা-১১ আসনে ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতায় বাধা নেই কঠোর আইন প্রয়োগে হর্নমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা সরকারের

টেকনাফ সীমান্তে স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

টেকনাফ সীমান্তে স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা জেটিভি নিউজ বাংলা, কক্সবাজার প্রতিনিধি: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৪:০০ পিএম। মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় সীমান্তের কাছ থেকে ১০টি স্থল মাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রাথমিকভাবে এসব অংশে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের আরও কিছু এলাকায় স্থল মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিজিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত স্থল মাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট—যা মাটির ওপরে বসানো থাকে এবং চাপ পড়লে মাইন সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাধারণভাবে একটি স্থল মাইনে কেসিং, বিস্ফোরক অংশ, বুস্টার চার্জ, ফায়ারিং মেকানিজম ও ডেটোনেটর থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোতে কেবল চাপ প্লেট ও কিছু বাহ্যিক অংশ পাওয়া গেছে। ৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থল মাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। আপাতত এগুলোতে কোনও বিস্ফোরক নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন ও এপারে এসে পড়া গুলিতে সীমান্ত এলাকার নিরীহ মানুষ হতাহত হচ্ছেন। এতে সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সম্প্রতি টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় একাধিক প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তের নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন একই এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় শিশু হুফাইজা আফনান। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “আমরা মাঠে যেতে পারি না, সীমান্তে যেতেও ভয় লাগে। কখন যে মাইনে পা পড়ে যায়—এই আতঙ্কে দিন কাটে। সন্তানদের ঘর থেকে বের হতে দিতেও ভয় লাগে।” নাফ নদের জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, “নদী আর সীমান্তই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এখন নৌকা নামালেই ভয় লাগে। ওপার থেকে গুলি আসে, আবার মাইনের আতঙ্ক—এভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যু ভয় নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো চরম উদ্বেগে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিজিবি জানায়, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক এলাকাগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না। জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে কয়েক দিন ধরে তীব্র সংঘাত চলছে। এরই প্রভাবে সীমান্তের এপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা সীমান্তবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।  

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন বাজারে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারে গুলিবর্ষণ

টেকনাফ সীমান্তে স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট সময় ০৪:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
টেকনাফ সীমান্তে স্থল মাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার, আতঙ্কে স্থানীয়রা জেটিভি নিউজ বাংলা, কক্সবাজার প্রতিনিধি: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ৪:০০ পিএম। মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় সীমান্তের কাছ থেকে ১০টি স্থল মাইনের চাপ প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রাথমিকভাবে এসব অংশে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া না গেলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় এসব চাপ প্লেট উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ১০টি চাপ প্লেট সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্তের আরও কিছু এলাকায় স্থল মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিজিবি জানায়, উদ্ধার হওয়া অংশগুলো মূলত স্থল মাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট—যা মাটির ওপরে বসানো থাকে এবং চাপ পড়লে মাইন সক্রিয় হয়ে ওঠে। সাধারণভাবে একটি স্থল মাইনে কেসিং, বিস্ফোরক অংশ, বুস্টার চার্জ, ফায়ারিং মেকানিজম ও ডেটোনেটর থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অংশগুলোতে কেবল চাপ প্লেট ও কিছু বাহ্যিক অংশ পাওয়া গেছে। ৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থল মাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ পাওয়া গেছে। আপাতত এগুলোতে কোনও বিস্ফোরক নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থল মাইন ও এপারে এসে পড়া গুলিতে সীমান্ত এলাকার নিরীহ মানুষ হতাহত হচ্ছেন। এতে সীমান্তজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সম্প্রতি টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় একাধিক প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তের নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। এর আগের দিন একই এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় শিশু হুফাইজা আফনান। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “আমরা মাঠে যেতে পারি না, সীমান্তে যেতেও ভয় লাগে। কখন যে মাইনে পা পড়ে যায়—এই আতঙ্কে দিন কাটে। সন্তানদের ঘর থেকে বের হতে দিতেও ভয় লাগে।” নাফ নদের জেলে হাবিব উল্লাহ জানান, “নদী আর সীমান্তই আমাদের জীবিকা। কিন্তু এখন নৌকা নামালেই ভয় লাগে। ওপার থেকে গুলি আসে, আবার মাইনের আতঙ্ক—এভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?” স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সীমান্ত এলাকার মানুষ কার্যত মৃত্যু ভয় নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও পরিবারগুলো চরম উদ্বেগে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিজিবি জানায়, সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক এলাকাগুলোতে নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে চলমান সংঘাতের প্রভাবের কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না। জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী ও দেশটির সরকারি বাহিনীর মধ্যে কয়েক দিন ধরে তীব্র সংঘাত চলছে। এরই প্রভাবে সীমান্তের এপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা সীমান্তবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।