জেটিভি নিউজ বাংলা, ডেস্ক
ফাইল ছবি
ঢাকায় ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় কম্পনের ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক আফটারশক?
সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কেন বাড়ছে এই কম্পন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন কী— জানুন বিস্তারিত।দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় অতি সম্প্রতি কয়েক দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্বল্প ব্যবধানে আসা এসব ঝাঁকুনি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠছে—এই কম্পনগুলো কি বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস, নাকি স্বাভাবিক আফটারশক? ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন কম্পনের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
ঢাকায় ঘন কম্পন— কীসের ইঙ্গিত?
টেকটনিক প্লেটের সরে যাওয়া বা সংঘর্ষের কারণে ভূগর্ভে দীর্ঘদিন ধরে চাপ জমতে থাকে। এই চাপ একটি নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছালে হঠাৎ মুক্ত হয়—এটাই ভূমিকম্প। ঘন ঘন কম্পন মানে ওই অঞ্চলে প্লেট মুভমেন্ট বা চাপ বেড়েছে। একটি বড় কম্পনের পরে একই উৎস থেকে আরও কয়েকটি ছোট কম্পন আসা স্বাভাবিক ঘটনা। একে আফটারশক বলা হয়। কখনো কখনো বড় ভূমিকম্পের আগেও ছোট ছোট কম্পন অনুভূত হয়। এগুলোকে ফোরশক বলা হয়। তবে কোন কম্পন ফোরশক আর কোনটি আফটারশক—এটি আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।ভূমিকম্প কেন হয়— ব্যাখ্যা
পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ কয়েকটি বড় টেকটনিক প্লেট দিয়ে তৈরি। বাংলাদেশ অঞ্চলের নিচ দিয়ে ভারতীয় প্লেট ও বার্মা প্লেট একে অপরকে ঠেলে দেয়। এর ফলে ভূগর্ভে বিশাল চাপ তৈরি হয়। চাপ নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে গেলে ঘটে ভূমিকম্প। বাংলাদেশের আশেপাশে কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে—- ডাউকি ফল্ট
- চিটাগাং–টাইগ্রিস ফল্ট
- মিয়ানমারের সক্রিয় ফল্ট অঞ্চলসমূহ
ঢাকায় ঝুঁকি বেশি কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে— ✔ অতিরিক্ত ঘনবসতি ✔ দুর্বল ও অনিরাপদ ভবন ✔ অপরিকল্পিত নগরায়ণ ✔ নরম মাটি (যেখানে কম্পন কয়েকগুণ বাড়ে) এ সকল কারণে ঢাকা ৫ মাত্রার মধ্যম ভূমিকম্পেও বড় ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে।কি করা জরুরি?
- ভবনের ভূমিকম্প-সহনক্ষমতা পরীক্ষা
- বাসা ও অফিসে নিরাপদ কোণ চিহ্নিত করা
- ভারী জিনিস দেয়ালে আটকে রাখা
- জরুরি কিট প্রস্তুত রাখা
- ভূমিকম্পের সময় ‘ডাক–কভার–হোল্ড’ নিয়ম মেনে চলা

Reporter Name 




















