ঢাকা , বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ফাঁস হওয়া অডিওতে কাবিননামা নিয়ে উঠল প্রশ্ন করোনা থেকে জুলাই আন্দোলন: ছয় বছরের শিখন ঘাটতিতে সংকটে শিক্ষা, কোচিং নির্ভরতা বেড়েছে; ২০২৭ সালের পরীক্ষা এগিয়ে আনার উদ্যোগ প্রি-কেস বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলার প্রবাহ কমছে, মামলাজট নিরসনে মিলছে আশাব্যঞ্জক ফল: আইনমন্ত্রী বারিধারায় ময়লার ডিপো নিয়ে গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন আসামি গ্রেফতার, আত্মগোপনে ছিলেন বান্দরবানের রিসোর্টে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, ঝুঁকিতে এখনও লাখো শরণার্থী ফরিদপুরের মধুখালীতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জন্মগত জটিল রোগে আক্রান্ত শিশু আনিফার চিকিৎসায় সরকারি উদ্যোগ, গঠন করা হলো বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড শ্রমিকদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর স্মৃতি, অনুমোদন দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক —


জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

দেশে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা, মাটির উর্বরতা, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে জৈব কৃষির সম্প্রসারণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশে ফসলের উৎপাদন কমানো ছাড়াই নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এ মত তুলে ধরেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পল্লি কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের বলেন, দেশের কৃষকরা এখনও অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, সামাজিক আচরণ পরিবর্তনেও কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “জৈব কৃষিতে উৎপাদন কমে না—অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়। তবে এর জন্য ধাপে ধাপে রোডম্যাপ প্রয়োজন।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন জানান, রাসায়নিক সারনির্ভর উৎপাদন কাঠামো পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে জৈব কৃষির বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা জানান, পিকেএসএফ–এর আওতাধীন কৃষকরা এখন ল্যাবে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ কার্ড পাচ্ছেন। এতে সঠিক পরিমাণ সার ব্যবহারে কৃষকরা সহায়তা পাচ্ছেন। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শেখ তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কারণে কৃষিজমি ও পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে সরকারের কৃষি ভর্তুকির ২৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে রাসায়নিক সারে। তিনি আরও বলেন, “জৈব কৃষি সম্প্রসারণে সমন্বিত নীতি কাঠামো, জাতীয় কৃষি নীতি পুনর্বিবেচনা এবং জৈব সার উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ অত্যাবশ্যক।” তার মতে, পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যজনিত অপ্রদর্শিত ব্যয় দেশের জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। উন্মুক্ত আলোচনায় ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ-উজ-জামান বলেন, ভূমি সংস্কার ছাড়া টেকসই জৈব কৃষি বিস্তার সম্ভব নয়। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নীতি সহায়তা—উভয়ই জৈব কৃষি সম্প্রসারণের জন্য জরুরি। চুয়াডাঙ্গার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, জৈব পদ্ধতি গ্রহণের পর তার খামারের ব্যয় ২৫ শতাংশ কমেছে এবং উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বক্তারা বাণিজ্যিক জৈব সার নিবন্ধন সহজ করা, প্রণোদনা বৃদ্ধি, কৃষিতে ডিজিটালাইজেশন ও বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সংলাপে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকন্দ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ফাঁস হওয়া অডিওতে কাবিননামা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

আপডেট সময় ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক —


জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

দেশে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা, মাটির উর্বরতা, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে জৈব কৃষির সম্প্রসারণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশে ফসলের উৎপাদন কমানো ছাড়াই নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এ মত তুলে ধরেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পল্লি কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের বলেন, দেশের কৃষকরা এখনও অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, সামাজিক আচরণ পরিবর্তনেও কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “জৈব কৃষিতে উৎপাদন কমে না—অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়। তবে এর জন্য ধাপে ধাপে রোডম্যাপ প্রয়োজন।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন জানান, রাসায়নিক সারনির্ভর উৎপাদন কাঠামো পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে জৈব কৃষির বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা জানান, পিকেএসএফ–এর আওতাধীন কৃষকরা এখন ল্যাবে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ কার্ড পাচ্ছেন। এতে সঠিক পরিমাণ সার ব্যবহারে কৃষকরা সহায়তা পাচ্ছেন। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শেখ তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কারণে কৃষিজমি ও পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে সরকারের কৃষি ভর্তুকির ২৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে রাসায়নিক সারে। তিনি আরও বলেন, “জৈব কৃষি সম্প্রসারণে সমন্বিত নীতি কাঠামো, জাতীয় কৃষি নীতি পুনর্বিবেচনা এবং জৈব সার উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ অত্যাবশ্যক।” তার মতে, পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যজনিত অপ্রদর্শিত ব্যয় দেশের জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। উন্মুক্ত আলোচনায় ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ-উজ-জামান বলেন, ভূমি সংস্কার ছাড়া টেকসই জৈব কৃষি বিস্তার সম্ভব নয়। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নীতি সহায়তা—উভয়ই জৈব কৃষি সম্প্রসারণের জন্য জরুরি। চুয়াডাঙ্গার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, জৈব পদ্ধতি গ্রহণের পর তার খামারের ব্যয় ২৫ শতাংশ কমেছে এবং উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বক্তারা বাণিজ্যিক জৈব সার নিবন্ধন সহজ করা, প্রণোদনা বৃদ্ধি, কৃষিতে ডিজিটালাইজেশন ও বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সংলাপে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকন্দ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।