ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
৬০ দিনের সময়সীমার আগেই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তীব্র গরমে ১৭-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে বিদ্যুৎ সংস্থার চিঠি সংসার ভাঙার আগে মুখরোচক পরামর্শ, ডিভোর্সের পর একাকী নারীর নীরব কান্না ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট হবে বিকেল ২টা থেকে ৫টা গভীর রাতেও বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চের কাছাকাছি, তীব্র লোডশেডিংয়ের নেপথ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না’: শিক্ষামন্ত্রী জনপ্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে নতুন নিয়োগের আলোচনা, সম্ভাব্য তালিকায় একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা জেনেও কেন প্রার্থী দিল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে ১১ দলীয় জোটের বৈঠক কাঁচা মরিচ আমদানিতে অর্ধেকে নেমেছে দাম, বেনাপোলে ৩০০ থেকে ১৫০-১৮০ টাকা

তীব্র গরমে ১৭-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে বিদ্যুৎ সংস্থার চিঠি

জেটিভি নিউজ বাংলা | বিশেষ প্রতিবেদন

তারিখ: ১২ আগস্ট ২০২৬ ইং| সময়: সকাল ১১:৩৩৭  মিনিট

তীব্র গরমে ১৭-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে বিদ্যুৎ সংস্থার চিঠি

চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ভয়াবহ লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো। এতে বিভিন্ন জেলার গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলা ও ভাঙচুর থেকে বিদ্যুৎ স্থাপনা, কার্যালয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে জরুরি নিরাপত্তা চেয়েছে বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পায়, সেটিই গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করে। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ তীব্রভাবে কমে যাওয়ায় গ্রাহক অসন্তোষ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গ্রাহকদের চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ

গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ফ্রিজে রাখা খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। রাতের তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রধানদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা যেকোনো সময় বিদ্যুৎ অফিস, জোনাল অফিস কিংবা ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালাতে পারেন। ইতোমধ্যে দেশের কিছু এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ কর্মীদের আটকে রেখে অবরুদ্ধ করার ঘটনাও ঘটেছে। একাধিক ব্যক্তি ফোন করে অফিসের কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় পুলিশি টহল ও বিশেষ নজরদারি চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর তীব্র অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা নাশকতা যেন না ঘটে, সেজন্য রাতকালীন নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ করা হয়েছে।

লোডশেডিং কমছে না কেন

বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, তারা চাইলেও স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমাতে পারছে না। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট চলছে। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার পর দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি কয়লা ও জ্বালানি স্বল্পতাও রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন এবং বকেয়া বিল পরিশোধের জটিলতায় বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেমন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। জাতীয় গ্রিডের বিভিন্ন কারিগরি ও সরবরাহ সমস্যার কারণে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ, বিশেষ করে আদানি পাওয়ারের সরবরাহও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অন্যদিকে তীব্র গরমে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। এর বিপরীতে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হওয়ায় লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিতরণকারী সংস্থাগুলোর প্রধানদের বক্তব্য, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের পক্ষে স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমানো সম্ভব নয়।

ঘাটতি কত

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময় উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি কাজে লাগানো যায়নি। দিনের অধিকাংশ সময়ই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কম। গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এ কারণে এসব কেন্দ্রও সীমিতভাবে চালানো হচ্ছে। যদিও রাতের বেলায় টানা কয়েক ঘণ্টা তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি তেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও অধিকাংশ সময় গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের কম উৎপাদন হচ্ছে।

নীলফামারীতে নিরাপত্তা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ

দীর্ঘ ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের মধ্যেই বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডোমার জোনাল অফিস। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং রাতকালীন পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করতে ডোমার থানায় লিখিত আবেদন করেছে সংস্থাটি। ৯ আগস্ট ডোমার জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এ.কে.এম. আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। ১১ আগস্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ। চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গরমের সময়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার প্রয়োজন। এ জন্য ডোমার জোনাল অফিসের আওতাধীন ডোমার জোনাল অফিস, উপকেন্দ্র-১ (আন্ধারুর মোড়) এবং চিলাহাটী অভিযোগ কেন্দ্রে রাতকালীন সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এসব স্থাপনা বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাও সহজ হবে। ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, সাদা পোশাকে অফিসে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা চেয়েছে ওজোপাডিকো

গোপালগঞ্জেও দিনে-রাতে সমানতালে চলছে তীব্র লোডশেডিং। জেলা শহরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহকরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কায় নিজেদের কার্যালয় ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউজ গোপালগঞ্জ দফতর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়া এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দফতর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণসহ যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওজোপাডিকো। এমন পরিস্থিতিতে নাশকতা এড়াতে ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জ দফতরের সব স্থাপনা ও উপকেন্দ্রকে নিয়মিত পুলিশি টহল রুটের আওতায় আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আমাদের দফতরসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় শহরে লোডশেডিং হচ্ছে। যেখানে চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট, সেখানে বরাদ্দ পাচ্ছি ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তাই দফতর ও উপকেন্দ্রসহ নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছি।’ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘আমি এখনও চিঠিটি হাতে পাইনি। চিঠি হাতে পেলে পুলিশের দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবো।’

নেত্রকোনায় নিরাপত্তা চেয়ে ডিসিকে চিঠি

নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে দিন-রাত মিলিয়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই ভয়াবহ সংকটে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ১১ আগস্ট দুপুরে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশকে জানানো হয়েছে।’ এর আগে সোমবার নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, নেত্রকোনা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে নয়টি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে নেত্রকোনার ১০টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুতের চাহিদা ১৫৭ মেগাওয়াট। তবে তিন দিন ধরে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রাত ১টায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৫ মেগাওয়াট। ৮ আগস্ট বিকেল ৫টায় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৩ মেগাওয়াট। আর ৯ আগস্ট রাত ১১টায় ১২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০ মেগাওয়াট। চিঠিতে বলা হয়, ১১ কেভি ফিডার দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎ চালু হলে ফ্রিজ, পানির পাম্প, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একসঙ্গে চালু হয়। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় দেড় গুণ বেড়ে যায়। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন না করার কথা উল্লেখ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীতে অবস্থিত বিআর পাওয়ারজেনের ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং আরপিসিএল ময়মনসিংহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনে কর্মকর্তাদের গালিগালাজের পাশাপাশি অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বকেয়া আদায়ে অভিযান পরিচালনার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, গাজীপুরের বরমীর ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী চালু রাখা হলে নেত্রকোনা গ্রিড উপকেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া সম্ভব হবে। এতে লোডশেডিংও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে। এ অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সব অফিস ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গ্রাহকদের দুর্ভোগ

মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া বলেন, ‘রাইতে-দিনে মিলায়া ৪ থেইক্যা ৫ ঘণ্টা কারেন্ট থাহে। আয়ে আর যায়। গরমে রাইতে ঘুমাইতাম পারি না। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারতাছে না।’ আটপাড়া উপজেলার মোগলহাট্রা গ্রামের আব্দুল গনি বলেন, ‘কারেন্ট থাহে কিনা এইডা অহন কথাই না। অহন হইছে, কারেন্ট কি আইব। ২৪ ঘণ্টায় ৩ কি ৪ ঘণ্টা পাই। ১৮-২০ ঘণ্টা থাহে না। এইডাও ১০ থেকে ২০ মিনিট কইরা একবারে পাই। বাচ্চাদের গরমে অসুখ অইতাছে। ফ্রিজ, ফ্যান চলে না। ভোল্টেজও কম থাহে।’ বিষয়টি স্বীকার করেছেন নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সরবরাহ কম পাওয়ায় আমরা গ্রাহকদের দিতে পারছি না।’ নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল বিভাগীয় কমিশনার স্যার নেত্রকোনায় এসেছিলেন। তাকে বিদ্যুতের বিষয়টি অবগত করেছি। জেলার বিদ্যুৎ অফিসগুলোসহ উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিধানে পুলিশকে বলেছি। আশা করছি, দ্রুত লোডশেডিং কমে আসবে।’ জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

৬০ দিনের সময়সীমার আগেই যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

তীব্র গরমে ১৭-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে বিদ্যুৎ সংস্থার চিঠি

আপডেট সময় ৫ ঘন্টা আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা | বিশেষ প্রতিবেদন

তারিখ: ১২ আগস্ট ২০২৬ ইং| সময়: সকাল ১১:৩৩৭  মিনিট

তীব্র গরমে ১৭-১৮ ঘণ্টা লোডশেডিং, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনকে বিদ্যুৎ সংস্থার চিঠি

চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে দেশের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ভয়াবহ লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো। এতে বিভিন্ন জেলার গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলা ও ভাঙচুর থেকে বিদ্যুৎ স্থাপনা, কার্যালয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে জরুরি নিরাপত্তা চেয়েছে বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তারা জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পায়, সেটিই গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করে। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ তীব্রভাবে কমে যাওয়ায় গ্রাহক অসন্তোষ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গ্রাহকদের চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ

গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, ফ্রিজে রাখা খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। রাতের তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর প্রধানদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা যেকোনো সময় বিদ্যুৎ অফিস, জোনাল অফিস কিংবা ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চালাতে পারেন। ইতোমধ্যে দেশের কিছু এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ কর্মীদের আটকে রেখে অবরুদ্ধ করার ঘটনাও ঘটেছে। একাধিক ব্যক্তি ফোন করে অফিসের কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় পুলিশি টহল ও বিশেষ নজরদারি চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর তীব্র অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা নাশকতা যেন না ঘটে, সেজন্য রাতকালীন নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ করা হয়েছে।

লোডশেডিং কমছে না কেন

বিতরণ সংস্থাগুলো বলছে, তারা চাইলেও স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমাতে পারছে না। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট চলছে। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার পর দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি কয়লা ও জ্বালানি স্বল্পতাও রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন এবং বকেয়া বিল পরিশোধের জটিলতায় বড় বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেমন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। জাতীয় গ্রিডের বিভিন্ন কারিগরি ও সরবরাহ সমস্যার কারণে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ, বিশেষ করে আদানি পাওয়ারের সরবরাহও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অন্যদিকে তীব্র গরমে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। এর বিপরীতে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি তৈরি হওয়ায় লোডশেডিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিতরণকারী সংস্থাগুলোর প্রধানদের বক্তব্য, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের পক্ষে স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমানো সম্ভব নয়।

ঘাটতি কত

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। সোমবার সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময় উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি কাজে লাগানো যায়নি। দিনের অধিকাংশ সময়ই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াটের কম। গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ালে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। এ কারণে এসব কেন্দ্রও সীমিতভাবে চালানো হচ্ছে। যদিও রাতের বেলায় টানা কয়েক ঘণ্টা তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি তেলচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হলেও অধিকাংশ সময় গড়ে দেড় হাজার মেগাওয়াটের কম উৎপাদন হচ্ছে।

নীলফামারীতে নিরাপত্তা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ

দীর্ঘ ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের মধ্যেই বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডোমার জোনাল অফিস। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার এবং রাতকালীন পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করতে ডোমার থানায় লিখিত আবেদন করেছে সংস্থাটি। ৯ আগস্ট ডোমার জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এ.কে.এম. আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে এ অনুরোধ জানানো হয়। ১১ আগস্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ। চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গরমের সময়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার প্রয়োজন। এ জন্য ডোমার জোনাল অফিসের আওতাধীন ডোমার জোনাল অফিস, উপকেন্দ্র-১ (আন্ধারুর মোড়) এবং চিলাহাটী অভিযোগ কেন্দ্রে রাতকালীন সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এসব স্থাপনা বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখাও সহজ হবে। ডোমার থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, সাদা পোশাকে অফিসে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গোপালগঞ্জে নিরাপত্তা চেয়েছে ওজোপাডিকো

গোপালগঞ্জেও দিনে-রাতে সমানতালে চলছে তীব্র লোডশেডিং। জেলা শহরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহকরা। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কায় নিজেদের কার্যালয় ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউজ গোপালগঞ্জ দফতর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়া এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দফতর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণসহ যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওজোপাডিকো। এমন পরিস্থিতিতে নাশকতা এড়াতে ওজোপাডিকোর গোপালগঞ্জ দফতরের সব স্থাপনা ও উপকেন্দ্রকে নিয়মিত পুলিশি টহল রুটের আওতায় আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা আমাদের দফতরসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় শহরে লোডশেডিং হচ্ছে। যেখানে চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট, সেখানে বরাদ্দ পাচ্ছি ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা করতে পারেন বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তাই দফতর ও উপকেন্দ্রসহ নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়েছি।’ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘আমি এখনও চিঠিটি হাতে পাইনি। চিঠি হাতে পেলে পুলিশের দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেবো।’

নেত্রকোনায় নিরাপত্তা চেয়ে ডিসিকে চিঠি

নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে দিন-রাত মিলিয়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে এই ভয়াবহ সংকটে স্থানীয় গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের হামলার আশঙ্কায় জেলা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। ১১ আগস্ট দুপুরে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং কমিয়ে আনতে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশকে জানানো হয়েছে।’ এর আগে সোমবার নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন জেলা প্রশাসককে এ বিষয়ে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, নেত্রকোনা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে নয়টি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে নেত্রকোনার ১০টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুতের চাহিদা ১৫৭ মেগাওয়াট। তবে তিন দিন ধরে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট রাত ১টায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৫ মেগাওয়াট। ৮ আগস্ট বিকেল ৫টায় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৩ মেগাওয়াট। আর ৯ আগস্ট রাত ১১টায় ১২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০ মেগাওয়াট। চিঠিতে বলা হয়, ১১ কেভি ফিডার দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎ চালু হলে ফ্রিজ, পানির পাম্প, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একসঙ্গে চালু হয়। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় দেড় গুণ বেড়ে যায়। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন না করার কথা উল্লেখ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমীতে অবস্থিত বিআর পাওয়ারজেনের ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং আরপিসিএল ময়মনসিংহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনে কর্মকর্তাদের গালিগালাজের পাশাপাশি অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বকেয়া আদায়ে অভিযান পরিচালনার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবি, গাজীপুরের বরমীর ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন ক্ষমতা অনুযায়ী চালু রাখা হলে নেত্রকোনা গ্রিড উপকেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া সম্ভব হবে। এতে লোডশেডিংও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে। এ অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সব অফিস ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গ্রাহকদের দুর্ভোগ

মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া বলেন, ‘রাইতে-দিনে মিলায়া ৪ থেইক্যা ৫ ঘণ্টা কারেন্ট থাহে। আয়ে আর যায়। গরমে রাইতে ঘুমাইতাম পারি না। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করতে পারতাছে না।’ আটপাড়া উপজেলার মোগলহাট্রা গ্রামের আব্দুল গনি বলেন, ‘কারেন্ট থাহে কিনা এইডা অহন কথাই না। অহন হইছে, কারেন্ট কি আইব। ২৪ ঘণ্টায় ৩ কি ৪ ঘণ্টা পাই। ১৮-২০ ঘণ্টা থাহে না। এইডাও ১০ থেকে ২০ মিনিট কইরা একবারে পাই। বাচ্চাদের গরমে অসুখ অইতাছে। ফ্রিজ, ফ্যান চলে না। ভোল্টেজও কম থাহে।’ বিষয়টি স্বীকার করেছেন নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. আকরাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সরবরাহ কম পাওয়ায় আমরা গ্রাহকদের দিতে পারছি না।’ নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘গতকাল বিভাগীয় কমিশনার স্যার নেত্রকোনায় এসেছিলেন। তাকে বিদ্যুতের বিষয়টি অবগত করেছি। জেলার বিদ্যুৎ অফিসগুলোসহ উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিধানে পুলিশকে বলেছি। আশা করছি, দ্রুত লোডশেডিং কমে আসবে।’ জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে.....