‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না’: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, কমেছে জিপিএ-৫
জেটিভি নিউজ বাংলা | শিক্ষা ডেস্ক
তারিখ: সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬ ইং,সময় দুপুর ০১:৪৬ মিনিট।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াকে ঘিরে নানা প্রশ্নের মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না।’ সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।ফল ঘোষণার আগে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
ফল ঘোষণার আগে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পরীক্ষা নিতে দেরি হয়েছে। ২০২৭ সালে ৭ জানুয়ারি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এভাবে ধাপে ধাপে পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে ফেলে। অন্যদিকে বোর্ডের ১৯৮০ সালের আইন অনুযায়ী উত্তরপত্র পরিদর্শন বা নিরীক্ষণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে ওই ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেসব ছাত্রছাত্রী তাদের খাতা পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের সম্পূর্ণ খাতা পুনঃপরীক্ষণ করা হবে। কোথাও কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সেসব বিষয়ে পুনরায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর তিনি চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।ফলাফল তুলে ধরেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি
ফল ঘোষণার পর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেন।‘এবার যে যা নম্বর পেয়েছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে’
ফলাফল তুলে ধরার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে খাতায় যে যা নম্বর পাচ্ছে, সেটাই দেওয়া হচ্ছে। তবে এবার ফলাফল নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারের পরীক্ষায় যে যা নম্বর পেয়েছে, সেটাই দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগে কোনো শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করলে শুধু ট্যাবুলেশন শিট দেখা হতো। সত্যিকার অর্থে ওই শিক্ষার্থীর খাতা পরিবর্তন হয়েছে কি না এবং শিক্ষক যথাযথ নম্বর দিয়েছেন কি না, সেটি পুনঃপরীক্ষা করার ব্যবস্থা ছিল না। এবার আইনগতভাবে পরিবর্তন এনে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার খাতা পুনঃপরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে কোনো মানবিক বিষয় নেই। পুনঃনিরীক্ষণের সময় খাতা আবার দেখা হবে। কমিটির সামনে খাতা পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। কেউ ভুলভাবে মার্কিং করে থাকলে কিংবা কোনো শিক্ষার্থী যে নম্বর পাওয়ার উপযুক্ত তা না পেয়ে থাকলে রিভিউ কমিটির সামনে সেই খাতা পুনঃপরীক্ষা করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর দিতে হবে।‘জিরো পাসের সংখ্যা অতীতেও বেশি ছিল’
সারাদেশে কোনো স্কুল, কলেজ বা মাদ্রাসায় যদি পাসের হার ক্রমাগত কমতে থাকে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যখন পরীক্ষায় নকল বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তখন জিরো পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে তিন-চার গুণ বেশি ছিল। পরে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি করা হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবারও সেসব অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করা হবে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হবে।‘ভর্তি হবে পুরোনো পদ্ধতিতে’
এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর আগে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যানকে ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, ভর্তি পুরোনো পদ্ধতিতেই হবে। অর্থাৎ মার্ক ও জিপিএর ভিত্তিতে ভর্তি হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশ থেকে মার্ক, জিপিএ, স্ট্যান্ডার্ড ও কোয়ালিটির ভিত্তিতে শিক্ষার্থী সরবরাহ করা হয়। শিক্ষার্থীদের ফলাফল, অঞ্চল ও আর্থসামাজিক অবস্থার পার্থক্য রয়েছে। সারা বিশ্বেই এ ধরনের বাস্তবতা রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়গুলোকে সমন্বয় করে মোকাবিলা করতে হয়।শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান নিয়ে যা বললেন
কিছু প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁর সময়ে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় পাঁচ গুণ ছিল। তিনি বলেন, ওই সময় ব্যবস্থা নিয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা হয়েছিল। এবারও অপেক্ষা করতে হবে। ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে।‘শুধু ডাকলেই হবে না, সিরিজ অব সিস্টেম’
শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। শুধু কাউকে ডেকে ব্যবস্থা নিলেই হবে না; এর জন্য ধারাবাহিক ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘সিরিজ অব সিস্টেম’ তিনি ২০০১ সালে চালু করেছিলেন। শিক্ষা ব্যবস্থা খারাপ হয়ে থাকলে সেটিকে উন্নত করাই দায়িত্ব।পাসের হার কমেছে ৬.২০ শতাংশ
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারাদেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।মানবিক বিভাগে ছাত্রদের ফলাফলে বড় অবনমন
ফলাফল বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি অবনমন দেখা গেছে মানবিক বিভাগের ছাত্রদের ফলাফলে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ এই বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে প্রায় ৫৯ জনই পাস করতে পারেনি।‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না’
এবারের ফলাফলে এমন অবনমনকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে দেখার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণগুলো দিতে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা খারাপ বলছেন কেন, কমেছে বলছেন কেন; এটা সুন্দর রেজাল্ট হয়েছে। মন খুলে গান গাওয়া যায়, মন খুলে নম্বর দেওয়া যায় না।’অতীতের ফলাফল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
বিগত সময়ের ফলাফল প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। বেশি নম্বর দেওয়া হয়েছিল—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকেই তিনি জানতে পেরেছেন যে শিক্ষকদের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তিনি বলেন, কেউ পড়াশোনা না করলে তাকে নম্বর দিয়ে দিলে শিক্ষার বিস্তার হয় না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ফলাফল ছিল সর্বোচ্চ প্রায় ২৮ শতাংশ। ২০০৬ সালে দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার সময় ফলাফল বেড়ে প্রায় ৭৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বলেন, যেখানে ফলাফল ছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে ওপরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং এবারও ক্রমান্বয়ে উন্নতি করা হবে।কারিগরি বোর্ডের ফলাফলে অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে অসঙ্গতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেউ যদি ভুল তথ্য দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি বড় সমস্যা। তিনি বলেন, একদিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার বলা হচ্ছে, অন্যদিকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজারের কিছু বেশি বলা হচ্ছে, আবার পাসের হার ৫৮ শতাংশ দেখানো হচ্ছে। এ ধরনের তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ভুল তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়। সঠিক হিসাব করে কোন তথ্যটি সত্য, তা দ্রুত সংশোধন করে জানাতে হবে।বাংলা, ইংরেজি ও গণিত নিয়ে মন্তব্য
নম্বর কমবেশির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলায় নম্বর কম এসেছে। একই সঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে বোর্ডগুলোর ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইংরেজি ও গণিত—এই দুটি বিষয়ে ফেল করার হার দীর্ঘদিন ধরেই বেশি। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করায় সামগ্রিক পাসের হারও কমে যায়।ঝরে পড়া শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে
এক সাংবাদিকের বক্তব্যের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার বিষয়টি একটি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, যেগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে উন্নত করার চেষ্টা চলছে। এটি সরকারের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালন করে যাওয়া হবে।ফলাফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, এবারের ফলাফল অর্জনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ইতিবাচক আন্তঃসম্পর্ক, শিক্ষকদের প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, অভিভাবকদের ক্রমবর্ধমান সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা পরিচালনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা
এবারের পরীক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সেগুলো মনিটরিং করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারের পরীক্ষা যথাসময়ে, পূর্ণ সিলেবাস ও পূর্ণ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।উত্তরপত্র মূল্যায়নে বিশেষ নির্দেশনা
অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের উত্তরপত্র নির্ভুলভাবে মূল্যায়নের জন্য কর্মশালার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। উত্তরপত্র মানসম্পন্নভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে পরীক্ষকদের ৩০০টি উত্তরপত্র প্রদান করা হয়েছিল। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের বসার জন্য শেড নির্মাণের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।এসএমএসে ফল জানার নতুন ব্যবস্থা
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারই প্রথম পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিজস্ব শর্ট কোড ১৬১৪০-এর মাধ্যমে এসএমএসে পরীক্ষার ফলাফল জানতে পারবে।বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং যেসব প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর হাত নেই, তারা স্ক্রাইব বা শ্রুতিলেখক সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। এ ধরনের পরীক্ষার্থী এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় বাড়ানো হয়েছিল। অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম ও সেরিব্রাল পালসি থাকা প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদেরও অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক বা সহায়তাকারীর বিশেষ সহযোগিতায় তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।শিক্ষা পরিবারের প্রতি অভিনন্দন
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি বলেন, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এসব তথ্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া নানামুখী পদক্ষেপ, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা এবং সমগ্র শিক্ষা পরিবারের সার্বিক সহযোগিতায় এ অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। এজন্য তিনি শিক্ষা পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন জানান।পেপারলেস ফল প্রকাশ
বিগত বছরগুলোর মতো এবারও সম্পূর্ণ পেপারলেস পদ্ধতিতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা অনলাইনের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও ফলাফল জানতে পারবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ডগুলো, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ক্রমাগত উন্নতির ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। জেটিভি নিউজ বাংলাদেশ ও দশের কথা বলে.....

ডেস্ক রিপোর্ট 





















