ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাকিবুল হত্যা: ৭ দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের, গ্রেপ্তার ১ পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে সাজেকে আটকে প্রায় সাড়ে ৪৫০ পর্যটক, সবাই নিরাপদ কমলাপুরমুখী মেট্রোরেল: ৭৮.৫ শতাংশ কাজ শেষ, নির্ধারিত সময় নিয়ে প্রশ্ন কুকুর-বিড়াল পালনের বাড়তি প্রবণতা: ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতার প্রয়োজন শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি ওমর ফারুক সুমনকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ আধুনিক নগর নিরাপত্তা, মাদক প্রতিরোধ ও পুলিশ প্রশিক্ষণে পাকিস্তানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির ৪০টিরও বেশি এলাকা প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রায় ৫০০ পরিবার

কমলাপুরমুখী মেট্রোরেল: ৭৮.৫ শতাংশ কাজ শেষ, নির্ধারিত সময় নিয়ে প্রশ্ন

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ :৯ জুলাই ২০২৬ ইং | সময়: ০৯:৫২ মিনিট

কমলাপুরমুখী মেট্রোরেল: ৭৮.৫ শতাংশ কাজ শেষ, নির্ধারিত সময় নিয়ে প্রশ্ন

  রাজধানীর মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬-এর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ চলছে প্রায় ৪২ মাস ধরে। এ সময়ে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক ট্রেন (ট্রায়াল রান) চালু এবং একই বছরের এপ্রিলে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমান কাজের গতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ে সেই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের অবশিষ্ট সিগন্যালিং, কমিউনিকেশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে বিদ্যমান এমআরটি লাইন-৬-এর সঙ্গে নতুন অংশের সমন্বয় (ইন্টিগ্রেশন) নিশ্চিত করা গেলে তবেই কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব হবে।

২০২৭ সালের লক্ষ্য ও বর্তমান অগ্রগতি

ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মতিঝিল-কমলাপুর অংশে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরপর সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে একই বছরের এপ্রিল থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করার কথা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রথম বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ২৫ শতাংশ। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। সর্বশেষ ১৩ মাসে আরও ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বর্তমানে মোট অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশে। এই হিসাবে গত ৪২ মাসে গড়ে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে আগামী ছয় মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ হারে কাজ এগিয়ে নিতে হবে, যা বর্তমান গতির প্রায় দ্বিগুণ।

ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের সর্বশেষ অবস্থা

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণ এবং কমলাপুর মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ এখন পুরোদমে চলছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত সব পাইলক্যাপ, পিয়ার ও স্টেশন কলামের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মতিঝিল স্টেশনের পর থেকে উড়ালপথে রেলট্র্যাক বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ওভারহেড বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার খুঁটি স্থাপনের কাজও চলছে। উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের শতভাগ কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২৭টি স্প্যানের মধ্যে ২৫টি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১৮০ মিটার কনকোর্স ছাদ, ১৮০ মিটার ট্র্যাক স্ল্যাব এবং ১৮০ মিটার প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাবের ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। উড়ালপথের দুই পাশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য প্রয়োজনীয় ৮২৪টি প্রিকাস্ট প্যারাপেট ওয়ালের নির্মাণও সম্পন্ন হয়েছে। কমলাপুর স্টেশনের স্টিল রুফ স্ট্রাকচারের জন্য নির্ধারিত ৫৩৩ টন স্টিলের মধ্যে ৫২০ টনের ইরেকশন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কনকোর্স লেভেলের ২ হাজার ৮০০ বর্গমিটার ব্রিক ওয়াল ও প্লাস্টারের কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের আর্কিটেকচারাল ফিনিশিং, প্রবেশ ও বাহির পথ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ ওয়াল টাইলস বসানো, স্থায়ী গ্লাস স্থাপন এবং ইনডোর ও আউটডোর এলাকায় রং করার কাজ চলছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমআরটি লাইন-৬-এর মতিঝিল অংশ পর্যন্ত ৬২৮ নম্বর পিলারের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে ওই পিলারের পর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ অংশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করছে ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। অন্যদিকে কমলাপুর মেট্রো স্টেশনের সবুজ রঙের দৃষ্টিনন্দন ছাউনির মূল কাঠামো এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান। শুধু গ্লাস স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। অন্যান্য স্টেশনের মতো এখানেও চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। সিঁড়ির ঢালাই শেষ হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন ওয়াশরুম নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ ফিনিশিং, ব্যারিয়ার ও রেলট্র্যাক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৪ সালে প্রকল্পটির ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজ নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। মূলত দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় প্রস্তাব নির্ধারিত প্রাক্কলনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের এই অংশ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে কাজও স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-কে ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সিগন্যালিং, কমিউনিকেশনসহ এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এমআরটি লাইন-৬-এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, বর্তমানে সিভিল ওয়ার্কের পাশাপাশি স্টেশনের ফিনিশিং, টাইলস ও মার্বেল বসানো, রং করা, ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা স্থাপন, লিফট ও এসকেলেটর স্থাপন, রেলট্র্যাক বসানো এবং সিগন্যালিংয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটে রাতের বেলায় খালি ট্রেনে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের এপ্রিলেই যাত্রী পরিবহন শুরু করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞ যা বলছেন

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, কমলাপুর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে মেট্রোরেল চালু হওয়া অনেকটাই নির্ভর করবে ঠিকাদারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দেশে আনা এবং ২৪ ঘণ্টা কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। তার মতে, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে সিগন্যালিং, কমিউনিকেশন এবং অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজ শেষ করে বিদ্যমান লাইনের সঙ্গে নতুন অংশের সফল সমন্বয় করা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সময়মতো পাওয়া গেলে এবং কাজের গতি বজায় থাকলে নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব।

প্রকল্প ব্যয়ের সর্বশেষ তথ্য

২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার সম্প্রসারণ যুক্ত হওয়ায় দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় পৌঁছায়। তবে সর্বশেষ প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ৭৫৪ কোটি টাকা কমিয়ে ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১২ হাজার ৫২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর ঋণ থেকে ২০ হাজার ১৯৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।     জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

কমলাপুরমুখী মেট্রোরেল: ৭৮.৫ শতাংশ কাজ শেষ, নির্ধারিত সময় নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ১৩ ঘন্টা আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ :৯ জুলাই ২০২৬ ইং | সময়: ০৯:৫২ মিনিট

কমলাপুরমুখী মেট্রোরেল: ৭৮.৫ শতাংশ কাজ শেষ, নির্ধারিত সময় নিয়ে প্রশ্ন

  রাজধানীর মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬-এর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ চলছে প্রায় ৪২ মাস ধরে। এ সময়ে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক ট্রেন (ট্রায়াল রান) চালু এবং একই বছরের এপ্রিলে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বর্তমান কাজের গতি বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ে সেই লক্ষ্য অর্জন করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের অবশিষ্ট সিগন্যালিং, কমিউনিকেশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে বিদ্যমান এমআরটি লাইন-৬-এর সঙ্গে নতুন অংশের সমন্বয় (ইন্টিগ্রেশন) নিশ্চিত করা গেলে তবেই কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু করা সম্ভব হবে।

২০২৭ সালের লক্ষ্য ও বর্তমান অগ্রগতি

ডিএমটিসিএলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মতিঝিল-কমলাপুর অংশে পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরপর সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে একই বছরের এপ্রিল থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করার কথা রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রথম বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ছিল ২৫ শতাংশ। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। সর্বশেষ ১৩ মাসে আরও ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বর্তমানে মোট অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশে। এই হিসাবে গত ৪২ মাসে গড়ে প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতি হয়েছে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে আগামী ছয় মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ হারে কাজ এগিয়ে নিতে হবে, যা বর্তমান গতির প্রায় দ্বিগুণ।

ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের সর্বশেষ অবস্থা

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণ এবং কমলাপুর মেট্রো স্টেশন নির্মাণের কাজ এখন পুরোদমে চলছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত সব পাইলক্যাপ, পিয়ার ও স্টেশন কলামের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মতিঝিল স্টেশনের পর থেকে উড়ালপথে রেলট্র্যাক বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ওভারহেড বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার খুঁটি স্থাপনের কাজও চলছে। উত্তরা কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্রয়োজনীয় ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের শতভাগ কাস্টিং সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২৭টি স্প্যানের মধ্যে ২৫টি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ১৮০ মিটার কনকোর্স ছাদ, ১৮০ মিটার ট্র্যাক স্ল্যাব এবং ১৮০ মিটার প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাবের ঢালাই কাজ শেষ হয়েছে। উড়ালপথের দুই পাশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য প্রয়োজনীয় ৮২৪টি প্রিকাস্ট প্যারাপেট ওয়ালের নির্মাণও সম্পন্ন হয়েছে। কমলাপুর স্টেশনের স্টিল রুফ স্ট্রাকচারের জন্য নির্ধারিত ৫৩৩ টন স্টিলের মধ্যে ৫২০ টনের ইরেকশন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কনকোর্স লেভেলের ২ হাজার ৮০০ বর্গমিটার ব্রিক ওয়াল ও প্লাস্টারের কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনের আর্কিটেকচারাল ফিনিশিং, প্রবেশ ও বাহির পথ নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ ওয়াল টাইলস বসানো, স্থায়ী গ্লাস স্থাপন এবং ইনডোর ও আউটডোর এলাকায় রং করার কাজ চলছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমআরটি লাইন-৬-এর মতিঝিল অংশ পর্যন্ত ৬২৮ নম্বর পিলারের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে ওই পিলারের পর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ অংশের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করছে ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। অন্যদিকে কমলাপুর মেট্রো স্টেশনের সবুজ রঙের দৃষ্টিনন্দন ছাউনির মূল কাঠামো এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান। শুধু গ্লাস স্থাপনের কাজ বাকি রয়েছে। অন্যান্য স্টেশনের মতো এখানেও চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। সিঁড়ির ঢালাই শেষ হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন ওয়াশরুম নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ ফিনিশিং, ব্যারিয়ার ও রেলট্র্যাক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৪ সালে প্রকল্পটির ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজ নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। মূলত দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় প্রস্তাব নির্ধারিত প্রাক্কলনের তুলনায় অনেক বেশি হওয়া এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের এই অংশ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একপর্যায়ে কাজও স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-কে ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সিগন্যালিং, কমিউনিকেশনসহ এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এমআরটি লাইন-৬-এর প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানিয়েছেন, বর্তমানে সিভিল ওয়ার্কের পাশাপাশি স্টেশনের ফিনিশিং, টাইলস ও মার্বেল বসানো, রং করা, ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা স্থাপন, লিফট ও এসকেলেটর স্থাপন, রেলট্র্যাক বসানো এবং সিগন্যালিংয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পুরো রুটে রাতের বেলায় খালি ট্রেনে পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের এপ্রিলেই যাত্রী পরিবহন শুরু করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞ যা বলছেন

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, কমলাপুর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে মেট্রোরেল চালু হওয়া অনেকটাই নির্ভর করবে ঠিকাদারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দেশে আনা এবং ২৪ ঘণ্টা কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। তার মতে, বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে সিগন্যালিং, কমিউনিকেশন এবং অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কাজ শেষ করে বিদ্যমান লাইনের সঙ্গে নতুন অংশের সফল সমন্বয় করা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সময়মতো পাওয়া গেলে এবং কাজের গতি বজায় থাকলে নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পটি শেষ করা সম্ভব।

প্রকল্প ব্যয়ের সর্বশেষ তথ্য

২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পে প্রথমে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকা। পরবর্তীতে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার সম্প্রসারণ যুক্ত হওয়ায় দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় পৌঁছায়। তবে সর্বশেষ প্রস্তাবিত তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ৭৫৪ কোটি টাকা কমিয়ে ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১২ হাজার ৫২১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)-এর ঋণ থেকে ২০ হাজার ১৯৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।     জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে....