ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের রফতানি, আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি বাবার আবেগঘন আহ্বান—‘অবসর ভেবো না, আবারও মাঠে ফিরো’; নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে টানা ছয় দিনের বিরতির পর আজ বিকেলে আবারও বসছে জাতীয় সংসদ ব্রাজিলের জয় উদযাপন ঘিরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহ হত্যা: আরও এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের বেতনের ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেন, মন্ত্রীদেরও একই আহ্বান ৭৩ বছরে পদার্পণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা-গবেষণায় নতুন অঙ্গীকার সচিবালয়ের সামনে প্রতীকী ভাতের হোটেল চালু, সোহানী শিফাকে আটক করে পরে ছেড়ে দিল পুলিশ ভারত-ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কনডমের বিজ্ঞাপন, তদন্ত দাবি সাবেক ক্রিকেটার কীর্তি আজাদের সাইবার যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাংবাদিক আনিস আলমগীর, সোমা ইসলামসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ

ব্রাজিলের জয় উদযাপন ঘিরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহ হত্যা: আরও এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ :০৬ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় ০৬:০৮ মিনিট। প্রতিকৃতি ছবি

ব্রাজিলের জয় উদযাপন ঘিরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহ হত্যা: আরও এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ঢাকার আদাবর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়া ওই আসামির নাম পারভেজ। সোমবার (৬ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান পারভেজকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। এর আগে, রবিবার (৫ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে র‌্যাব পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এর আগে শনিবার নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ নামে পাঁচ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া মিজান নামে আরও এক আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরও আগে শুক্রবার আবুল বাশার বাদশাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে দুই আসামিকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরব উচ্চস্বরে বাঁশি বাজাতে থাকে। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হাবিবুর রহমানও বাঁশি বাজান। এতে নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে উদ্যত হলে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টির মীমাংসার জন্য মোহাম্মদপুর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় তার কার্যালয়ে অভিযুক্তদের ডেকে পাঠান। ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে তিন আসামি সাদ্দাম হোসেনের পথরোধ করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সাদ্দাম নিজেকে হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দিলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার কপালে আঘাত করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে অভিযুক্তদের নিয়ে নবোদয় হাউজিংয়ের কাঁচাবাজার এলাকায় একটি দোকানে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিরাসহ স্থানীয় লোকজন ওই দোকানে উপস্থিত হন। সালিসের বিষয়টি নিয়ে আসামিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওঁত পেতে অবস্থান নেয়। সালিসে সাদ্দাম হোসেন ও আবুল বাশার বাদশাহ উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে সবাই দোকান থেকে চলে যাওয়ার সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে চার রাস্তার মোড়ে অভিযুক্তরা সাদ্দাম ও বাদশাহর ওপর হামলা চালায়। সুইচ গিয়ার ও চাপাতি দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আবুল বাশার বাদশাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার নিহত আবুল বাশার বাদশাহর স্ত্রী স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মজনু ও তার তিন ছেলে এবং শহীদের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের রফতানি, আজ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

ব্রাজিলের জয় উদযাপন ঘিরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহ হত্যা: আরও এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

আপডেট সময় ০৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ :০৬ জুলাই ২০২৬ ইং,সময় ০৬:০৮ মিনিট। প্রতিকৃতি ছবি

ব্রাজিলের জয় উদযাপন ঘিরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহ হত্যা: আরও এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ঢাকার আদাবর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি দেওয়া ওই আসামির নাম পারভেজ। সোমবার (৬ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান পারভেজকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। এর আগে, রবিবার (৫ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে র‌্যাব পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এর আগে শনিবার নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ নামে পাঁচ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া মিজান নামে আরও এক আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরও আগে শুক্রবার আবুল বাশার বাদশাহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে দুই আসামিকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে নিরব উচ্চস্বরে বাঁশি বাজাতে থাকে। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হাবিবুর রহমানও বাঁশি বাজান। এতে নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে উদ্যত হলে স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টির মীমাংসার জন্য মোহাম্মদপুর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় তার কার্যালয়ে অভিযুক্তদের ডেকে পাঠান। ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে তিন আসামি সাদ্দাম হোসেনের পথরোধ করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। সাদ্দাম নিজেকে হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দিলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার কপালে আঘাত করে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে অভিযুক্তদের নিয়ে নবোদয় হাউজিংয়ের কাঁচাবাজার এলাকায় একটি দোকানে সালিসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিরাসহ স্থানীয় লোকজন ওই দোকানে উপস্থিত হন। সালিসের বিষয়টি নিয়ে আসামিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওঁত পেতে অবস্থান নেয়। সালিসে সাদ্দাম হোসেন ও আবুল বাশার বাদশাহ উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে সবাই দোকান থেকে চলে যাওয়ার সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে চার রাস্তার মোড়ে অভিযুক্তরা সাদ্দাম ও বাদশাহর ওপর হামলা চালায়। সুইচ গিয়ার ও চাপাতি দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে আবুল বাশার বাদশাহর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম হোসেন বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার নিহত আবুল বাশার বাদশাহর স্ত্রী স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মজনু ও তার তিন ছেলে এবং শহীদের নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।   জেটিভি নিউজ বাংলা, দেশ ও দশের কথা বলে....