ঢাকা , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক —


জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

দেশে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা, মাটির উর্বরতা, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে জৈব কৃষির সম্প্রসারণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশে ফসলের উৎপাদন কমানো ছাড়াই নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এ মত তুলে ধরেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পল্লি কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের বলেন, দেশের কৃষকরা এখনও অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, সামাজিক আচরণ পরিবর্তনেও কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “জৈব কৃষিতে উৎপাদন কমে না—অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়। তবে এর জন্য ধাপে ধাপে রোডম্যাপ প্রয়োজন।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন জানান, রাসায়নিক সারনির্ভর উৎপাদন কাঠামো পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে জৈব কৃষির বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা জানান, পিকেএসএফ–এর আওতাধীন কৃষকরা এখন ল্যাবে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ কার্ড পাচ্ছেন। এতে সঠিক পরিমাণ সার ব্যবহারে কৃষকরা সহায়তা পাচ্ছেন। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শেখ তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কারণে কৃষিজমি ও পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে সরকারের কৃষি ভর্তুকির ২৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে রাসায়নিক সারে। তিনি আরও বলেন, “জৈব কৃষি সম্প্রসারণে সমন্বিত নীতি কাঠামো, জাতীয় কৃষি নীতি পুনর্বিবেচনা এবং জৈব সার উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ অত্যাবশ্যক।” তার মতে, পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যজনিত অপ্রদর্শিত ব্যয় দেশের জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। উন্মুক্ত আলোচনায় ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ-উজ-জামান বলেন, ভূমি সংস্কার ছাড়া টেকসই জৈব কৃষি বিস্তার সম্ভব নয়। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নীতি সহায়তা—উভয়ই জৈব কৃষি সম্প্রসারণের জন্য জরুরি। চুয়াডাঙ্গার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, জৈব পদ্ধতি গ্রহণের পর তার খামারের ব্যয় ২৫ শতাংশ কমেছে এবং উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বক্তারা বাণিজ্যিক জৈব সার নিবন্ধন সহজ করা, প্রণোদনা বৃদ্ধি, কৃষিতে ডিজিটালাইজেশন ও বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সংলাপে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকন্দ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।
 

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

আপডেট সময় ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

জেটিভি নিউজ বাংলা ডেস্ক —


জৈব কৃষি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি : বিশেষজ্ঞদের মত

দেশে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা, মাটির উর্বরতা, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে জৈব কৃষির সম্প্রসারণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশে ফসলের উৎপাদন কমানো ছাড়াই নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিতে রূপান্তর’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে এ মত তুলে ধরেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পল্লি কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের বলেন, দেশের কৃষকরা এখনও অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরশীল। শুধুমাত্র প্রযুক্তি নয়, সামাজিক আচরণ পরিবর্তনেও কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “জৈব কৃষিতে উৎপাদন কমে না—অনেক ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়। তবে এর জন্য ধাপে ধাপে রোডম্যাপ প্রয়োজন।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন জানান, রাসায়নিক সারনির্ভর উৎপাদন কাঠামো পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে জৈব কৃষির বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. বেগম সামিয়া সুলতানা জানান, পিকেএসএফ–এর আওতাধীন কৃষকরা এখন ল্যাবে মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ কার্ড পাচ্ছেন। এতে সঠিক পরিমাণ সার ব্যবহারে কৃষকরা সহায়তা পাচ্ছেন। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শেখ তানভীর হোসেন। তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের কারণে কৃষিজমি ও পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি জানান, গত অর্থবছরে সরকারের কৃষি ভর্তুকির ২৪ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৭৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে রাসায়নিক সারে। তিনি আরও বলেন, “জৈব কৃষি সম্প্রসারণে সমন্বিত নীতি কাঠামো, জাতীয় কৃষি নীতি পুনর্বিবেচনা এবং জৈব সার উৎপাদনে বড় বিনিয়োগ অত্যাবশ্যক।” তার মতে, পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যজনিত অপ্রদর্শিত ব্যয় দেশের জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। উন্মুক্ত আলোচনায় ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. শহীদ-উজ-জামান বলেন, ভূমি সংস্কার ছাড়া টেকসই জৈব কৃষি বিস্তার সম্ভব নয়। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী বলেন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নীতি সহায়তা—উভয়ই জৈব কৃষি সম্প্রসারণের জন্য জরুরি। চুয়াডাঙ্গার কৃষক মোহাম্মদ আলী জানান, জৈব পদ্ধতি গ্রহণের পর তার খামারের ব্যয় ২৫ শতাংশ কমেছে এবং উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বক্তারা বাণিজ্যিক জৈব সার নিবন্ধন সহজ করা, প্রণোদনা বৃদ্ধি, কৃষিতে ডিজিটালাইজেশন ও বর্জ্য থেকে সার উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সংলাপে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, পিকেএসএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকন্দ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা অংশ নেন।