৪০ বছরের দখলদারিত্বের অবসান, উচ্ছেদ অভিযানে উদ্ধার পাইলট স্কুলের ২৫ কোটি টাকার জমি
জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ১৭ মে ২০২৬ ইং| সময়: ০৯:১২ মিনিট। বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রভাবশালী একটি চক্রের দীর্ঘদিনের দখলে থাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতক জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (১৬ মে) সকালে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় চার দশক ধরে জমিটি অবৈধ দখলে রেখে সেখানে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছিল। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ শতক জমি দখলকারীদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক ছিলেন অন্যতম। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রায় ২০ শতক জমি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি উপেক্ষা করে প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করে সেখানে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালনা করে আসছিলেন। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১১ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কমিটির উপদেষ্টা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। সভায় কয়েকজন সদস্য সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল্যবান জমি দখলের বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর নজরে আনেন। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তদন্তে স্কুলের জমি দখলের সত্যতা মিললে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শনিবার সকাল ৮টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। অভিযানের সময় এলাকায় উৎসুক জনতার ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দখল হওয়া জমি উদ্ধারে বহু চেষ্টা করেও তারা সফল হতে পারেননি এবং একসময় নিরাশ হয়ে পড়েন। অবশেষে জমি উদ্ধার হওয়ায় তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের এই উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসান ঘটেছে। বিদ্যালয়ের সম্পদ ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক ও অন্য দখলকারীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বের সঙ্গে তা আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্তে দখলের সত্যতা পাওয়ার পর শনিবার সকালে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে স্কুলের মূল্যবান ৪১ শতক জমি বেদখলে ছিল।জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

বগুড়া প্রতিনিধি 




















