সংকট পেরিয়ে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে বিএনপি: রূপান্তরের রাজনীতিতে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন
জেটিভি নিউজ বাংলা
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | সকাল ১১টা ৫০ মিনিট
ঢাকা,ফাইল ছবি।
সংকটকালীন নেতৃত্ব, দীর্ঘ নির্বাসন ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলকে শুধু পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানোর দ্বারপ্রান্তে আনেননি, বরং রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে নিজের প্রত্যাবর্তনও ঘটিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রক্তঝরা জুলাই অভ্যুত্থান, নতুন রাজনৈতিক পটভূমি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়া–এর প্রয়াণে টালমাটাল পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক উত্তরণের বার্তা দিয়ে ১৮ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অগ্রগামী বাংলাদেশের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই বিজয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। এটি যেমন তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন, তেমনি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থারও বহিঃপ্রকাশ। তার নেতৃত্বে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের পথে রয়েছে, যা এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি এককভাবে ১৫৭টি আসন নিশ্চিত করেছে। পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের পর এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে দলীয় সূত্রে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপি ও সমমনা জোট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৫৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী–এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।
নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরা
২০০৮ সালে সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার প্রয়োজনে দেশ ছাড়েন তারেক রহমান। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে গণ–আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করে।
সরকার পতনের কয়েক মাস পর, গত বছরের ডিসেম্বরে বড়দিনের সময় দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে তাকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করে বলে মনে করেন দলের শীর্ষ নেতারা।
রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও আদর্শ
রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া তারেক রহমান একটি শক্তিশালী উত্তরাধিকার বহন করছেন। তার মা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে সুসংগঠিত করেন। অন্যদিকে, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্ব আজও দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।
নির্বাচনি বার্তা ও ভবিষ্যৎ দিশা
নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে মা–বাবার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম শেষ করেন তারেক রহমান, যা দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে আবেগঘন ও প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
নির্বাচনি অঙ্গীকারে তিনি বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশোধের রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, প্রতিশোধ কোনো দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না; বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন এবং সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানে উঠে আসা তারেক রহমানের এই যাত্রা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা
সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ....