১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, ১২:৫০ এএম
বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত আলোচিত নেত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনি প্রচারণায় প্রশাসনিক বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসন একদিকে তার নির্বাচনি কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রবিবার (_____) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের এইরকম দেখায় (বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচু করে)। প্রশাসনে বসে আছেন, খোঁজ নিন—সব জায়গায় সভা হচ্ছে। আপনি পারলে থামাতেন। আজকে আমি ভদ্রতা দেখিয়ে থামিয়েছি, নেক্সটাইম এই ভদ্রতাটা করবো না।” তিনি আরও বলেন, “এক্সকিউজ মি স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম। আজকে শুনছি, ভবিষ্যতে আর শুনবো না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না—মাথায় রাখবেন।” এ সময় সমাবেশস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা পরিস্থিতি শান্ত করেন। ঘটনার পর আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে সমাবেশ আয়োজনের দায়ে রুমিন ফারহানার সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সরকার। এর আগে উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর কাছে মেহমান হয়ে গেছেন। এরপরই দল আমাকে বহিষ্কার করেছে। অথচ এখন আবার দল থেকে ফোন করে বলা হচ্ছে—আসন ছেড়ে দিলে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে।” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আমি কোনও মন্ত্রিত্বের লোভে আমার এলাকার মানুষদের ছেড়ে যাবো না।” প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে রুমিন ফারহানা আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। তার ভালোবাসা ও আশ্রয়ে আমি আজ এখানে। আমার মা জীবিত থাকা অবস্থায় আমাকে বহিষ্কার করা যায়নি। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে বলেছিলেন—‘রুমিনকে কেন মনোনয়ন দেওয়া হলো না?’ কিন্তু দল তার কোনও জবাব দিতে পারেনি।” নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর আমি রাজপথে ছিলাম। কে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে লড়াই করেছে, কে সংসদে দাঁড়িয়ে এই সংসদকে অবৈধ বলেছে—সবই জনগণ জানে।” এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় ভোটাররাও। জেটিভি নিউজ বাংলা / রাজনীতি

Reporter Name 




















