- সালমান শাহ হত্যা মামলা: সামীরাসহ ১১ আসামির সম্পদ জব্দের আবেদন
স্টাফ রিপোর্টার | JTV NEWS BANGLA
ঢাকা | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬,৩:৩৫ পিএম।
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত নতুন মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জন আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের আবেদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী আলমগীর কুমকুমের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ এই আবেদন দাখিল করেন।
শুনানি শেষে আদালত আবেদনটির ওপর আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদ বলেন,
“মামলার আসামিরা দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে আদালতে অনুপস্থিত থেকে ন্যায়বিচার ব্যাহত করছেন। আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এজাহারভুক্ত সকল আসামির সম্পদ জব্দের আবেদন জানানো হয়েছে।”
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা মডেল থানায় নতুন করে এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে গত বছরের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত পূর্ববর্তী সকল তদন্ত প্রতিবেদন বাতিল করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনায় সালমান শাহর বাবার মূল অভিযোগ এবং এই ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাট থেকে জনপ্রিয় এই চিত্রনায়কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হয়।
গত তিন দশকে সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একাধিক তদন্ত শেষে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে সালমান শাহর পরিবার শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
পরিবারের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পিবিআইয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এতে নারাজি দেন।
নতুন মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এজাহারনামীয় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রমনা মডেল থানা পুলিশকে। আসামিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে সম্পদ জব্দের এই আবেদনকে মামলার অগ্রগতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জেটিভি নিউজ বাংলা / বিনোদন