জেটিভি নিউজ বাংলা
ফাইল, ছবি
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: সচেতনতা বাড়াতে ইসির ব্যাপক প্রচারণা পরিকল্পনা কয়েক দিনের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই দিনে জুলাই সনদের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে বলে ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিকে জানানো হয়েছে। তবে গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও গণভোট বিষয়ে কম সচেতন। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার পাশাপাশি গণভোট বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। ইসি সূত্র জানায়, গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, বিটিভি ও অন্যান্য টেলিভিশনে সম্প্রচার, সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ আয়োজন—এসব কার্যক্রম একযোগে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ অন্যান্য মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য টিভিসি, কাউন্টডাউন, স্লোগান, পথনাটক, র্যালি, বিজ্ঞাপন, লিফলেট ও পোস্টার ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া গুজব প্রতিরোধে এআই ও ফেইক নিউজ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা, বিটিভিতে ফ্ল্যাশ নিউজ প্রচার এবং পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে বলেও জানায় কমিশন। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, “আইন না হওয়া পর্যন্ত কমিশন এ বিষয়ে কাজ করতে পারবে না। আগামী সপ্তাহেই গণভোট আইন পাস হবে বলে আশা করছি। আইন পাস হলে প্রস্তুতি শুরু হবে। গণভোট হলে চারটি পয়েন্টে ‘হ্যাঁ/না’ ভোট হবে।” নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “গণভোটের বিষয়টি আমাদের হাতে এসেছে কয়েকদিন আগে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছি না। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা সহযোগিতা করলে সুন্দরভাবে নির্বাচন করা সম্ভব।” অন্তর্বর্তী সরকারের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, “চিঠিতে বলা হয়েছে গণভোট আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে।” নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী মনে করেন, যথাযথ প্রস্তুতি, লোকবল বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা গেলে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব। তিনি বলেন, “১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালের গণভোটের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ভোটকক্ষ বাড়ালে একইদিনে দুটি ভোট সহজেই নেওয়া যায়। ব্যালট গণনার জন্য দুটি আলাদা টিম প্রয়োজন হবে—একটি সংসদ নির্বাচনের ব্যালট গণনা করবে, অন্যটি গণভোটের ব্যালট গণনা করবে।” গণভোটের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ব্যালট পেপার ইস্যু, গণনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ট্রেনিংয়ে অতিরিক্ত সেশনে গণভোটের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। পোস্টাল ব্যালটেও দুটি ব্যালট ইস্যু করতে হবে—এটি চ্যালেঞ্জ নয়, দায়িত্বের অংশ।” ইসি জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন। আগামী ছাব্বিশ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সেদিনই গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। — জেটিভি নিউজ বাংলা

Reporter Name 




















