📰 জেটিভি নিউজ বাংলা | ডেস্ক
তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ
দলীয় নির্দেশনায় নেই কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন
দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ (বৃহস্পতিবার)। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করা তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র। জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা, ব্যানার–ফেস্টুন লাগানো বা আলোচনা সভাসহ কোনো ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলীয় নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, যেসব নেতা-কর্মী এসব আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা যেন অনুষ্ঠান না করে বরং অর্থ অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তারেক রহমানের শৈশব কাটে বিনয়ী ও সরল পরিবেশে। স্কুলজীবন শুরু করেন ঢাকা সেনানিবাসের শাহীন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে, যা সে সময় সেনা সদস্যদের সন্তানদের জন্য ইংরেজি-মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে (আইআর) পড়াশোনা করেন। শিক্ষাজীবনে সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার ও কার্ল মার্কসসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের ভাবধারায় গভীর মনোনিবেশ ছিল তার।রাজনীতিতে প্রবেশ
১৯৮০-এর দশকে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকালেই রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন তারেক রহমান। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে দলের জাতীয় প্রচারণা কৌশল কমিটিতে যুক্ত হন। তখন বেগম খালেদা জিয়ার পাঁচটি আসনে নির্বাচনি প্রচারণার সমন্বয় করেন তিনি। পাঁচ আসনেই জয় প্রমাণ করে, তারেক রহমান সংগঠন পরিচালনায় দৃঢ় যোগ্যতা রাখেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন।ওয়ান–ইলেভেনের সময় নির্যাতন
ওয়ান–ইলেভেন সরকারের সময় একাধিক মামলায় গ্রেফতার ও নির্যাতনের শিকার হন তারেক রহমান। বিএনপির অভিযোগ, প্রমাণ ছাড়াই তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছিল।দেশ সংস্কার ধারণা ও ৩১ দফা পরিকল্পনা
তারেক রহমান কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে ৩১ দফা দেশ সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যা নির্বাহী, বিচার বিভাগ ও আইনসভাসহ রাষ্ট্রের প্রধান তিন শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি এমন এক রাষ্ট্রকাঠামোর কথা বলেন যেখানে নাগরিকরা শান্তি, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির সঙ্গে মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারবেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশকে গণতান্ত্রিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।ভবিষ্যতের বাংলাদেশ—পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমান ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে জলবায়ু-সহনশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরের পাশাপাশি বিশ্ব উষ্ণায়ন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যোগ্যতা-ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মূলধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও দেশে ফেরা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া–৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেই লক্ষ্যে শিগগিরই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছেন।

Reporter Name 




















