বৃষ্টির প্রভাব কাটতেই সবজির বাজারে স্বস্তি, তবে মাছ-মাংস-ডিমের ঊর্ধ্বমূল্যে বিপাকে ক্রেতারা
ফাইল ছবিজেটিভি নিউজ বাংলা | অর্থনীতি ডেস্ক
তারিখ ঃ ৭ আগস্ট ২০২৬ ইং| সময়: বিকেল ০৪:০২ মিনিট। ঢাকা: কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে সরবরাহ সংকটের কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বাজারে সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো অব্যাহত থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বস্তি ফিরছে না। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।সবজির বাজারে দাম কমলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি
গত কয়েক সপ্তাহে কাঁচা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠলেও বর্তমানে তা ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বরবটি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৬০-৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নারিন্দা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, "বৃষ্টির সময় খেত থেকে ঠিকমতো সবজি উঠেনি। ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছিল। এখন বাজারে সবজি বেশি আসছে, তাই বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে কিছু সবজির মৌসুম না থাকায় সেগুলোর দাম এখনও বেশি রয়েছে।" ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী বেলাল হোসাইন বলেন, "আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও সব ধরনের সবজি এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি। অনেক সবজির দাম কমেছে, কিন্তু কিছু সবজি এখনো ১০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে।"ডিম, মুরগি ও মাংসে স্বস্তির দেখা নেই
সবজির বাজারে দাম কমলেও ডিম, মুরগি ও মাংসের বাজারে ঊর্ধ্বমূল্য অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় উঠেছে। সোনালি মুরগি ৩২০-৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রায় সাহেব বাজারের মুরগি বিক্রেতা মোখলেস মিয়া বলেন, "চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ব্রয়লারের দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমে আসবে।"মাছের বাজারেও বাড়তির ধারা
মাছের বাজারেও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। জীবিত পাঙাশ ২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০-৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, নদীর বেলে ও বড় আকারের সামুদ্রিক মাছ কিনতে হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। রায় সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, "আড়ত থেকেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুইয়ের দাম বেড়েছে।" ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, "ব্রয়লার মুরগি, পাঙাশ ও তেলাপিয়াই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা। এসব পণ্যের দাম বাড়লে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।"জেটিভি পর্যবেক্ষণ
রাজধানীর বাজারে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের উচ্চমূল্যের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ব্যয় এখনো কমেনি। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাজারের চাপ আগের মতোই বহাল রয়েছে। বাজারে টেকসই স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি কার্যকর বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। জেটিভি নিউজ বাংলাদেশ ও দশের কথা বলে....

ডেস্ক রিপোর্ট 


















