ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ মানিকগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক সাকিবুল হত্যা: ৭ দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের, গ্রেপ্তার ১ পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে সাজেকে আটকে প্রায় সাড়ে ৪৫০ পর্যটক, সবাই নিরাপদ কমলাপুরমুখী মেট্রোরেল: ৭৮.৫ শতাংশ কাজ শেষ, নির্ধারিত সময় নিয়ে প্রশ্ন কুকুর-বিড়াল পালনের বাড়তি প্রবণতা: ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সচেতনতার প্রয়োজন শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি ওমর ফারুক সুমনকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ আধুনিক নগর নিরাপত্তা, মাদক প্রতিরোধ ও পুলিশ প্রশিক্ষণে পাকিস্তানের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির ৪০টিরও বেশি এলাকা প্লাবিত, পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে প্রায় ৫০০ পরিবার

পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৯ জুলাই ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার সময়: রাত০৯:০০ মিনিট।

পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের যুগিকাটা গ্রামে কালীমন্দিরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনাটির পেছনে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধই মূল কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে এক মুসলিম যুবককে মারধর করে ভাঙা কালীমূর্তির অংশ গলায় ও হাতে ঝুলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং পরে সেটিকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার রূপ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধামোর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুগিকাটা গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জাকির হোসেন এবং অনিল পাল ও তার স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে কালীমন্দিরে থাকা একটি মূর্তির মাথা জাকির হোসেনের গলায় ও হাতে ঝুলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ প্রচার করা হয়। পরে "Shanto Pal" নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ঘটনাটি মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগ হিসেবে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৬ একর ৬৬ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। রাম প্রসাদ পাল ও নরেন্দ্র পালের উত্তরাধিকারীরা ১৯৭৭ সালে জমিটির নামজারি পান। পরে প্রতিবেশী লক্ষ্মীচরণ ও ধনেশ্বর ওই জমির মালিকানা দাবি করে ২০১৬ সালে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলার রায়ে অনিল পক্ষের অনুকূলে সিদ্ধান্ত এলেও পরবর্তী আপিল এখনও বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে নামজারি-সংক্রান্ত আপিলগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে খারিজ হওয়ার পর সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত লক্ষ্মীচরণের পক্ষে যায়। পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে লক্ষ্মীচরণ তার দাবি করা জমি স্থানীয় জাকির হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। ঘটনার দিন অনিল পক্ষ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে গেলে জাকির বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের তথ্যমতে, বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে অবস্থিত কালীমন্দিরটি কয়েক মাস আগে নির্মাণ করা হয়। মন্দিরটি নির্মাণ ও এর অবস্থান নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে আহত জাকির হোসেন বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত এবং একটি হাড় ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ৯টি বাড়ি ও ঘরে ভাঙচুর, আসবাবপত্র নষ্ট এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অপর পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ঘটনাটি সাজানো হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলা পুলিশ সুপার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যুগিকাটা, ডাঙ্গিরহাট বঙ্গবন্ধু কলেজ গেট এবং কালীবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সম্প্রীতি সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তি এবং বাড়িঘর ভাঙচুরে নেতৃত্বদানকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

আপডেট সময় ৬ মিনিট আগে

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৯ জুলাই ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার সময়: রাত০৯:০০ মিনিট।

পঞ্চগড়ে কালীমূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভিন্ন চিত্রের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ; গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের যুগিকাটা গ্রামে কালীমন্দিরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনাটির পেছনে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধই মূল কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে এক মুসলিম যুবককে মারধর করে ভাঙা কালীমূর্তির অংশ গলায় ও হাতে ঝুলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং পরে সেটিকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার রূপ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ধামোর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুগিকাটা গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জাকির হোসেন এবং অনিল পাল ও তার স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে কালীমন্দিরে থাকা একটি মূর্তির মাথা জাকির হোসেনের গলায় ও হাতে ঝুলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ প্রচার করা হয়। পরে "Shanto Pal" নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ঘটনাটি মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগ হিসেবে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ৬ একর ৬৬ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। রাম প্রসাদ পাল ও নরেন্দ্র পালের উত্তরাধিকারীরা ১৯৭৭ সালে জমিটির নামজারি পান। পরে প্রতিবেশী লক্ষ্মীচরণ ও ধনেশ্বর ওই জমির মালিকানা দাবি করে ২০১৬ সালে দেওয়ানি মামলা করেন। মামলার রায়ে অনিল পক্ষের অনুকূলে সিদ্ধান্ত এলেও পরবর্তী আপিল এখনও বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে নামজারি-সংক্রান্ত আপিলগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে খারিজ হওয়ার পর সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত লক্ষ্মীচরণের পক্ষে যায়। পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে লক্ষ্মীচরণ তার দাবি করা জমি স্থানীয় জাকির হোসেনের কাছে বিক্রি করেন। ঘটনার দিন অনিল পক্ষ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে গেলে জাকির বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের তথ্যমতে, বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে অবস্থিত কালীমন্দিরটি কয়েক মাস আগে নির্মাণ করা হয়। মন্দিরটি নির্মাণ ও এর অবস্থান নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে আহত জাকির হোসেন বর্তমানে ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত এবং একটি হাড় ভেঙে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ৯টি বাড়ি ও ঘরে ভাঙচুর, আসবাবপত্র নষ্ট এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অপর পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ঘটনাটি সাজানো হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলা পুলিশ সুপার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যুগিকাটা, ডাঙ্গিরহাট বঙ্গবন্ধু কলেজ গেট এবং কালীবাড়ি চৌরাস্তা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সম্প্রীতি সভার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তি এবং বাড়িঘর ভাঙচুরে নেতৃত্বদানকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উসকানিমূলক প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেটিভি নিউজ বাংলা

দেশ ও দশের কথা বলে....