ঢাকা জেলা প্রতিনিধি :
ছবি, সংগৃহীত
ঢাকা জেলার সাভার উপজেলাতে ভাঙরী ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চলছে চোরাই মালের জমজমাট বাণিজ্য। এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর। এসব ব্যবসার উপর নজরদারি নেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।
এসব ভাঙ্গারী ব্যবসার পালিত চোরেরা রাতের আঁধারে গ্যাসের রাইজার, বাসা বাড়ির বৈদ্যুতিক সার্ভিস লাইনের তার, বাড়ির পানির কল/টিউবওয়েল, টিউবওয়ের মাথা-হাতল, বাড়ির আওতার টিন, বাড়ি নির্মাণ সামগ্রী ও বাড়ির সামনে থাকা পরিত্যক্ত আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার পর থেকেই ভাঙ্গারির দোকানগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত এইসব চোরাই মাল কেটে টুকরা টুকরা করে অন্যসব সরঞ্জামের সাতে মিশিয়ে রাখা হয়। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চোরাই মালামাল বিক্রি হচ্ছে সাভার,হেমায়েতপুর ভাঙ্গারী দোকানগুলোতে।
তথ্য অসুন্ধ্যানে দেখা যায়, সাভার উপজেলা শহরের আনাচে কানাচে, ওলি-গলিতে গড়ে উঠেছে শতাধিক ভাঙ্গারী মালামাল কেনা-বেচার দোকান। এইসব ভাঙ্গারী দোকানিদের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয় আপনারা এসব মালামাল কেনার সময় কোন চুরির মাল কিনা সেটা কি জেনে কিনছেন?
সঠিক উত্তর না দিয়ে উল্টো মারমুখী আচরণ করেন সাংবাদিকের সঙ্গে।
এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিক সবকিছু ম্যানেজ করেই তারা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন বলেন অনেক ভাঙারী ব্যবসসায়ী।
বিভিন্ন এলাকা থেকে লোহার যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক মোটর, তার, দরজা-জানলার গ্রীল, টিউবওয়েল, টিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে দোকানিদের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে এলাকায় কিছু মাদকাসক্ত ও চোর চক্, এছাড়াও দোকানিদের প্রত্যেক ভাঙারী ব্যবসায়ীদের রয়েছে ৭ থেকে ১৫ জন করে হকার আর এসকল হকারেরাই মূলত তারা এলাকায় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা প্রহরী অথবা কারখানার অসাধু কর্মচারীদের সঙ্গে হাত করে শিল্প কারখানার বৈদ্যুতিক তার,ফ্যান,কাগজ পুরাতন আসবাবপত্র সহ অনেক জিনিস পত্র কিনে ভাঙরী ব্যবসাদীদের ব্যবসার যোগান দিয়ে থাকেন।
এছাড়া বাড়ি-ঘর ও বিভিন্ন কারখানা সংস্কার কাজের জন্য রাখা রড, তারসহ লোহা দ্রব্যাদি ও চুরি হয়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি মো. সামসুল আলম এর উলাইল এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৪৪০ ভোল্টের সার্ভিস লাইনের তার কেটে নেয় চোরেরা। এছাড়া ওই ব্যক্তির গত ৪ ফেব্রুয়ারি একই জায়গা থেকে আগেও সার্ভিস লাইনের তার চুরি হয়ে যায়।
ওইদিন হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ী এলাকার আরো ৫টি রাইজার চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী মোঃ জনয়ব আলী (৬৫) অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও আমার বাসার জানালা খুলে মোবাইল চুরি হয়ে যায়।
এছাড়া গত ডিসেম্বর মাসে আমার বাড়ির ২ রুমের যত লোহার জিনিষপত্র, সোফার কোষণ, বৈদ্যুতিক লাইট, ফ্যান, রান্না ঘরের চালার টিন খুলে নেয়াসহ বেশ কিছু জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এতে আমার লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী বলেন, চুরির মাল ছাড়া প্রকৃত ভাঙ্গারী ব্যবসা করা খুবই কঠিন। আর সকলকেই ম্যানেজ করেই চলে এই ভাঙ্গারী ব্যবসা। তিনি আরও জানান, একেকজন ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীর অধীনে ৫-৬ জন ফেরি ব্যবসায়ী থাকেন এবং বেশ কিছু চোরও দাদন দিয়ে লালন পালন করে থাকেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কিছু নিত্যপণ্যের বিনিময়ে ব্যবহার অনুপযোগী কিংবা পরিত্যক্ত জিনিষপত্র সংগ্রহ করে আমাদের কাছে বিক্রি করে থাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভারের হেমায়েতপুর এলাকাবাসী তিনি বলেন রাস্তার পাশে যে ভাঙারী দোকান এসব ব্যবসায় প্রসাশনের নজর না থকলে ছোট ছোট ছোট বাচ্চারাও মজা খাওয়ার জন্য পাশের বাড়ি থেকে ছোট একটা জিনিস চুরি করে এনে বিক্রি করছে আর এভাবেই ছোটকাল থেকেই চুরির শিক্ষা নিয়ে আসতেছে এসব বাচ্চারা।
তাই প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন বলে জেটিভি নিউজ বাংলাকে বলেন।

Reporter Name 




















