জেটিভি নিউজ বাংলা
তারিখ: ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার সময়: সকাল ০৮:৪১ মিনিট।“মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা এক টাকা হলেও বাড়াতে হবে”—সংসদে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান; ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
ঢাকা: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা অন্তত এক টাকা হলেও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। ফজলুর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের—বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকদের ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি জুলাই যোদ্ধাদের অসম্মান করছেন না। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য কারও ভাতার তুলনা হওয়া উচিত নয়। সংসদ সদস্য বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝবেন—মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনন্য। তাই তিনি বলেন, বেশি না হোক, অন্তত এক টাকা হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আজ যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয় দেন, তাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদার প্রশ্নে আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্য
সংসদে বক্তব্যে দেশে ধর্মীয় উসকানি ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতিরও সমালোচনা করেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজনের রাজনীতি করছে। পোশাক দেখেই তাদের চেনা যায়। তারা সভ্যতা-সংস্কৃতির কথা শুনতে চায় না, শুধু ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায়। তিনি বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ে ‘এটা চাই না, ওটা চাই না’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট রাম মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে ‘রাম মন্দির চাই না, হিন্দুরা দেশ ছেড়ে চলে যাও’—এ ধরনের স্লোগানও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি সরকার মনে করে সেখানে মন্দির বা রামমূর্তি নির্মাণ ঠিক নয়, তাহলে আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে তা বন্ধ করতে পারে। তবে ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০০ ফুট নয়, ৩০০ ফুট মূর্তি হলেও একজন মুসলমান হিসেবে তার তাতে আপত্তি নেই। তিনি বলেন, তিনি নিজে প্রয়োজন হলে ২৫ তলা মসজিদ নির্মাণ করবেন। হিন্দুরা মন্দিরে পূজা করবে, মুসলমানরা মসজিদে নামাজ পড়বে—এতে সমস্যার কিছু দেখেন না। তিনি বলেন, এই দেশের হিন্দুরাও বাংলাদেশের নাগরিক। তাদেরও এই দেশে থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সবাইকে মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।সুফি ঐতিহ্য ও মাজার প্রসঙ্গ
বাংলার ইতিহাস ও সুফি ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে ফজলুর রহমান বলেন, হজরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী, খাজা নিজামুদ্দিন, শাহজালাল, শাহপরান, বায়েজিদ বোস্তামী এবং খান জাহান আলীসহ অলি-আউলিয়ারা মানবতার বাণী নিয়ে এই অঞ্চলে এসেছিলেন। তাদের শিক্ষা ছিল—সবার উপরে মানুষ সত্য। তিনি অভিযোগ করেন, কেউ কেউ সেই সুফি ধারাকেও মানতে চায় না। তারা মাজার ভাঙতে চায়, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে চায়। তিনি বলেন, তিনি মাওলানা-মৌলভীদের শ্রদ্ধা করেন। তবে পীর সাহেবদের দোষ কী—সেই প্রশ্নও তোলেন। কুষ্টিয়ায় কুপিয়ে হত্যা, ফরিদপুরে অগ্নিসংযোগ এবং শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য পুরস্কার ঘোষণার ঘটনাগুলোরও সমালোচনা করেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, দেশে মাজার থাকবে। কেউ চাইলে সেখানে যাবে, কেউ না চাইলে যাবে না। কেউ আহলে হাদিসের অনুসারী হলে তা করতে পারেন, তবে অন্যের বিশ্বাস ও সাংবিধানিক অধিকার অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জেটিভি নিউজ বাংলাদেশ ও দশের কথা বলে.....

ডেস্ক রিপোর্ট 






















