ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬ যুদ্ধবিরতি কাগজে-কলমে, যুদ্ধ চলছে মাঠে: আন্তর্জাতিক আইন কি ব্যর্থ? ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন উপসর্গ শনাক্ত ১ হাজার ৩২ জনের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব, নতুন বাজেটে অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর বড় পরিকল্পনা বাংলাদেশ–তুরস্ক সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা ও আইসিটি খাতে যৌথ কাজের ঘোষণা পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হলো ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ বাস, নেই কোনো প্রাণহানির খবর প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে অসুস্থতা বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক নভেল ‘পার্সেপোলিস’-এর স্রষ্টা মারজান সাত্রাপি আর নেই ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

মায়ের পরিচয় প্রথমে অস্বীকার, পরে স্বীকার; নুরজাহান বেগমের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩ জুন ২০২৬ ইং, সময়: রাত ০৯:৪৬ মিনিট

মায়ের পরিচয় প্রথমে অস্বীকার, পরে স্বীকার; নুরজাহান বেগমের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

রাজধানীর মিরপুরে একা বাসায় থাকা ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের মা হয়েও কেন এমন করুণ পরিণতি হলো, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনাকে ঘিরে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। বুধবার (৩ জুন) সাংবাদিকদের মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, সরকারের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান প্রথমে নুরজাহান বেগমকে নিজের মা হিসেবে অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আনিসুর রহমান প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, নুরজাহান বেগম তার মা।”

যেভাবে উদ্ধার করা হয় মরদেহ

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাসাতেই থাকতেন। তিনি যে কক্ষে অবস্থান করতেন সেটি ছিল অস্বাস্থ্যকর ও অগোছালো। দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ পড়ে থাকায় সেখানে পচন ধরে এবং পোকা পড়ে যায়। বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

কারা এই সন্তানরা

নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনা আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ তার সন্তানদের সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়। বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান সরকারের একজন যুগ্ম সচিব। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষিকা। ছোট ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। স্থানীয়দের দাবি, দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সঙ্গে আলাদা থাকতেন এবং নিয়মিত যোগাযোগও ছিল না।

পদ হারালেন আনিসুর রহমান

ঘটনার পর ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে।

সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারের সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও একজন মায়ের এমন নিঃসঙ্গ মৃত্যু সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, “অনেকেই ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত উন্নতির পেছনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন যে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গাটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। স্বার্থ, পদোন্নতি, ক্যারিয়ার এবং করপোরেট সংস্কৃতির প্রভাবে মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।” তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ কার্যকরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

হাইকোর্টে রিট

নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। রিটে ৭৫ বছর বয়সী এই নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটের পক্ষে আইনগত সহায়তা দিচ্ছেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। নুরজাহান বেগমের মৃত্যু ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসার পাশাপাশি বিষয়টি এখন প্রশাসনিক, সামাজিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....

ট্যাগস

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে ছাত্রদল-আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষ, মোটরসাইকেল ও কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ; আহত অন্তত ৬

মায়ের পরিচয় প্রথমে অস্বীকার, পরে স্বীকার; নুরজাহান বেগমের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

আপডেট সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

জেটিভি নিউজ বাংলা

তারিখ: ৩ জুন ২০২৬ ইং, সময়: রাত ০৯:৪৬ মিনিট

মায়ের পরিচয় প্রথমে অস্বীকার, পরে স্বীকার; নুরজাহান বেগমের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

রাজধানীর মিরপুরে একা বাসায় থাকা ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের মা হয়েও কেন এমন করুণ পরিণতি হলো, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনাকে ঘিরে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। বুধবার (৩ জুন) সাংবাদিকদের মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, সরকারের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান প্রথমে নুরজাহান বেগমকে নিজের মা হিসেবে অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আনিসুর রহমান প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, নুরজাহান বেগম তার মা।”

যেভাবে উদ্ধার করা হয় মরদেহ

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাসাতেই থাকতেন। তিনি যে কক্ষে অবস্থান করতেন সেটি ছিল অস্বাস্থ্যকর ও অগোছালো। দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ পড়ে থাকায় সেখানে পচন ধরে এবং পোকা পড়ে যায়। বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

কারা এই সন্তানরা

নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনা আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ তার সন্তানদের সামাজিক ও পেশাগত পরিচয়। বড় ছেলে ড. এ কে এম আনিসুর রহমান সরকারের একজন যুগ্ম সচিব। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। তিনি কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। মেয়ে ফাতিমা নাসরিন সুলতানা রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি স্কুলের শিক্ষিকা। ছোট ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডায় বসবাস করছেন। স্থানীয়দের দাবি, দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মায়ের সঙ্গে আলাদা থাকতেন এবং নিয়মিত যোগাযোগও ছিল না।

পদ হারালেন আনিসুর রহমান

ঘটনার পর ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে।

সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারের সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও একজন মায়ের এমন নিঃসঙ্গ মৃত্যু সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, “অনেকেই ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত উন্নতির পেছনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন যে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গাটি দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। স্বার্থ, পদোন্নতি, ক্যারিয়ার এবং করপোরেট সংস্কৃতির প্রভাবে মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।” তিনি মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ কার্যকরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

হাইকোর্টে রিট

নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। রিটে ৭৫ বছর বয়সী এই নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটের পক্ষে আইনগত সহায়তা দিচ্ছেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী। নুরজাহান বেগমের মৃত্যু ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসার পাশাপাশি বিষয়টি এখন প্রশাসনিক, সামাজিক ও আইনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।    

জেটিভি নিউজ বাংলা

সত্য প্রকাশে অঙ্গিকারবদ্ধ.....